সরকারি দল সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারি দল শপথ না নিয়ে তারা জুলাইকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে। এতে জন–আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট।’
এর আগে আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদরা শপথ গ্রহণ করলেও তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ ছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথের দিন। আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল গতকাল গভীর রাতে। যেটা আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়কও ছিল। তারপর আমাদের নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা এসেছিলাম শপথ নিতে। ইতিপূর্বে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ্য করেছি, একই দিনে একই সময়ে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো। এবারই বোধ হয় আপনারা তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করেছেন। সরকারি দল আমাদের আগে শপথ নিয়েছে।’
জামায়াতসহ ১১ দলকে সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল বলে জামায়াত আমির বলেন, ‘চিঠিতে বলা হয়েছিল, সংসদ সদস্য হিসেবে তারা প্রথমে শপথ নেবেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আরেকটা শপথ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হলে প্রবেশ করার পর সংসদ সচিব আমাদের জিজ্ঞেস করলেন ‘স্যার, সকালবেলা সরকারি দলের তারা শপথ নিয়েছেন। তারা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আপনারা কী করবেন?’ আমরা তখন বললাম যে আমরা দুটিরই শপথ নিতে এখানে এসেছি।’
দুটি শপথ নিতে এসেছেন, এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি যে ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। এই ছাব্বিশ সালের নির্বাচনটা হয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে।’
সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদিও তারা ব্যাখ্যায় বলেছে যে সংসদ বসে, প্রভিশন পিরিয়ড করে দেখবে। আমরা এটা দ্রুত দেখতে চাই। যদি তারা জুলাইকে সম্মান করে, যদি সংস্কারকে তারা ধারণ করে—আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন, তিনি নিজেও নির্বাচানি ক্যাম্পেইনে গিয়ে বলেছেন যে ‘আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন’—যদি এর প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল হন, আমরা মনে করি, তারা ওই শপথও নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘তারা কার কাছে শপথ নেবেন, সে দাবি আমরা করব না। ওনাদের পছন্দমতো অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির কাছে উনারা নিতে পারেন। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা দেখতে চাই, জুলাই সম্মানিত হয়েছে এবং জুলাই স্বীকৃত হয়েছে। জুলাইকে অসম্মান-অশ্রদ্ধা করে, স্বীকৃতি না দিয়ে ছাব্বিশের এই পার্লামেন্ট নিশ্চয়ই কোনো গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।’
এই সময় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১–দলীয় নির্বাচনি ঐক্যভুক্ত দলগুলোর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









