সম্প্রতি দেশে মাদকের মারাত্মক অপব্যবহার বেড়ে গিয়ে সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিগ্ন ঘটছে মারাত্মকভাবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সর্বনাশা মাদকে আসক্তির ভয়াবহ তান্ডবে আজ সারাদেশ ক্ষত-বিক্ষত! যার নির্মম পরিণতিতে সদ্য রংপুরে ঘটে গেল আরেক জগন্যতম দৃষ্টান্ত! এই ভয়াবহ লোমহর্ষক ঘটনার শিকার হয়ে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ মধ্যেরাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়া পাড়ায় নিজ বাসায় জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী, সন্তানের করুণ মৃত্যু! তাও ইয়াবা আসক্ত বখাটে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস নামের দুই প্রতিবেশী তরুণ ঘাতকের হাতে একই পরিবারের চার সদস্য একে একে সকলে নির্মমভাবে খুন হয়ে যান!
এমনকি এই নরপিশাচদের হাত থেকে প্রিয়ম নামের ১২ বছরের অবুঝ শিশুটি পর্যন্ত রেহাই পায়নি! যদিও দেশের পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ইতোমধ্যে দেওয়া তথ্যমতে এই নির্মমতার জন্য বখাটে দুই তরুণের ছাদে বসে ইয়াবা সেবনের দৃশ্য এই প্রবীণ শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর সরাসরি দেখে ফেলা এবং মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে একমাত্র কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু এই জগন্যতম ঘটনা যেভাবেই ঘটুক তবে, এই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্তপূর্বক মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
অন্যদিকে ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্বগুজরা গ্রামের চৈতন্য মহাজন বাড়িতে দিনদুপুরে মাদকাসক্ত একমাত্র সন্তান ঘাতক রিমন দাশ গুপ্ত কর্তৃক নিজ প্রাপ্তবয়স্ক পিতা স্বপন দাশ গুপ্ত ও মাতা কল্পনা দাশকে ছুরিকাঘাত করে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশেজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই নির্মম ঘটনাটিতে নিজেদের একমাত্র আদরের যুবক সন্তানের কাছে নিরপরাধ অসহায় পিতা-মাতাকে বলির পাঁঠা হওয়ার মূল কারণটাই ছিল মাদকের চরম নেশায় আসক্তির উন্মাদ আচরণের নগ্ন দৃষ্টান্ত, যা এভাবে দেশে প্রতিদিনই একের পর এক নতুন করে জগন্যতম ঘটনা সমাজকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে সকল শ্রেণির অভিভাবকরা বর্তমানে দিন দিন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। মানব জীবনে মরণঘাতী এক ভয়ানক নেশাজাতীয় সামাজিক ব্যাধির নাম মাদক। মাদক শুধুমাত্র মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করে না, একটি জাতিকে ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় ৪২/১১২ নং প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিবছর ২৬ জুন আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তারপর থেকে প্রতি বছর এই দিবসটিকে বিশ্বব্যাপী মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও প্রতি বছর যথাযথ গুরুত্ব সহকারে এই দিবসটি পালন করে থাকে। আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: অমীমাংসিত সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী সমাধান’। বাংলাদেশ সরকারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সামাজিক সংস্থা এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মাদক বিরোধী শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনা সভা আয়োজন করে প্রচার ও প্রচারণা চালিয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে থাকে। এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো মাদক উৎপাদন, পাচার, সরবরাহ, সেবন ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলে মাদকমুক্ত জাতি গড়ে তোলা।
মাদক একটি জাতির সার্বিক উন্নতির ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। একটি জাতিকে ধ্বংসের মূল হাতিয়ার হলো মাদক। যে কোনো সুস্থ, সবল মানুষও দুষ্টচক্রের পাল্লায় পড়ে মাদকের নেশায় আসক্ত হলে সে ধীরে ধীরে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে থাকে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে একটি উন্নত ও সভ্য জাতি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পতিত হয়। মাদক পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের একটি চরম ক্ষতিকর দিক। মাদক মানুষের শরীরের কু-প্রবৃত্তিগুলো সবসময় জাগিয়ে তোলে। পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয়, মান, মর্যাদা ও সম্পর্ক নষ্ট করার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় মাদক।
মানুষের সুস্থ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের পরিবেশ নষ্ট করে দেয় মাদক। এক বাক্যে বলা যায়, মানব জীবনে মাদকের ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব শুধু মাদকাসক্ত ব্যক্তির দেহে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা পরিবার ও সমাজকে পরস্পর আক্রান্ত করে। মানব জীবনে মাদকের নেশার ভয়াবহ ছোবলের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকসমূহ দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতীয়মান হয়ে আসছে। তাই পৃথিবীজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত হয়ে থাকে। যদিও বিশ্বব্যাপী গড়ে উঠা বিশাল মাদক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য মাত্র একদিনের নির্দিষ্ট কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। এজন্য নিয়মিত জনসচেতনতা তৈরি ও অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশেষ করে শিশু, কিশোর, যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে মাদকের অপব্যবহারের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করতে হবে। জাতীয় শিক্ষা নীতিমালায় মাদকের কুফল বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যাপীঠের সকল শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মাদকের বিরুদ্ধে হাতেকলমে শিক্ষা দিতে হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের আওতাভুক্ত বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যবইয়ে ‘মাদকের কুফল’ নিয়ে শিক্ষামূলক প্রবন্ধ স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করে পরীক্ষার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
মানব জীবনের নৈতিক অবক্ষয়ের মূলমন্ত্র হলো মাদক! সমাজে অহরহ চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, অপহরণ, ইভটিজিং, অশ্লীলতা ও বিশৃঙ্খলা, এমনকি অবুঝ শিশু ধর্ষণের লোমহর্ষক সব অপরাধের মূলে রয়েছে মাদকাসক্তি। দেশে যত্রতত্র মাদকের ভয়াবহ অপব্যবহারের কারণে প্রতিনিয়ত সমাজে নানা অঘটন ঘটে চলেছে। বর্তমানে দেশে মাদকের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বয়স, শ্রেণি ও পেশার নারী-পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিগত ৮০ দশকেও দেখা যেত সমাজের বয়স্ক কিছু মানুষ সাধারণত মদপান করত এবং তাও খুবই গোপনে।
তখন আবার তাদেরকে সংশোধন করতে মাঝে-মধ্যে সামাজিক শালিসি বৈঠকে শাস্তির ব্যবস্থাও দেখা যেত, যা বর্তমান সময় অনেক বিরল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় পরিবার ও সমাজের অবাধ্য শিশু-কিশোরদের মাঝেও এখন ক্ষতিকর মাদকের অবাধ ছড়াছড়ি আমরা দেখতে পাই। ভয়াবহ নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্যের সেবন ও বাণিজ্যিক সরবরাহ শহর ও গ্রামের প্রতিটি এলাকায় কিশোর গ্যাং সৃষ্টি হওয়ার খবরও আজ আর নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সের শিশু-কিশোরেরা পর্যন্ত মাদকাসক্ত হয়ে সামাজিক নানা অপকর্মে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে।
মূলত অবাধে মাদক সেবন ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শহর ও মফস্বলের প্রতিটি এলাকার অলিগলিতে সংগঠিত হয়ে কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে তারা প্রতিনিয়ত নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের ইন্ধনদাতা শীর্ষ গ্রুপের তথাকথিত বড় ভাই নামধারি লিডারের ছায়া গ্রুপ হিসেবে তারা কাজ করে। এছাড়াও আজকাল শহরে কিংবা গ্রামের রাস্তাঘাট, ফুটপাতে চলার পথে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণে দিনদুপুরে পথশিশুরা পলিথিন ভর্তি (আঠা জাতীয়) ড্যান্ডি নামক আরেক মরণ নেশায় আসক্ত হতে দেখা যায়। তারাও সুযোগ বুঝে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে এই শিশুদের উদ্ধার করে নিরাপদ জীবনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরদিকে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদকের ব্যাপক অপব্যবহার আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং দেশের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। প্রতিনিয়ত মাদকাসক্ত হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
মাদকের ভয়ংকর ছোবল থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি কোনো ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ নিরাপদে নেই। দেশের কলুষিত রাজনীতির প্রভাব বিস্তারের কারণে এমনিতেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তলানিতে, যা শিক্ষক ও অভিভাবকদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে! দেশের এমন নাজুক পরিস্থিতি জাতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক। সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক অভিভাবক দম্পতি অভিযোগ নিয়ে এসেছেন, তাদের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া সন্তান মাদক সেবন করার জন্য প্রতিদিন মা-বাবার কাছ থেকে টাকা নেয়। কখনো টাকা দিতে না পারলে বখাটে ছেলেটা তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে।
বর্তমানে বখাটে ছেলেটি মা-বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাই তারা জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আইনী সহায়তা চেয়ে আবেদন করতে এসেছেন। অথচ অভিযোগদাতা এই হতভাগ্য পিতা পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। এই ভয়ানক অবস্থাদৃষ্টে মনে পড়ে, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে বাংলাদেশ পুলিশের এসবি শাখার উর্ধতন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্না রহমান দম্পতিকে তাঁদের একমাত্র মাদকাসক্ত কন্যা ঐশী রহমানের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়ার ঘটনা। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজের জন্য এমন লোমহর্ষক ও বেদনাদায়ক ঘটনা আজ নতুন কিছু নয়। এই ধরনের মাদকের ছোবলে আসক্ত সন্তানের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত এমন নির্মমতার শিকার হচ্ছেন পরিবারের অসংখ্য মা-বাবা ও নিকটজন। শুধুমাত্র মাদকের অপব্যবহারের কারণে প্রতিদিনই আমাদের সমাজে নিত্য নতুন নির্মম ও করুণ কাহিনির জন্ম হয়। কিন্ত অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণির অসাধু ঊর্ধ্বতন আমলা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ স্বনামধন্য পেশার ব্যক্তিরা মাদক সেবন, পাচার, সরবরাহ, মুনাফা আদায় ও মাদক বাণিজ্যের মতো গুরুতর অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িয়ে গেছেন! তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ‘সর্ষের ভিতর ভূত’। প্রকৃতপক্ষে এসব দুষ্কৃতকারী দেশ ও জাতির ভয়ানক শত্রু।
মাদকের প্রকার: ইয়াবা, হেরোইন, ক্রিস্টাল, আইস, ফেনসিডিল, বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, এলএসডি ও ডিএমটির মতো ভয়ানক প্রাণঘাতী নেশা জাতীয় মাদক। এছাড়াও রয়েছে সাধারণ তরল মদ, গাঁজা, আফিন ও ফেনসিডিল ইত্যাদি নেশাকর মাদক।
মাদকের প্রবেশ পথ: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কৌশলগত দিক দিয়ে চোরাচালানিরা বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে মাদক পাচারের অভায়ারণ্য বানিয়েছে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অভ্যন্তরীণ ট্রানজিট রোডকে তারা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ লোভনীয় বাজার হিসেবে বেছে নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদী দিয়ে টেকনাফ এবং কক্সবাজারের উপকূলীয় অরক্ষিত পথ দিয়ে নানা প্রকার মাদকের বড় চালান প্রতিনিয়ত চট্টগ্রামে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি মাছ ধরার ইঞ্জিন চালিত ট্রলার, বোট ও নৌকাযোগে জেলেদের মাধ্যমেও মাদক পাচারের হাতবদল হয়ে থাকে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সীমান্ত পাড়ি দিয়েও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে অবাধে মাদক প্রবেশ করছে।
পরবর্তীকালে চোরাচালানিরা সুযোগ বুঝে এসব মাদক কৌশলে দেশ-বিদেশের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে, মাদকের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলার আওতাধীন ১৫টি উপজেলা। বলতে গেলে এই উপজেলাগুলো মাদকের নিরাপদ স্পষ্ট জোনে পরিণত হয়েছে।
মাদক দ্রব্যে নিয়ন্ত্রণ আইন: বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রধান আইন হলো ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। এই আইনে মূলত অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নির্ধারিত রয়েছে। যেমন, মাদক সেবনের মতো সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আর গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে, আমাদের দেশের বাস্তবতায় সাধারণ অপরাধীরা সামান্য কিছু শাস্তি ভোগ করলেও অধিক ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে কঠিন শাস্তি থেকে সহজে পার পেয়ে যায়! কারণ, এসব সুযোগ সন্ধানী গডফাদাররা সবসময় দেশের ক্ষমতাসীন সরকারী দলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকে।
সর্বোপরি, জাতির ভয়ংকর অভিশাপ মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের যুগোপযোগী সংস্কার, বাণিজ্য, সরবরাহ ও সেবনকারী এবং মাদক সম্রাট খ্যাত অপরাধীদের দলমত নির্বিশেষে কঠোর হস্তে দমন করা সময়ের দাবি। এজন্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনয়নে করে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করি।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার সমাজকর্মী


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









