ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টির ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৪৬ ভোট।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়। এর আগে সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৫ শতাংশের ফল প্রকাশ হয়েছে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
ভোটগ্রহণের দিন নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। অন্যদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
নির্বাচনের দিন একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ বিতরণ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্বে ছিলেন বিজিবির ২১ প্লাটুন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ২৫১ সদস্য, পুলিশের ২ হাজার ২৭২ সদস্য এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪৬৫ সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি।
ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করার পাশাপাশি এজেন্টদেরও বিষয়টি বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৬ বছর বয়সীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং নিবন্ধিতদের কার্ড দেওয়া হয়। এমন কার্ড নিয়ে কয়েকজন কেন্দ্রে গেলেও ভোটার না হওয়ায় তারা ভোট দিতে পারেননি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে ভোটগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









