দেশের ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি গোলরক্ষক আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে হারলেও অবশেষে ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে অনেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন কিন্তু টেকনোক্র্যাট কোটায় (সংসদ সদস্য না হয়েও মন্ত্রী) কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদের মন্ত্রী হওয়ার নজির এটিই প্রথম।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিনুল হক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রীসভার মোট সদস্যের ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাট হতে পারেন। সাধারণত দলের প্রতি ত্যাগ, বিশেষ দক্ষতা ও অপরিহার্যতা বিবেচনায় এই কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়। আমিনুল হকের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ক্রীড়াঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতাই তাকে এই পদে আসীন করেছে।
নব্বইয়ের দশকে ফরাশগঞ্জ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আমিনুল আবাহনী, মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হয়ে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাফ জয়ে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়া ২০১০ এসএ গেমসে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেন এই তারকা গোলরক্ষক। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলারও ছিলেন তিনি।
অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, নব্বইয়ের দশকে ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে নিজের প্রথম ৯ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি আমিনুল। পাইওনিয়ার লিগে নৈপুণ্যের পর আমিনুলকে ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগের দল ইস্ট এন্ড ক্লাবে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ফুটবল থেকে অবসরের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দলের দুঃসময়ে তার ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবেই ক্রীড়াঙ্গন তাকে এই পদে দেখতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হলো।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে এর আগে সাদেক হোসেন খোকা, হারুনুর রশিদ, সালাম মুর্শেদী, মাশরাফি বিন মর্তুজা, নাজমুল হাসান পাপন ও সাকিব আল হাসানের মতো অনেকেই সংসদে গিয়েছেন। কিন্তু সংসদ সদস্য না হয়েও সরাসরি মন্ত্রীত্ব পাওয়ার রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন আমিনুল হক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









