ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ বন্ধু থাকবে, সুসম্পর্ক বজায় থাকবে কিন্তু কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৪ ফেব্রয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমি ফেলানীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার মা–বাবার চোখে পানি নয়, রক্ত দেখে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী বন্ধু থাকবে, কিন্তু আমরা কোথাও কাউকে প্রভু মানব না, কোথাও কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। আমরা ক্ষমতায় গেলে আর কোনো ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলে থাকতে হবে না।’
কুড়িগ্রামের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ হলো প্রধান তিনটি নদী। বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষের চিন্তা শুরু হয়ে যায়, কখন কার বসতবাড়ি ভেসে যায়। এই নদীগুলোকে দিনের পর দিন একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি হত্যা করেছে। নদীভাঙন রোধে যত বাজেট হয়েছে সবগুলো তাদের পেটের ভেতরে গেছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে ওই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসব।’
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের আঠারো কোটি মানুষের বিজয়। যে তিস্তাপার থেকে চব্বিশের মুক্তির লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই তিস্তাপারের জেলা কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের সব থেকে অবহেলিত দারিদ্র্যপীড়িত নাম। এই তিস্তাপারের উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে সবাই কাজ পাবে। কেউ বেকার থাকবে না। প্রকৃত বিজয় তখনই হবে।’
নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে মায়েদের প্রতি বৈষম্য ও অসম্মান রয়েছে। সমান কাজ করেও নারী শ্রমিকেরা অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরি পান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থলে নারীরা শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান পাবেন।’
জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









