বাংলাদেশের পপসংগীতের অগ্রদূত, কিংবদন্তি শিল্পী আজম খান। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। দেশীয় পপসংগীতে আধুনিক ধারার সূচনা করে তিনি হয়ে ওঠেন এক প্রজন্মের স্বপ্ন ও সাহসের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী হলেও, প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে “পপসম্রাট” ও সংগীতগুরু হিসেবেই। আজ এই কিংবদন্তি জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক চেতনায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে সেক্টর ২ এর অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন। ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার সময় ‘অপারেশন তিতাস’সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে সাহসিকতার পরিচয় দেন এবং সেসময় আহতও হন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত তার গান ‘এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ এবং ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ তাকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ (রেললাইনের ঐ বস্তিতে)’ গানটি গেয়ে তিনি সংগীতাঙ্গনে তুমুল আলোড়ন তোলেন। তার কণ্ঠে উঠে আসে শহুরে জীবন, বঞ্চনা, প্রেম ও প্রতিবাদের গল্প যা তরুণ সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
তার অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘ওরে সালেকা, ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী’ প্রভৃতি। সহজ-সরল কথা, স্বতঃস্ফূর্ত সুর আর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তিনি তৈরি করেন এক স্বতন্ত্র ধারার সংগীত, যা আজও সমানভাবে আবেদনময়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









