স্পন্দন জেগেছে প্রাণের বইমেলায়। গতকাল ছিল প্রকাশকদের স্বস্তির দিন। ছুটির দিনে প্রাণের বইমেলা ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রূপ। প্রকাশকদের কপালে হতাশার ভাঁজ মুছে দিয়েছে বই বিক্রির চিত্র। বইকর্মীদের মুখে হাসির উজ্জ্বল আভা। প্রাণের উচ্ছাসে আর বইয়ের বিকিকিনিতে একুশের বইমেলা তার চিরচেনা রূপে ফিরে যাবে প্রকাশকদের এমন প্রত্যাশার প্রাপ্তি ঘটেছে। দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় আর স্টলে স্টলে বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ততায় হাসি ফুটে উঠেছে প্রকাশকদের ঠোঁটের কোনে। যেন এমন দিনের অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন প্রকাশকরা। ছুটির দিনের মেলা প্রকাশকদের হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে মেলাকে আলোর পথে এগিয়ে নিয়েছে একধাপ।
আর এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে এবারের মেলা সফলতার দিকে ধাবিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন প্রকাশকরা। এদিন ছিলো মেলার দ্বিতীয় শুক্রবার ও তৃতীয় শিশুপ্রহর। ছুটির দিনের মেলার সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি এদিন মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচন করা হয় সকাল ১১টায়। আর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছিলো শিশুপ্রহর। খুদে পাঠকদের কলকাকলি ও দূরন্তপনায় মুখর থাকে শিশুপ্রহর। মেলার শিশুতোষ চত্বরে কথা হয়শিশুতোষ বইয়ের প্রকাশক আরো প্রকাশন এর স্বত্তাধিকারী আলমগীর মমল্লিকের সঙ্গে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতার যুগে শিশুরা যে বই পড়ছে এটাই আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়। কার্টুন, কমিকস,ভূতপেত্নীর বইয়ের প্রতি শিশুদের আগ্রহ আমাকে বিস্মিত করেছে।
শিশুতোষ বইয়ের প্রকাশক বাবুই এর স্বত্তাধিকারী কাদের বাবু বলেন, সকাল থেকে একেবারে বিকাল পর্যন্ত শিশুদের বই অনেক বেশি বিক্রি করেছি। বলতে পারেন শিশুরাই আজকের মেলাকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়েছে। এবারের মেলা নিয়ে আমরা যতটা হতাশ হয়েছি আশা করছি ততটা খারাপ হবে না।এদিকে, সন্ধ্যার পরে কথা হয় শিকড় প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী মিজানুর রহমান সরদার মিলনের সঙ্গে।
মেলার পরিবেশ ও সফলতা ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সফলতা ব্যর্থতার হিসাব করার মতো সময় এখনো আসেনি। তবে, আজকে (গতকাল) দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও বই বিক্রির অবস্থা পর্যালোচনা করে বলতে পারি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে এবারের মেলা সফলতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশিই বিক্রি হয়েছে আজকে (গতকাল)। এ ধারা অব্যাহত থাকুক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার নবম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১৯৯টি। আর গত নয় দিনে মোট নতুন বই এসেছে ৫৭৩টি। শিশুকিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা : সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সভাগৃহে অমর একুশে শিশু—কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক—শাখায় ১০জন, খ—শাখায় ১০জন এবং গ—শাখায় ১০জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।মূল মঞ্চ : বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় "জন্মশতবর্ষ : কলিম শরাফী" শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অণিমা রায়।
আলোচনায় অংশ নেন সাইম রানা। সভাপতিত্ব করেন সাধন ঘোষ। অণিমা রায় বলেন, কলিম শরাফী সেই বিরল প্রতিভার অন্তর্গত, যার কণ্ঠস্বর সংগীতের সুষমা বহনের পাশাপাশি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের সংকটময় মুহূর্তে হয়ে উঠেছিল অস্তিত্ব—সংরক্ষণের উচ্চারণ। তিনি যেমন দীর্ঘকাল সংগীত সাধনা করেছেন, তেমনি সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক অবদমনের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অনমনীয়।
অন্যদিকে, সংগীতের শুদ্ধতা ও সংযমে অবিচল থেকে এক আদর্শনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন। কলিম শরাফীর কণ্ঠস্বর সেই বিরল ধারার অন্তভুর্ক্ত, যেখানে নান্দনিকতা কোনো চটুল প্রদর্শন নয়, বরঞ্চ এক নৈতিক অনুশাসন। তিনি শিল্পকে অভিজাত পরিসরের একচ্ছত্র সম্পদ হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্প—সংগীতের আসল অধিকারী সাধারণ মানুষ-যাদের শ্রমে সমাজের কাঠামো নির্মিত হয়। এই বিশ্বাস তাঁকে শিল্পকে গণমুখী করার প্রয়াসে উদ্বুদ্ধ করে। আলোচনা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শাহীন রেজা।
আবৃত্তি করেন শওকত আলী, রবিউল মাশরাফী, রূপশ্রী চক্রবর্তী এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব চন্দ্র ঘোষ, মো. হারুনুর রশিদ, সঞ্চিতা রাখি, মো. রমজান হোসেন, শিরিন জাহান, রতন কুমার সাহা এবং নূরতাজপারভীন।আগামীকালের সময়সূচি : আগামীকাল ৭ই মার্চ ২০২৬ শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১:০০টায় এবং চলবে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর।শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা : আজ ৭ মার্চ ২০২৬ একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩:০০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবর্ষ : নূরজাহান বেগম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেবেন সোহরাব হাসান। সভাপতিত্ব করবেন লুভা নাহিদ চৌধুরী। বিকেল ৪:০০টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









