প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়োগের সঙ্গে সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘‘তিনি (জাইমা রহমান) নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে পি-৩ পজিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই পদের জন্য পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় এবং তার প্রোফাইলের সঙ্গে সেটি মিলে গেছে। সুতরাং নিজ যোগ্যতা ও মেধায় একজন মানুষ জাতিসংঘে তার মতো করে প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা তার নিজের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের বিষয়। এর সঙ্গে সরকারের ন্যূনতম কোথাও কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘বরং আমরা দেখেছি, পূর্ববর্তী যে ধারা ছিল, সেখানে হয়তো কেউ রাজনৈতিক কারণে জাতিসংঘে পারিবারিক প্রভাব সৃষ্টি করতে চাইতেন।’’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘‘জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং স্বনির্ভর, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশের জন্য বর্তমান সরকারের নীতি তুলে ধরেছেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অবদানও তুলে ধরেছেন।’’
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব বিশ্ব নেতাদের কাছে সমাদৃত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান তৈরি করেছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বিশ্ব দরবারে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে এবং জনকল্যাণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও নীতি তুলে ধরেছেন।’’
একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা কী হতে পারে, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মাহদী আমিন।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘‘খুব কঠিন একটা সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। অবশ্যই গ্যাস বা জ্বালানি তেলের দাম, বিদ্যুতের দাম বাংলাদেশে বেড়েছে। কিন্তু শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই বেড়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম এখনও যথেষ্ট কম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন দেশ ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও যতটা সম্ভব দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’’
মাহদী আমিন বলেন, ‘‘জনগণের কষ্ট যাতে যতটা সম্ভব কম হয়, সে বিষয়ে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করার প্রয়োজন হলে সরকারের উদ্যোগও চলমান থাকবে।’’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









