আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার আরও ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বরখাস্ত হওয়া ছয় কর্মকর্তার মধ্যে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুল, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম।
কোন কর্মকর্তা কী সাজা পেয়েছেন
শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম: বর্তমানে সিলেটের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এর আগে ডিএমপির রমনা জোনে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তার চাকরি থেকে বরখাস্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ ইমরুল: বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ এপিবিএনে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ডিএমপির রমনা জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। প্রজ্ঞাপনে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তার বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে।
সৈয়দ নুরুল ইসলাম: রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা এই কর্মকর্তা এর আগে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান: বর্তমানে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। এর আগে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। প্রজ্ঞাপনে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মো. আব্দুল্লাহিল কাফি: ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলাম: বর্তমানে কক্সবাজারের ১৬ এপিবিএনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তার বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় কর্মকর্তাই বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি থেকে বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









