ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতে ইসলামী ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছে।
দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় জামায়াত ও এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই দল একসঙ্গে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমানে উভয় দলই নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা-১০ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি। এনসিপির কয়েকজন নেতার দাবি, সে সময়ও জামায়াত তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণেই দলটির এই অবস্থান ছিল।
এনসিপির একটি সূত্র দাবি করেছে, সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে জামায়াতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে আসিফ মাহমুদের অবস্থান দলটির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হতে পারে—এমন সম্ভাবনা ধরে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এনসিপি ইতোমধ্যে কয়েকটি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন আসিফ মাহমুদ। দলটির নেতারা বলছেন, আপাতত তারা এককভাবেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক সমঝোতা বা নির্বাচনী সমন্বয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, গত জুনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে জুলাই মাসে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ান। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জামায়াতের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে আসিফ মাহমুদের অবস্থান কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আসিফ মাহমুদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী?
এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে—আসিফ মাহমুদ কি ঢাকা দক্ষিণ সিটি থেকেই নির্বাচন করবেন, নাকি অন্য কোনো নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হবেন। এছাড়া রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তাঁর মতে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেটি আনুষ্ঠানিক জোট না হয়ে নির্বাচনী সমন্বয়ও হতে পারে।
তিনি আরও জানান, মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এনসিপির নির্বাচনী লক্ষ্য
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত সংখ্যক আসনে অংশ নেওয়ায় এনসিপির তৃণমূল সংগঠন প্রত্যাশামতো বিস্তৃত হয়নি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটি নিজস্ব প্রতীকে যত বেশি সম্ভব এলাকায় অংশ নিতে চায়।
প্রয়োজনে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেও অন্তত ৭০ শতাংশ এলাকায় নিজেদের প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে জামায়াত ও এনসিপির সম্পর্ক, সম্ভাব্য সমঝোতা এবং প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









