কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করা হবে। এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এ বিষয়ে একাধিক আলোচনা ও পরামর্শ সভা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমন্বয়ের জন্য সরাসরি কাজ করার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে। স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া কারিগরি দক্ষতা তৈরি, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ থাকবে। দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও সরাসরি যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা থেকে বাদ না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের পাঁচ বছরব্যাপী কৌশলগত কাঠামো, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে আলোচনা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও টেকসইভাবে নাগরিক সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরদার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রথম বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ সাতটির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কঠোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনেরা একসঙ্গে কাজ করছেন।
দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের পাশাপাশি জ্বালানি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মধ্যমেয়াদে এ সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব হবে।
কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথাও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নয়, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দক্ষ কর্মী ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ এবং অভিন্ন পোশাক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহরের উন্নত বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া শিক্ষার সুবিধা গ্রামের স্কুলেও পৌঁছে দিতে শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে শহর-গ্রামের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মাহদী আমিন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









