ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ বাপ্তা রতন মাহাজন বাড়ির আঙিনায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ২৫৯তম কবি গানের আসর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পাল্টাপাল্টি যুক্তি, তর্ক আর গানে-গানে দুই কবিয়ালের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে কবিগান শুরু হয়।
গানের আসর হারমনিয়াম, ঢোল, বাঁশি, কাশা ও বেহালাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত-শত দর্শক এ গান উপভোগ করেন।
রতন মাহাজন বাড়ির লোকজন মাহাজনের বাড়ির উঠোনে ৩ দিনব্যাপী এ গানের আসরে আয়োজন করেন। এ আসর শেষ হবে আগামী শনিবার।
এবারের আসরে পালা গান পরিবেশন করছেন পিরোজপুর নাজিরপুর এর কবিয়াল রতন সরকার ও গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া গ্রামের নরত্তম সরকার।
এক সময়ের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কবি, জারি, সারি আর পালাগানের মাঝে বাঙালি তার প্রাণের আনন্দ খুঁজে পেত। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় বিলুপ্তির পথে এসব জনপ্রিয় গান। তাই বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ভোলায় আজও আয়োজন করা হচ্ছে কবিগানের আসর।
আর এমন লোকজ উৎসবে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধসহ প্রায় হাজারো শ্রোতা-দর্শক। আগামী শনিবার শেষ দিন লোকসমাগম আরও বাড়বে বলে আয়োজকরা জানান।
এ গানের আসরকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলাও। আড়াইশ বছরের বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীপূজার পর স্থানীয় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে এ কবিগানের আয়োজন করেন। তাদের আয়োজন করা কবিগানের মাধ্যমে বাঙালির লোকসংস্কৃতি বিকাশ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজক কপিল দে।
মাহাজন বাড়ির কবি গানের আয়োজকদের মধ্যে একজন অপু জানান, প্রতিবছর মাহাজন বাড়ির কবি গানের আসরে আমাদের আত্মীয়স্বজন ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই কবি গানের আসরে ছুটে আসেন। এমনকি আমাদের আশেপাশের হিন্দু মুসলিম সবাই কবি গান শুনেতে আসেন। এটা যেমন মাহাজন বাড়ির ঐতিহ্য তেমনি করে গ্রামীণ সংস্কৃতি চর্চার বাহক। আমরা আশা করি সরকার গ্রামীন এই সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য এগিয়ে আসবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









