বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

প্রাণের মেলায় উচ্ছ্বাস আছে বিক্রি নেই

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

প্রাণের মেলায় উচ্ছ্বাস আছে বিক্রি নেই

বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বইমেলার সম্পর্ক যেন অবিচ্ছেদ্য। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি এলেই বইপ্রেমীদের হৃদয়ে অন্যরকম উত্তেজনা তৈরি হয়। আর এই আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অমর একুশে বইমেলা— যা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং বাঙালির সংস্কৃতি, চিন্তা ও সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত উৎসব। এ উৎসবে পাঠক-লেখক-প্রকাশকরা প্রতিদিন আড্ডায় মেতে ওঠেন। 

যদিও এবারের মেলায় সেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস ভাটা পড়েছে। তবু আনন্দের কমতি নেই। মেলায় ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি স্টল, নতুন বইয়ের রঙিন প্রচ্ছদ আর পাঠকের ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন বই নিয়ে হাজির হয়। কবিতা, উপন্যাস, গবেষণা, শিশুতোষ বই— সব ধরনের বইয়ের সমারোহে পাঠকেরা খুঁজে পান নিজেদের পছন্দের জগত। 

দলবেঁধে দর্শনার্থীরা আসবে, বই কিনবে, স্টলের সামনে পাঠকদের উপচেপড়া ভিড়ে সফলতার দিকে ধাবিত হবে বইমেলা এমন প্রত্যাশার প্রহর গুনছিলেন প্রকাশকরা। অবশেষে এলো প্রকাশকদের কাঙ্খিত সেই দিন। ছিল উপচেপড়া ভিড়, কিন্তু হাতে নেই বইয়ের ব্যাগ। উপচেপড়া ভিড় থাকার পরেও অলস সময় কাটিয়েছেন বিক্রয়কর্মীরা। এমন দৃশ্যই লক্ষণীয় ছিল গতকাল শনিবার অমর একুশে বইমেলার দশম দিনে। এদিন সকাল ১১টায় মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচনের পর থেকে প্রবেশদ্বার বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন প্রকাশকরা কিন্তু দিন শেষে হিসাব মিলছে না তাদের।

সূচিপত্র প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী সাঈদ বারী বলেন, রমজানে মেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশকরা যতটা হতাশ ছিলো সেই হতাশা কেটে গেছে। দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীরা বুঝিয়ে দিলো মেলার ক্ষেত্রে রমজান কোনো বাধা হতে পারে না।  তবে, আমি চাই এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। এমন কথা অস্বীকার করে আরেক প্রকাশক বলেন, মেলায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত কিন্তু বিক্রি নেই, যা প্রকাশকদের জন্য হতাশার।

এদিন ছিলো মেলার চতুর্থ শিশুপ্রহর।  সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহরে শিশুদের দুরন্তপনা শেষে বিকেলে বড়দের পদচারণায় ভিন্ন এক রূপ পায় একুশের বইমেলা। পাঠক সমাদৃত "জিয়াউর রহমান : বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক" অমর একুশে বইমেলায় পাঠকদের সমাদর অর্জন করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পাদিত সংকলন গ্রন্থ "জিয়াউর রহমান : বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক"। বইটি প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৪ সালে। তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনরত থাকাকালীন বইটি সম্পাদনা করেন। আর জিয়াউর রহমান ফাউণ্ডেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বইটি প্রকাশ করে শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা শিকড়।

জিয়াউর রহমান : বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিতর্ক এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ, রণাঙ্গনে জিয়া, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা, ইতিহাসের পাতা থেকে,  স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জিয়াউর রহমানের দুটি নিবন্ধ, 'একটি জাতির জন্ম' নিবন্ধের নেপথ্য কথা, একটি জাতির জন্ম, 'স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি' নিবন্ধের নেপথ্য কথা, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি এবং জনতার জিয়া এই এগারোটি প্রবন্ধ দিয়ে সাজানো হয়েছে সংকলন গ্রন্থটি। প্রকাশের এক যুগ পর তথ্যবহুল নিবন্ধের এই বইটি পাঠকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে বলে জানালেন প্রকাশক মিজানুর রহমান সরদার মিলন।

প্রকাশক জানান, ওই সময় বইটি প্রকাশ করার কারণে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের মামলা হামলার শিকার হন তিনি। শুধু জাতীয়তাবাদী আদর্শে উজ্জীবিতরাই নয় সবশ্রেণীর পাঠকদের বইটি সংগ্রহে রাখা উচিত বলেও মনে করেন প্রকাশক। বইটি প্রকাশে তারেক রহমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও জানান প্রকাশক মিজানুর রহমান সরদার মিলন।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন লন্ডনের জেমা পকসন। দাম ৪৯৯ টাকা।

আবুল খায়ের বাবুর "আমার কথা"

প্রকাশনা সংস্থা টাঙ্গন প্রকাশ করেছে আবুল খায়ের বাবুর বই "আমার কথা"।

দৈনন্দিন জীবনের অবসরে নিজের দেখাশোনা এবং ঘটে যাওয়া ঘটনার উপর নিজের আবেগ-অনুভূতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত বাছাইকৃত কলামগুলো বইটিতে তুলে ধরেছেন লেখক।  লেখক মনে করেন, ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ পরিবেশে লেখকের এই দুঃসাহস দেখানোর প্রচেষ্টা কারো মনে আঘাত করা নয়। বইটিতে স্থান পাওয়া তার লেখাগুলো মানবজীবনে ভালোবাসার স্ফূরণ জাগাতে পারে বলে মনে করেন লেখক আবুল খায়ের বাবু।

ভিন্নধারার লেখনী সমৃদ্ধ এই বইটি পাঠকদের সাহিত্যের ক্ষুধা মেটাবে বলে মনে করেন বইটির প্রকাশক।

নতুন বই
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে  তথ্যমতে,  গতকাল দশম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১৮৫টি।৷ আর গত দশদিনে মেলায় মোট নতুন বই এসেছে ৭৫৮টি।

শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা
অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে গতকাল  বাংলা একাডেমির আবদুল করিম
সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব
অনুষ্ঠিত হয়।

মূল মঞ্চ
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় "জন্মশতবর্ষ : নূরজাহান বেগম" শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসরাইল খান।
আলোচনায় অংশ নেন সোহরাব হাসান। সভাপতিত্ব করেন লুভা নাহিদ চৌধুরী।

লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, মুসলিম নারীদের জন্য প্রথম সার্থক সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম‘ নারীদের সৃজনশীলতাকে উজ্জীবিতকরণ ও আত্মপরিচয় সৃষ্টির একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। নূরজাহান বেগম কেবল উত্তরাধিকারসূত্রেই নয়, তিনি তাঁর মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ‘বেগম’ পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আলোচনা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন মিনহাজুল হক।

আবৃত্তি করেন সাহিদা পারভীন রেখা, আনজুমান আরা এবং আজহারুল ইসলাম রনি। সংগীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা, পিয়াল হাসান, নিশাত আহমেদ, মো. ইউসুফ আহমেদ খান, জয় শাহরিয়ার, নির্ঝর চৌধুরী এবং মো. শফিউদ্দিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.