সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ভোটের ‘মূল্য’ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

ভোটের ‘মূল্য’ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ফের খুলছেন তারা। কোথাও কোথাও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে বা ‘আশকারায়’এসব অফিস খোলা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের পর জয়ী দল হিসেবে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা নমনীয় ভাব দেখা যাচ্ছে। তারা মনে করছেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগের অফিস খুলে কিংবা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর পেছনে কাজ করছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে ভোট দিলে রাজনীতিতে আওয়ামী কর্মী-সমর্থকদের কোনো সমস্যা থাকবে না বলে আশ্বাসও পেয়েছেন অনেকে। ফলে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ অফিস খুলে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে তারা যে ভোট দিয়েছিল তার মূল্য বুঝে নিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এসব ঘটনায় গতকাল পুলিশ প্রধান (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের অফিস খোলার পেছনে বিএনপির ‘আশকারা বা কোনো ‘অদৃশ্য চুক্তি’র গুঞ্জন সাম্প্রতিক দিনগুলোয় বেশ জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয়ের পর তৃণমূল পর্যায়ে কিছু ঘটনায় এ সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। 
রাজনৈতিক মহলে একটি ধারণা প্রচলিত হয়েছে, দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের একটি ‘ক্লিন ইমেজ’বা অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিত অংশকে রাজনীতিতে স্পেস দিতে চায়। এর পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। সাম্প্রতিক জরিপ ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের ভোটার বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। এই ভোটব্যাংক ধরে রাখতে তৃণমূলের নেতাকর্মীর প্রতি নমনীয়তা দেখানোর একটি কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 
তারা বলছেন, কট্টরপন্থী দলগুলোর (যেমন জামায়াত) উত্থান ঠেকাতে একটি দুর্বল কিন্তু সক্রিয় আওয়ামী লীগকে মাঠে রাখা বিএনপির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হতে পারে। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগ কর্মীদের অভয় দিচ্ছেন বা তাদের ওপর হামলা ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার, নাকি কোনো ‘গোপন সমঝোতা’, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোনো আনুষ্ঠানিক বা দালিলিক ‘চুক্তি’র প্রমাণ না থাকলেও, তৃণমূলের কিছু নেতার কৌশলগত নমনীয়তা এবং সাধারণ কর্মীদের শান্ত রাখার নীতি আওয়ামী লীগকে আবার সংগঠিত হওয়ার পরোক্ষ সুযোগ করে দিচ্ছে যা সাধারণ জনগণের চোখে ‘অদৃশ্য চুক্তি’ হিসেবে ধরা দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এদিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ মানে শুধু একটি দলীয় কাঠামো নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক শক্তির সাথেও যুক্ত। আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংককে (প্রায় ২০-৩০%) যদি বিএনপি সরাসরি শত্রু বানিয়ে ফেলে, তবে সেই ভোটগুলো জামায়াত বা অন্য কোনো শক্তির দিকে চলে যেতে পারে। তাই বিএনপি ‘অদৃশ্য সমঝোতার’মাধ্যমে এই এই ভোটগুলো তাদের পক্ষে নিতে সক্ষম হয়েছে।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক তারা তো নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু আপস, সমঝোতা হয়েছে। সেটার ফলাফল হিসেবেই এখন কার্যালয় খোলার ঘটনাগুলো ঘটছে। তবে তিনি মনে করেন, এসব ঘটনার কোনো প্রভাব সহসা জাতীয় রাজনীতিতে পড়বে না।

এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করে বা বিতর্কিত কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ না করা হয়।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে এর মানে এই নয় যে, অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা বিগত ১৫ বছর জুলুম করেছে, তাদের বিচার হবেই। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে আইনগতভাবে নিয়ন্ত্রিত, তাই তাদের পুনর্বাসনের কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে সাধারণ কর্মী যারা কোনো অপরাধে জড়িত নয়, তাদের ওপর অন্যায় কোনো আক্রমণ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলেছেন দলটির কর্মীরা। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের ফটকের সামনে জাতীয় পতাকা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রেখে স্লোগান দেন যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রী। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংগঠনের ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এ ছাড়া সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, রাজশাহী ও যশোরের বাঘাইছড়িতেও আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো এবং ব্যানার  ঝোলানোর ঘটনা ঘটেছে।  
২০২৪-এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। তাদের রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো ভাঙচুর করে তালা দেয়া হয়। পরে প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকে মূলত গা ঢাকা দিয়েই চলছিলেন দলটির নেতাকর্মী। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির ভোটব্যাংক ফের আলোচনায় আসে। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই আওয়ামী লীগের ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য অনেক ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এতে দলটিও ফের প্রাসঙ্গিকতা পায়। নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম উত্তরের জেলা পঞ্চগড় সদরের চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়ার খবর আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তালা খুলে দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান। ওই ভিডিওতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট বলেন, বিএনপি বিপুল আসনে সারা বাংলাদেশে সরকার গঠনের পথে, পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি আবু দাউদ প্রধান প্রথমেই যে কাজটি করেছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের যে সংগঠন, আমাদের চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজকে তালামুক্ত-অবমুক্ত করেছেন। এ ঘটনা অনলাইনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

১৫ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা স্লোগান দেন আওয়ামী লীগকে কথা দিলাম, পার্টি অফিস দখল নিলাম। তারা কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ঢুকে পড়েন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার ওইদিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২-সহ আমাদের স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করতে। ওইদিনই সকালে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা কার্যালয়ও খোলা হয়। অফিস খোলার পর সেখানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করেন। একইদিন বিকালে খুলনা মহানগরীর শঙ্খ মার্কেটে আওয়ামী লীগ অফিস খুলে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করেন। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন। এরপর তারা তালা লাগিয়ে চলে যান।  

১৮ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরের পালং বাজারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী। এ সময় তারা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙান । তবে তাদের মুখ মাস্ক ও হেলমেট দিয়ে ঢাকা ছিল। একই দিন সকালে ছাত্রলীগের ৩০-৩৫ জন নেতা-কর্মী তালা ভেঙে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢোকেন। এরপর 'জয় বাংলা'সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কার্যালয়টিতে ব্যানার টাঙিয়ে সটকে পড়েন।  নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেলগেট এলাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান দেন কয়েকজন। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে লাগানো হয়েছে দলীয় পরিচিতি ফলক। এর আগে দলটির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর কার্যালয়ে পরিচিত ফলক লাগানো হয়েছিল।  

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার পেছনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সবুজ সংকেত রয়েছে। নাহিদ বলেন, বিএনপির কাছ থেকে গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া আওয়ামী লীগ এটা করার সুযোগ বা সাহস পেত না।'

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা বা চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না। বরং তারা মনে করছেন, এটি একটি অপপ্রচার যা বিএনপির জনপ্রিয়তায় আঘাত হানার জন্য চালানো হচ্ছে। তবে তারা এও বলছেন যে, তারা দেশে একটি ‘সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ’চান যেখানে কোনো দলই যেন প্রতিহিংসার শিকার না হয়, কিন্তু তা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের জন্য নয়। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু নেতা অতি-উৎসাহী হয়ে বা ব্যক্তিগত কারণে এমনটা করে থাকতে পারেন, যা দলের নীতিমালার বাইরে। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম বা অফিস খোলার সমর্থন দিচ্ছে না। বরং যেখানেই অফিস খোলা হচ্ছে, সেখানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে তারা আহ্বান জানাচ্ছেন।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.