বিশেষ কমিটির সুপারিশের পরও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিলে সংশোধনী আনার অভিযোগ তুলে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা বিশেষ কমিটির ‘সমঝোতা ভঙ্গ’ ও ‘স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে’ প্রশ্ন তুলে বেরিয়ে যান। ওয়াকআউটের আগে সরকারি দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধায় জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ওয়াকআউটের সময় শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা দুঃখ নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলাম।
বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল, কিন্তু সরকার তা মানেনি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল হুবহু পাসের সুপারিশ থাকার পরও অধিবেশনে ৮ ধারায় তিনটি সংশোধনী এনে তা সংশোধিত আকারে পাস করা হয়।
এ প্রক্রিয়াকে ‘দিনে-দুপুরে রাজনৈতিক জোচ্চুরি’ ও ‘প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মহোৎসব’ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনি জানেন অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি করা হয়েছিল।
সেখানে ৯৮টি অধ্যাদেশ সম্পর্কে আমরা ঐক্যমত পোষণ করেছিলাম যে, সেগুলো ‘অ্যাজ ইট ইজ’ (যেভাবে আছে) সংসদে বিল আকারে আসবে এবং পাস হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিলটিও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আজ বিলটি উত্থাপনের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে একটি সংশোধনী দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা ও কনসেনসাস ভঙ্গ করা হলো।
তিনি আরো বলেন, সরকারি দল চাইলে যে কোনো বিল পাস করতে পারে, তাদের সেই মেজরিটি আছে। কিন্তু এই বিশেষ কমিটি করার তবে প্রয়োজন কি ছিল? যদি আমাদের কথা বলার সুযোগই না দেওয়া হয়, তবে এই সংসদ আর জনস্বার্থ রক্ষা করবে কীভাবে? দিনের দুপুরে একটা ছলচাতুরী ও জোচ্চুরির মাধ্যমে এই বিলের সংশোধনী পাস করে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও বেশ কয়েকটি গণবিরোধী বিল পাস হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়ে বিরোধী জোটের দসস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









