পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, সরকার তিস্তা প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি মূল্যায়নে কাজ করছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য তিস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে নদীভাঙন ও বন্যা তিস্তার চ্যালেঞ্জ। আগামী বছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ আরম্ভের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘রিথিংকিং ওয়াটার ফিচারস : ইয়ুথ লিডারশীপ, জাস্টিস অ্যান্ড কোঅপারেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিকে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং যুবসমাজকে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পানির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পানি কূটনীতি, অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রজন্মগত ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক বদ্বীপ এবং নিম্ন অববাহিকার দেশ। বাংলাদেশের ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে আমাদের সংযুক্ত করেছে। ফলে, অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য কোনো বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট— দুই ধরনের চ্যালেঞ্জই মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও খরা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠছে। তাই প্রচলিত পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পানি কূটনীতি ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে হবে।’’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শুধু পানির পরিমাণ নয়, এর সঙ্গে পানি প্রবাহের সময়, পরিবর্তনশীলতা, বন্যা ব্যবস্থাপনা, পলি, নদীর প্রতিবেশ এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবিকাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।’’ গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে যথাসময়ে গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি নবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









