ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে নেমে এলো গভীর শোক। প্রখ্যাত অসমিয়া সংগীতশিল্পী সমর হাজারিকা আর নেই। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আসামের নিজারাপুরে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি ছিলেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভূপেন হাজারিকার ছোট ভাই।
ভারতীয় একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সমর হাজারিকা। অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৫ দিন আগে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আর সুস্থ হয়ে ওঠা হয়নি।
অসমের সাংস্কৃতিক পরিসরে ভূপেন হাজারিকা যে শক্ত ভিত নির্মাণ করেছিলেন, সেই পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সমর হাজারিকা গড়ে তুলেছিলেন নিজের স্বতন্ত্র সংগীতভুবন। তার গান ও সুর ছিল সম্পূর্ণভাবে আসামের মাটি ও শিকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজ অনুভূতি ও দেশপ্রেমে ভরপুর।
সমর হাজারিকার বোন মনীষা হাজারিকা এই শোকের খবর জানিয়ে বলেন,“এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।”
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সংগীতচর্চায় নিবেদিত ছিলেন সমর হাজারিকা। তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক জনপ্রিয় অ্যালবাম। তিনি অসমিয়া সিনেমা ও রেডিওতে গান গেয়েছেন এবং সংগীত পরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তার গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘এ যে রণঙ্গনোর কাহিনি’ যা সৈনিকদের আত্মত্যাগ ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার এক আবেগঘন সংগীতচিত্র। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসে আসামজুড়ে এই গান আজও অনুরণিত হয়।
শুধু একজন সংগীতশিল্পী হিসেবেই নয়, বড় ভাই ভূপেন হাজারিকার সংগীত ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমর হাজারিকার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূপেন হাজারিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নানা সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
সমর হাজারিকার প্রয়াণে অসমিয়া সংগীতজগৎ হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে ।যিনি সুরে, কথায় ও চেতনায় আজীবন নিজের ভূমি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে গেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









