প্রয়াত কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম গণতন্ত্রের একজন সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সিরাজুল ইসলাম ছিলেন আপসহীন। তার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রচিন্তার মূল জায়গাজুড়ে ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি দৃঢ় অবস্থান।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক বাংলাদেশ এমপাওয়ার্ড কনফারেন্সে প্রয়াত রাষ্ট্রদূতের লেখা সংকলন ‘রিক্লেইমিং বাংলাদেশ: ডেমোক্রেসি, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড নেশন বিল্ডিং’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনা ও একই হলে থাকার স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সিরাজুল ইসলাম ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। নিজের বিশ্বাস ও মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি কখনো ভয় বা দ্বিধায় ভুগতেন না।
তার লেখার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার লেখায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তিনি নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। তার প্রতিটি লেখাই ছিল তীক্ষ্ণ ও স্পষ্ট।
রাজনৈতিক সংকটের একটি কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি নিজেসহ দেশের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা যখন কারাগারে ছিলেন, তখন সিরাজুল ইসলাম বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের মানুষের সংগ্রামের কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার দায়িত্বও পালন করেন। কঠিন সেই দায়িত্ব তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও গবেষকদের জন্য বইটিতে সংকলিত রাষ্ট্রচিন্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক লেখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রকাশিত বইটিতে সিরাজুল ইসলামের গণতন্ত্র, সুশাসন, রাষ্ট্র নির্মাণ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নির্বাচিত বিভিন্ন লেখা স্থান পেয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও এসব লেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
সম্মেলনে স্কলারশিপ প্রদান এবং একটি বিশেষ একাডেমিক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়।
‘বাংলাদেশ এমপাওয়ার্ড, ইনক’ ও ‘দ্য ঢাকা ফোরাম’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









