স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যেহেতু আইনগতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই যেখানেই এমন তৎপরতা দেখা যাবে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমরা এমন কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস খোলার খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের ত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। ভবিষ্যতে যখনই গণতন্ত্রের সংগ্রামের ইতিহাস লেখা হবে, সেখানে আপনাদের এই অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। নয়াপল্টন কার্যালয়কে তিনি গণতন্ত্র উত্তরণের সূতিকাগার হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম পথিকৃৎ। ৮৯-এর গণআন্দোলন থেকে শুরু করে ৯১-এর সরকার গঠন এবং পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলনে তার আপসহীন নেতৃত্ব আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এই কার্যালয়ের সামনে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাগুলোই জনগণকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে শক্তি জুগিয়েছিল। তিনি মরহুমা নেত্রীর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখন এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি আমাদের তরুণ নেতা, দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশের মানুষের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তার কর্মপদ্ধতি প্রমাণ করে যে, তিনি দেশ পুনর্গঠনে কতটা নিবেদিত। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে সরকার সফল হবে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ও মেয়াদের বিষয়গুলো সমন্বয় করে সঠিক সময়েই নির্বাচন দেওয়া হবে। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে মূল যোগ্যতা হিসেবে দেখা হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস খোলার খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেহেতু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই যেখানেই এমন তৎপরতা দেখা যাবে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমরা এমন কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না।
সবশেষে দেশবাসীকে জাতীয়তাবাদী দলের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে এবং একটি জরুরি মিটিংয়ের কারণ দেখিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









