বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পাশাপাশি পরিবর্তিত বিশ্বের উপযোগী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, দেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বাজেট বিএনপি সরকারই বাস্তবায়ন করেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসির বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, অর্থের কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে শিক্ষারও অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা সম্পর্কে শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তুলে ধরতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ টেকসই করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় অর্থায়ন এবং গবেষণার ফল বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে।
গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সরাসরি কাজে লাগে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী।
দুই দিনের এই সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন উপাচার্য ছাড়াও নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









