রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

আনন্দ-উৎকণ্ঠার ভোট আজ

দেড় যুগ পর নতুন সকাল

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০১ পিএম

আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০১ পিএম

দেড় যুগ পর নতুন সকাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ। ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের রায়ে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশ। একই সাথে ভোটাররা দেবেন ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের ঐতিহাসিক রায়। এই নির্বাচন ও ঐতিহাসিক জাতীয় গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি জনপদে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। দীর্ঘ দেড়যুগ পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলাদেশ। 

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ঈদ আনন্দ বইছে। এই ভোটে মোট ১২,৭৬,৯৫,১৮৩ জন (পুরুষ ৬.৪৮ কোটি, নারী ৬.২৮ কোটি) ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে এবারের নির্বাচন অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও তাদের কর্মী ও ভোটার রয়েছে। এমনও হতে পারে এই নির্বাচনে দলটির সমর্থক কিছু ভোটার ভোট দিতে পারেন।

সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ঐতিহাসিক ভোটকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য বড় শহরগুলোর কেন্দ্রে কেন্দ্রে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই যাবতীয় সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরের দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাতের মধ্যেই নির্বাচনি উপকরণ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ হয় বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ‍ু নির্বাচনের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে কমিশন অবাধ সুষ্ঠ‍ু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার সহযোগিতায় আগামীকালের নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ‍ু ও নিরপেক্ষ হবে। এতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের মাধ্যমে ভোটের আসল বিষয়গুলো উঠে আসবে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। যদিও কারিগরি কারণে সব কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট হিসাব দেয়া সম্ভব হয়নি, তবে সিসিটিভি ক্যামেরার এই ব্যাপক উপস্থিতি ভোট কারচুপি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে কমিশন আশাবাদী। উল্লেখ্য, ৩০০টি আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে একটি আসনের ভোট বর্তমানে স্থগিত থাকলেও বাকি ২৯৯টি আসনে ব্যালট যুদ্ধের যাবতীয় প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপারে তাঁদের রায় প্রদান করবেন। এর মধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করা হবে সাদা রঙের ব্যালট এবং জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি রঙের ব্যালট। এই দ্বৈত নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন ইতিমধ্যে তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। সারাদেশে ১২ কোটিরও বেশি ভোটার এই ব্যালট বিপ্লবে অংশ নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটাররা যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণের এই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর টহলে পুরো দেশে এক নতুন রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে। সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন এখন চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এ নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিয়ে মাঠে থাকবেন প্রায় ৯ লাখ সদস্য। এর মধ্যে মূল দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দায়িত্ব পালন করবেন ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য। এছাড়া ৫ জেলার ১৭টি আসনে বিশেষ নজরদারিতে থাকবেন ৫ হাজার নৌবাহিনী ও ৩ হাজার ৫০০ বিমানবাহিনীর সদস্য। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কারচুপি ও সহিংসতা ঠেকাতে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য বডিওর্ন ক্যামেরা পরে দায়িত্ব পালন করবেন। 

পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারিতে থাকবে ৫০০-এর বেশি ড্রোন। এ ছাড়া নির্বাচনি অপরাধ প্রতিরোধ ও তাৎক্ষণিক বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে মোট ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৭৭০টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে ভোট একদিকে উৎসবের প্রতীক হলেও; অন্যদিকে সহিংসতা, সংঘাত ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগও রয়েছে। গত ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৪টিতে শেষ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। বাকি ৮টিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমালোচনার মুখে পড়ে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে আমরা এত বড় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছি। এবারের নির্বাচনের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তারপরও আরও ভালো নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিচ্ছে। 

ইসি জানিয়েছে, কেবল বাহিনী মোতায়েনই নয়, যেকোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসও। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট আসন সংখ্যা ২৯৯টি। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন- মোট ৮৩ জন। দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৫ জন— দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন। ভোটার সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দিনশেষে সম্মিলিত চেষ্টায় একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান এদিন-কে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর পর মানুষের যে ভোটাধিকারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এই নির্বাচনে তা পূরণের শেষ সুযোগ। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একমাত্র পথ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। অনলাইন, অফলাইনে নির্বাচন নিয়ে আড্ডা, তর্ক, আলোচনায় যেমন তরুণরা স্বতঃস্ফ‍ূর্ত অংশ নিচ্ছেন, তেমনি প্রার্থী হয়েও লড়ছেন বেশ কয়েকজন তরুণ রাজনীতিবিদ। ভোট নিয়ে প্রত্যেক তরুণের মধ্যেই রোমাঞ্চ। কেননা, যে নির্বাচন এতদিন ‘বড়দের বিষয়’ ছিল, এবার তাঁরা নিজেরাও সেটির অংশ। তা ছাড়া ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। অভ্যুত্থানে যেহেতু তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণই ছিল বেশি, তাই এবারের নির্বাচনের দিকে নজর রাখছেন তাঁরা। প্রায় সবার বক্তব্যেই একটি শব্দ উঠে এসেছে দায়িত্ববোধের কথা। ভোটকে তাঁরা শুধু নিজের মতপ্রকাশের সুযোগ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে ভেবেচিন্তে, সবদিক বিবেচনা করে। তরুণদের প্রত্যাশা নির্বাচিত সরকার এলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তরুণ ভোটাররা অধিকাংশই বলছেন, দ্রুতই পরিবর্তন আসবে এমনটা তাঁদের মনে হয় না। আর পরিবর্তন শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে না, পরিবর্তন আনতে হলে সারাদেশের মানুষকেই উদ্যোগী হতে হবে। তাহলেই কেবল পরিবর্তন সম্ভব।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এদিন-কে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সব প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে কেবল ভোটের অপেক্ষা।  এখানে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ভোটারের যথাযথ পরিচয় যাচাইয়ের পরই ব্যালট পেপার ইস্যু করা হয়েছে এবং নির্ধারিত বিধি অনুসারে গোপন কক্ষে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। কোনো নির্বাচনি বিরোধ দেখা দিলে তা প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। এ ছাড়া স্বচ্ছতা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অন্যতম ভিত্তি। প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও কভার করছেন।

এ বিষয় লেখক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহিউদ্দিন আহমদ এদিন-কে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন একটি গভীর সামাজিক রূপান্তর ছিল। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সূর্যের উদয় হবে। তবে আগামী দিনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আমি আশা করছি আগামীতে তরুণদের নেতৃত্বে অনিয়ম দূর হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের ভোটেও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে গত সোমবার রাত থেকেই গণপরিবহনগুলোতে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ ভিড় বেড়েছে। সরকার ও ইসির কর্তারা ইতোমধ্যে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন। ভোটের দিন বৃহস্পতিবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইসি। পাশাপাশি গতকাল বুধবার নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫০ হাজারের বেশি দেশীয় পর্যবেক্ষকের সঙ্গে ২৩ দেশ ও সাত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তারা সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি, ইসি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। 

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ‍ু নির্বাচনের নানা প্রতিশ্রুতি সরকার এবং ইসির পক্ষ থেকে দেয়া হলেও ইতোমধ্যে নির্বাচনী সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তফশিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে পাঁচজন ও বেসরকারি হিসাবে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের অভিযোগ জমা পড়েছে ইসিতে। যদিও এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারে বিএনপির বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত বলে শুরুতে মনে করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সংস্থার পক্ষ থেকে জরিপ চালানো হয়েছে। তবে ২০ দিনের টানা নির্বাচনী প্রচার শেষে প্রায় অর্ধেক আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। অর্ধশতাধিক আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিতরাও বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে এসব জরিপে উঠে এসেছে। প্রচার শুরুর আগে-পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ৪৬১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছিল ইসি। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় সরাসরি মামলা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা। 

এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে এবার মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের ভেতরে ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯১৬ জন প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৬ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯টি প্রবাসী এবং ৩ লাখ ১০ হাজার ১৫৪টি দেশের ভোটারদের ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন। তবে ভোট গ্রহণের শেষ সময় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে না পৌঁছলে তা গণনায় আসবে না বলে জানিয়েছে ইসি।  

নির্বাচনে ভোটারের নানা তথ্য জানাতে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপসহ চারটি পদ্ধতির কথা বলেছে ইসি।

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.