নাগরিকের সচেতনতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ডিএনসিসি প্রশাসক।
এ সময় প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির অভিযানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকায় ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম।
এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সর্বস্তরের মানুষের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর সক্রিয় অংশীদারিত্ব ও সার্বিক সহযোগিতা চান প্রশাসক।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘‘গত ১২ই সেপ্টেম্বর ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৩টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে সচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে জোনাল কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও গণপরিসরে বিতরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া নগরবাসীর উদ্দেশে সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি চেয়ে প্রশাসকের স্বাক্ষর সংবলিত খোলা চিঠি খামজাত করে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পৌঁছানোর কাজ জোরদার করা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক গণমাধ্যমের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, “সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানায় প্রতিদিনের সব চিত্র একার পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। সাংবাদিকরা যেসব সমস্যা তুলে ধরেন, তার ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারি। নগরবাসীর সেবাদানে সাংবাদিকেরা আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘সামনের পিক সময়ে কোনো ধরনের নেতিবাচকতায় না গিয়ে আমাদের সকলকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ‘‘ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মিরপুর, উত্তরা, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও পুনরায় দখল হয়ে যাওয়া প্রতিরোধে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে।’’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি এসেছে। অধিক জনসমাগম ও চলাচলকারী প্রধান সড়কগুলোতে এখন দুই শিফটে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে নাগরিক সচেতনতা ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পথচলার সময় যেখানে-সেখানে ময়লা বা ব্যবহৃত টিস্যু ফেলা বন্ধ করতে হবে। এমনকি রাতের বেলায় ময়লা ফেলা বন্ধে মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে বারবার নতুন ডাস্টবিন স্থাপন ও সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘‘দেশ গঠন ও সুশাসনের লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় রেখে ডিএনসিসি নগর সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্তিময় পরিবেশ উপহার দিতে সিটি কর্পোরেশনের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’’
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন শেষে একটি র্যালি বের হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং বক্তব্যে সংসদ সদস্যবৃন্দ ডিএনসিসি প্রশাসকের নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের প্রশংসা করেন এবং সবাইকে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মুহাম্মদ আব্দুল লতিফসহ সদস্যবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যগণ, সিটি করডোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ৃ


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









