কড়া নিরাপত্তায় নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ঘুরে সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা অ্যাকাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে ১০টা ৫ মিনিটে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা ঘিরে ১৪ এপ্রিল ভোর থেকে কড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শোভাযাত্রার সামনে এবং পেছনে পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে রেখেছিল।
সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালিদের একটা সাংস্কৃতিক উৎসব। তাই উৎসবটিতে যেন সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারে তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আশির দশকে পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে যে শোভাযাত্রা বের হত, পরে তা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায়’ রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর এই শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ বিরোধিতা শুরু করে। ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। তখন নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
আগে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামে এই শোভাযাত্রা হলেও এবার এটিকে বলা হচ্ছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
নাম পরিবর্তনের বিষয়ে গেল ৫ এপ্রিল সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে যে বিতর্ক, আমরা তার অবসান চাই। পহেলা বৈশাখ মূলত সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও কৃষকের উৎসব।”
“আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ গণতান্ত্রিক সরকার। গণতন্ত্রে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য থাকবে। এখন থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









