একদিকে বিরোধী দলের শক্ত সমালোচনা ও আন্দোলন, অন্যদিকে নিজ দলের নেতা-কর্মী ও পরামর্শকদের প্রচ্ছন্ন সমালোচনা ও বিরোধিতা। দুইয়ে মিলে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে বেশ চাপে আছে সরকারি দল বিএনপি। বিশেষ করে বিএনপি সমর্থিত অনেক নেতা-কর্মী যারা বিগত ১৭ বছরে শেখ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনে মাঠে-ঘাটে সক্রিয় ছিলেন, এখন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সোচ্চার- তাদের নিয়েও কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে দলটি। এর মধ্যে খোদ ‘অধ্যাদেশ’ নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিএনপিদলীয় এক সংসদ সদস্যের আপত্তি যেন সেই আগুনে ঘি ঢালার উপক্রম হয়েছে। ফলে আলোচিত এই ইস্যুতে দলের ভেতর-বাহিরে বেশ টানাপড়েন চলছে।
যদিও জুলাই জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে বেশ কয়েকটি সংযোজন ও বিয়োজন করার চিন্তাও করছে তারা। তবু বিএনপির এ সিদ্ধান্তে আস্থার অভাব দেখছেন বিরোধী দল ও নিজ দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা-কর্মীরা।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। গত বৃহস্পতিবার কমিটির করা সুপারিশের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশও রয়েছে। এরই মধ্যে কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে এবং বাকি ১৫টি অধ্যাদেশ কিছু সংশোধনের মাধ্যমে বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করেছে।
তবে বিশেষ কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা ২০টি অধ্যাদেশ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এসব নোট দেওয়া হয়েছে চারটি অধ্যাদেশ বলবৎ রাখা, দুটি সংশোধনের সুপারিশ, ১১টি বাতিল হতে যাওয়া কিন্তু পরে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবার উত্থাপন করা এবং তিনটি বাতিলের প্রস্তাবের বিষয়ে। প্রতিবেদনটি উত্থাপনের পর এবং আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, পাসের জন্য সুপারিশ করা পর্যালোচিত বিলগুলো আজ সোমবার থেকে সংসদে উত্থাপন শুরু হবে।
কিন্তু এরই মধ্যে বাতিল করা অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপিদলীয় সাংসদ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাজপথে স্বোচ্চার ছিলেন এমন অসংখ্য নেতা-কর্মীও রয়েছেন। এদের মধ্যে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সবশেষে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন পঞ্চগড়-১ থেকে বিএনপির সাংসদ এবং অধ্যাদেশ পর্যালোচনা কমিটিরই সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জামির। তিনি ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উল্লেখ করে কমিটির প্রধানের কাছে পেশ করেন। এতে তিনি বলেন, ‘এই কমিটির সামনে একটি স্পষ্ট সুযোগ আছে। শুধু একটি সিদ্ধান্ত অধ্যাদেশটি দুটি ছোট সংশোধনসহ অক্ষুণ্ণ রেখে পাস করা।’
ব্যারিস্টার নওশাদ জামির আরো বলেন, ‘ইফ ইউ ডু-নট ডু দিস, ইট উইল বি কারেক্টলি রিড অ্যাজ এ রিট্রিট ফ্রম হিউম্যান রাইটস অবলিগশেনস বাই দ্য বিএনপি গভর্নমেন্ট ইন ইটস ভেরি ফার্স্ট মান্থ। দিস ইজ নট ইন আওয়ার বেস্ট ইন্টারেস্ট।’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুধু বিএনপিদলীয় নয়, এর বাইরে দলটির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অপর দলের বেশ কয়েকজন নেতাও জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকও জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি যেহেতু গণভোটের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচার চালিয়েছে ও হ্যাঁ-তে ভোট দিয়ে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছে, সে কারণে গণভোটের রায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ বিএনপির জন্য গৌরবজনকই হবে।’ গত শুক্রবার বিকালে পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, গণভোটের অধ্যাদেশ নিয়ে আপত্তি থাকলেও প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার যেহেতু সাধারণভাবে গণভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছেন, সেজন্য গণভোটের রায়কে নাকচ করা বিবেচনাসম্মত কাজ হবে না। আর জাতীয় সংসদে বিএনপির যেহেতু দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপির উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তদুপরি জুলাই সনদের বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাবে বিএনপির আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে, যা বাস্তবায়নে তাদের বড় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি আশা করে বলেন, এই ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্ব দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এবং গণ-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
এ ছাড়া বিগত ১৭ বছরে বিএনপিমনা হিসেবে পরিচিত যেসব বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শেখ হাসিনা সরকারের নানা অনিয়ম, অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন; তাদের অনেকেও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করছেন। এসব বিশিষ্টজন এখন জুলাই সনদ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বেশ সরব। এদের মধ্যে সর্বজনগ্রহণযোগ্য অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক ড. দিলারা হাফিজ, আলোকচিত্রী শহিদুল হকসহ আরো অনেকেই গণভোট ও জুলাই সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছেন। এ ছাড়া প্রকাশ্যে কোনো প্ল্যাটফর্মে বিরোধিতা না করলেও ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিকে বিপক্ষে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের লোকজন। তবে একান্তই যারা সুবিধাভোগী বলে পরিচিত তারাই কেবল ব্যক্তিস্বার্থে জুলাই সনদের বিরোধিতা করছেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি কার্যকারিতা হারাতে যাওয়া প্রায় সব অধ্যাদেশের ওপর বিরোধী দলের ভিন্নমত রাজনৈতিক বিভাজনকে আরো গভীর করার শঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সংস্কারের বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে মনে করছেন অনেকেই।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন সংসদে যে প্রতিবেদনটি পেশ করেছেন, তাতে ওই ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি পুরোপুরি বাতিলের (রহিত করার) প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ১৬টি পর্যালোচনা করে পরে নতুন করে বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। ১৩ সদস্যের এই বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠিত হয় ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের পাস করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনের পর। এই কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন সদস্যও রয়েছেন।
কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে হয়। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদিত না হয়, তবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে গণভোট ও অন্যান্য অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে যে বিএনপিরও অনেক এমপির দ্বিমত রয়েছে, সে বিষয়গুলোও দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সূত্র জানায়, মূল রিপোর্টে বিরোধীদলীয় সদস্যদের নোট অব ডিসেন্টগুলো উল্লেখ করলেও কৌশলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নোট অব ডিসেন্টগুলো উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যার উদ্দেশ্য এটা দেখানো, গণভোটসহ সব অধ্যাদেশ বাতিলে সরকারদলীয় সব সংসদ সদস্যের সম্মতি রয়েছে।
মূলত মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির একটি গুরুত্বপূর্ণ লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। যেখানে তিনি যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন কেন এই অধ্যাদেশটি বাতিল করা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের পূর্বাপর আইনি, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক পরিণতি কী হতে পারে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে তিনি গুম সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে এর পরিণতি কী হতে পারে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। এ ছাড়া বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী আছেন তারা বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা দল বিএনপি এখন ক্ষমতায়। আমাদের দলে বহুচিন্তার মানুষ ও নেতা-কর্মী রয়েছে। তাদের কেউ কেউ প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন বিধায় হয়তো মনে করেন দল যে পথে আছে সেটাই সঠিক। তবে আমরা চাই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে দল গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখাক। কারণ আমরা জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ হয়েই নির্বাচনে ভোট চেয়েছি এবং জনগণ ভোট দিয়েছে। কিন্তু এখন যদি দল ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের রায়কে অসম্মান করে তাহলে আগামী দিনে কোন মুখ নিয়ে তাদের কাছে যাব?”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন ‘এম আর’ আদ্যক্ষরের নেতা শুক্রবার রাতে তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, “যারা ঘোর ফ্যাসিবাদের সময়ে বিএনপির ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন; তাদের কেউ গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, দুদক, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত এবং গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন না। তাদের কাউকে অধ্যাদেশগুলো বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখিনি। অধিকাংশই সমালোচনা করছেন। তবে যারা দলের সঙ্গে সরাসরি অ্যালাইন তারা নীরব রয়েছেন। কিন্তু অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে যারা ছাপড়ি মার্কা যুক্তি দিচ্ছেন; তাদের কাউকে ৫ আগস্টের আগে বিএনপির পক্ষে এক শব্দ লিখতে দেখিনি, বলতে শুনিনি। এরা হচ্ছে সিক্সটিন্থ ডিভিশন।”
তিনি বলেন, “এটার মানে কি বুঝতে পারছেন? আওয়ামী লীগ আমলে যখন কোনো অপকর্ম হতো, তখন কিছু ছাপড়ি আসত এর পক্ষে যুক্তি দিতে। তাদের নামই হয়ে গিয়েছিল ‘জাস্টিফিকেশন লীগ’। যারা আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাস করলেও সুষ্ঠু নির্বাচন চাইতেন, গুম-দমন-অর্থ পাচারের বিরোধী ছিলেন, তারা নীরব হয়ে গিয়েছিলেন। এই অংশটি বিএনপি, জামায়াতকে অপছন্দ করলেও; জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন সহ্যের শেষ সীমা পেরিয়ে যাওয়ায়। নইলে, এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ত না আওয়ামী লীগ। তাই তো ছাপড়ি সমর্থক থাকার চেয়ে, ভালো সমালোচক থাকা জরুরি। সমালোচনা শোনাও জরুরি। সরকার যদি সমালোচকদের কথা শুনে, জবাবদিহিতা এবং সংস্কারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো পাস করায়, তাহলে সরকারেরই ভালো হবে। না শুনলে, একদিন না একদিন সরকারেরই ক্ষতি হবে। কিন্তু ততদিনে সমালোচক বন্ধুরা অনেক দূরে চলে যাবে।”
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহাব উদ্দিন লাল্টু ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে আন্দোলনের মুখে বর্তমান সরকারের পতন হবে। একবার পতন হলে আর কখনো তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এই সরকারি দলের নেতারা ভুলে গেছেন, আন্দোলন করে তারা ১৬-১৭ বছর হাসিনার কিছুই করতে পারেননি। আবার যদি বিপদে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হন, অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতে তারা নিপতিত হবেন।’
তিনি আরো বলেন, “মানুষ সব কথা মনে রাখে। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে ৩ জোটের রূপরেখা তারা পুরোপুরি মানেননি। বরং মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপি করায় দেশে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠেছিল, তারা তা না মেনে বরং ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো একটি একতরফা নির্বাচন করে দলকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। মানুষ তা মনে রেখেছিল। আবার ২০০১-এ ক্ষমতায় এসে তারা বিচারপতিদের চাকরির বয়স এমনভাবে বাড়িয়েছিলেন, যাতে কে এম হাসান নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা হতে দেয়নি। দেশে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে। শেষমেষ দেশে ইমার্জেন্সি এসেছিল। মানুষ এটাও ভুলে যায়নি। সুতরাং এবার যদি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পতন ঘটে, তারা সহজে আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। কারণ মানুষ সব কথা মনে রাখে। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন বিষয়ক বেইমানির কথা মানুষ কিছুতেই ভুলবে না।”
লাল্টু বলেন, “একটি কোম্পানি যেমন তার কাস্টমার বেইজ হারিয়ে ফেললে আর টিকতে পারে না, বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও তাদের সমর্থক বেইজ এমনভাবে হারাবে যে, শেষমেষ জাতীয় পার্টির মতো রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। বারবার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে জীবন দিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে জনগণের সাথে বেইমানি করার সুযোগ দেবে, এমন সম্ভাবনা কম।”
এদিকে গত শনিবার রাতে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুলাই সনদে যেসব কমিটমেন্ট করেছে বিএনপি তার সবই বাস্তবায়ন করবে। তবে যেগুলোতে আমাদের নোট অব ডিসেন্ট দেয়া ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









