গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। আর এই স্তম্ভের অতন্দ্র প্রহরী হলেন সাংবাদিকরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন, অবাধ তথ্য সংগ্রহ এবং পেশার প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার সুবিধার্থে একজন সংবাদকর্মীর সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হলো তার ‘প্রেস কার্ড’ বা পরিচয়পত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে এই প্রেস কার্ডের ব্যাপক অপব্যবহার, প্রকাশ্য বাণিজ্য এবং অনৈতিক চর্চা সাংবাদিকতা পেশাকে এক অভূতপূর্ব আস্থার সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। যে পরিচয়পত্র একসময় সততা, সাহসিকতা, মেধা এবং জনমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক ছিল, তা আজ কতিপয় অসাধু চক্রের কারণে ক্ষমতার দাপট খাটানো, আইন অমান্য করা কিংবা ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সমাজের যে আয়নায় মানুষের অনিয়ম ফুটে ওঠার কথা ছিল, সেই আয়নাতেই আজ পেশাগত অবক্ষয়ের কদর্য ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাংবাদিকতার এই নৈতিক অবক্ষয় এবং আস্থার সংকটের পেছনে সবচেয়ে বড় দায়ভার বর্তায় একশ্রেণির ভুঁইফোঁড়, অনৈতিক ও ব্যবসায়িক মানসিকতার সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং প্রকাশকদের ওপর। ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর ও মফস্বল পর্যন্ত ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বহু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা, নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল, অনিবন্ধিত আইপি টিভি এবং তথাকথিত ইউটিউব চ্যানেলের মালিক-সম্পাদকেরা সাংবাদিকতাকে একটি লাভজনক ‘কার্ড বিক্রির ব্যবসায়’ রূপান্তর করেছেন। বিভিন্ন অনুসন্ধানী তথ্যে উঠে এসেছে, মফস্বল বা উপজেলা পর্যায়ে ‘প্রতিনিধি’ বা ‘সংবাদদাতা’ নিয়োগের নামে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে প্রেস কার্ড বিক্রি করা হচ্ছে।
এমনকি পেশাগত পরিচয় নিশ্চিত করতে বার্ষিক নবায়ন ফি বা কার্ড ফি নামে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ন্যূনতম লেখার দক্ষতা কিংবা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা সম্পর্কে সাধারণ ধারণা আছে কিনা, তা মোটেও বিবেচনা করা হয় না। কেবল মোটা অঙ্কের টাকা দিতে পারলেই হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি চকচকে প্রেস কার্ড। কোনো কোনো অসাধু সম্পাদক আবার কার্ড বিক্রির পরও খান্ত হন না; তারা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘চাঁদা’ বা মাসোহারা দাবি করেন। ফলে, সেই কার্ডধারী ব্যক্তিটি এলাকায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং সম্পাদকের দাবি মেটানোর জন্য সরাসরি চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, স্থানীয় বিবাদ সালিশি ও নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এটি সাংবাদিকতা নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চক্র।
প্রেস কার্ডের এই লাগামহীন বাণিজ্যের কারণে সমাজের নানা স্তরের সুযোগসন্ধানী অপরাধী, চোরাকারবারি, ভূমিদস্যু, সুদের ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি এবং দালালেরা রাতারাতি ‘সাংবাদিক’ বা ‘সম্পাদক’ বনে যাচ্ছে। এই ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে আসল ও পেশাদার সংবাদকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন। এ বিষয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যম ও পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠনগুলোর একাধিক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের অভিমত হলো, প্রেস কার্ড বিক্রি কেবল একটি আইনি অপরাধ নয়, এটি পুরো সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্বের ওপর বড় আঘাত। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের একাংশ প্রায়শই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, যখন টাকার বিনিময়ে অপেশাদার ও অপরাধীদের হাতে প্রেস কার্ড তুলে দেওয়া হয়, তখন গণমাধ্যমের মর্যাদা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না; এতে করে জীবন বাজি রেখে যারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করছেন, তাদের শ্রম ও সততাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
আজকাল মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার কিংবা ব্যক্তিগত যানবাহনের সামনে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ লিখে রাখা এক ধরনের ফ্যাশন ও আইনের হাত থেকে বাঁচার ঢালে পরিণত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য থাকে ট্রাফিক আইন অমান্য করা, মহাসড়কে টোল প্লাজার ফি ফাঁকি দেওয়া কিংবা পুলিশের তল্লাশি ও তল্লাশি চৌকি এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে, মফস্বল এলাকাগুলোতে কথিত কার্ডধারী সাংবাদিকদের উপদ্রব অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তারা সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে ছোটখাটো ভুলত্রুটি খুঁজে বের করে এবং তা পত্রিকায় বা অনলাইনে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে। এদের মূল লক্ষ্য সংবাদ পরিবেশন বা জনস্বার্থ রক্ষা নয়, বরং সংবাদ গোপন করার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা। এর ফলে যেসব পেশাদার সাংবাদিক দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করছেন, তারাও সাধারণ মানুষের কাছে অবমূল্যায়ন, সন্দেহ ও ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন।
প্রেস কার্ডের অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং ভুয়া সাংবাদিকদের অপকর্ম বন্ধে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোতে স্পষ্ট কিছু বিধান রয়েছে, যদিও সেগুলোর প্রয়োগ ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত। ১৮৬০ সালের প্যানেল কোড বা দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃত সাংবাদিক না হয়েও নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে ভুয়া পরিচয় প্রদান করে কোনো সুবিধা বা অর্থ আদায় করে, তবে তা দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারা তথা ছদ্মবেশে প্রতারণা এবং ৪২০ ধারা তথা প্রতারণা ও অন্যায়ভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করা অনুযায়ী স্পষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া, সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বা ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করলে তা দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা এবং ৩৮৪ ধারা তথা এক্সটোরশন বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন ১৯৭৪-এর অধীনে প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোড অফ কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। এই আচরণবিধিতে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদক তার পেশাগত পদমর্যাদা ব্যক্তিগত বা অনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু আইনের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, বর্তমান প্রেস কাউন্সিল আইনে অসাধু সম্পাদক বা ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা কারাদণ্ড দেওয়ার কার্যকর ক্ষমতা নেই। প্রেস কাউন্সিল কেবল শো-কজ, তিরস্কার বা দুঃখ প্রকাশের সুপারিশ করতে পারে, যা অসাধু কার্ড বাণিজ্যের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটকে থামানোর জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
এখানে একটি গভীর আইনি ও প্রশাসনিক শূন্যতা দৃশ্যমান। বাংলাদেশে একটি পত্রিকা বা অনলাইন পোর্টালের ডিক্লিয়ারেশন নেওয়া বা নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সুযোগ যতটা সহজ, সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ বা পরিচয়পত্র বিতরণের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী ততটাই অনুপস্থিত। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট বা পিআইডি কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যক পেশাদার সাংবাদিককে সরকারি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রদান করে। কিন্তু বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো কাকে প্রেস কার্ড দিচ্ছে এবং কীভাবে দিচ্ছে, তার ওপর সরকারের বা কোনো স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। আইনের এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে অসাধু প্রকাশনা সিন্ডিকেট।
এসব প্রশাসনিক ও আইনি দুর্বলতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম ও মালিকপক্ষের অপেশাদার দৃষ্টিভঙ্গিও এই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গণমাধ্যম গবেষক ও দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিকদের একাংশের মতে, মফস্বল সাংবাদিকদের আর্থিক অনটন ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলাই এই অনৈতিক চর্চার অন্যতম প্রধান জ্বালানি। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের অভিমত অনুসারে, অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মফস্বল প্রতিনিধিদের কোনো বেতন-ভাতা দেয় না, অথচ তাদের ওপর বিজ্ঞাপন সংগ্রহ ও সার্কুলেশনের বড় চাপ সৃষ্টি করা হয়। যখন একজন সংবাদকর্মীকে জীবনধারণের মতো ন্যূনতম আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া হয় না, তখন অনেকেই বাধ্য হয়ে কিংবা লোভে পড়ে অনৈতিক পথ বেছে নেন। এ ছাড়া বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গজিয়ে ওঠা আইপি টিভি, ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকভিত্তিক পেজগুলোর চালকেরা গলায় কার্ড ঝুলিয়ে তথাকথিত 'লাইভ' করার নামে ব্ল্যাকমেইলিং, সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অন্যায়ভাবে চরিত্রহননের মহোৎসবে মেতে উঠেছে, যা হলুদ সাংবাদিকতার সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে।
প্রেস কার্ডের এই অনিয়ন্ত্রিত ও ক্ষতিকর বাণিজ্য বন্ধ করে গণমাধ্যমের হারানো ভাবমূর্তি ও আস্থার সংকট নিরসনে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনুমোদনহীন গণমাধ্যম, নিবন্ধনহীন অনলাইন পোর্টাল ও নামসর্বস্ব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। যেসব পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয় না কিন্তু কার্ড বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, ডিক্লিয়ারেশন বা প্রিন্টিং লাইসেন্স বাতিলকরণ আইনের আওতায় সেগুলোর লাইসেন্স স্থায়ীভাবে রদ করা দরকার। একই সাথে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করে প্রেস কাউন্সিলকে বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সময়ের দাবি, যাতে অনৈতিকভাবে কার্ড বিক্রি করা সম্পাদক ও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার থাকে।
প্রযুক্তিগত তদারকি জোরদারে সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) তত্ত্বাবধানে একটি ‘জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ’ বা কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি অনুমোদিত গণমাধ্যম তাদের নিয়োগকৃত সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য আপলোড করতে বাধ্য থাকবে এবং প্রতিটি প্রেস কার্ডে বারকোড বা কিউআর কোড যুক্ত থাকবে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি সরকারি ডেটাবেজ থেকে যে কোনো সংবাদকর্মীর বৈধতা মুহূর্তেই যাচাই করতে পারবে। পাশাপাশি প্রেস কার্ড কেনাবেচায় জড়িত অসাধু সম্পাদকদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজিতে সহায়তার দায়ে প্রচলিত দণ্ডবিধিতে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিধান চালু করা প্রয়োজন।
মাঠপর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনকেও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিতে হবে যেন সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া সড়কে যানবাহন থেকে অবৈধ ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার অপসারণে ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। তবে, কেবল প্রশাসনিক চাপই যথেষ্ট নয়, গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মফস্বল প্রতিনিধিদের ন্যূনতম সম্মানী প্রদান ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলে অনৈতিক চর্চার পথ অনেকটাই রুদ্ধ হবে। একই সাথে প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোকে দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ভুয়া সদস্যদের চিহ্নিত করে সদস্যপদ বাতিল করার দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
গণমাধ্যমের মূল চালিকাশক্তি হলো জনগণের আস্থা ও গণবিশ্বাস। সাধারণ মানুষ যখন দেখে যে প্রেস কার্ডধারী একজন ব্যক্তি অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত, তখন পুরো গণমাধ্যম ব্যবস্থার ওপর থেকেই সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যায়। প্রেস কার্ড কোনো ক্ষমতার লাইসেন্স নয় যে তা দিয়ে ট্রাফিক আইন ভাঙা যাবে কিংবা মানুষকে ভয় দেখানো যাবে, আর এটি কোনো বেচাকেনার পণ্যও নয় যে বাজারে তা অর্থের বিনিময়ে কেনাবেচা হবে। এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব, যা সমাজকে সঠিক তথ্য জানানো এবং সত্য তুলে ধরার জন্য একজন সংবাদকর্মীকে প্রদান করা হয়। গোটা কয়েক লোভী সম্পাদক, অসাধু প্রকাশক এবং অপরাধী চক্রের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজকে কলঙ্কিত হতে দেওয়া যায় না। সাংবাদিকতার গৌরব, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত সততা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে এই ‘কার্ড বাণিজ্য’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রশাসনিক তদারকি এবং সেই সাথে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে বলিষ্ঠ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।
লেখক : সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









