রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

দুর্নীতির প্রতিরোধ নিজের ঘর থেকে করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

দুর্নীতির প্রতিরোধ নিজের ঘর থেকে করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতির প্রতিরোধ আসলে নিজের ঘর, নিজের দল এবং মন্ত্রিসভা থেকে করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তার নিজের মন্ত্রিসভা এবং দলে যে সংসদ সদস্য রয়েছেন, তারা ঋণগ্রস্ত। তারা কবে ঋণ পরিশোধ করবেন? বাংলাদেশের মানুষ সেটা জানতে চায়। সেই ঋণ পরিশোধ করে তারপরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। কারণ, দুর্নীতির প্রতিরোধ আসলে নিজের ঘর, নিজের দল এবং মন্ত্রিসভা থেকে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যবসায়ী। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়াটা অপরাধ নয়। কিন্তু মন্ত্রিসভা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকা উচিত। কিন্তু যখন অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসায়ীদেরকে মন্ত্রিত্ব দিবেন, তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে না।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আছেন, যাদের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নমিনেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি, এই মন্ত্রিসভা গঠনেও আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি। খেলাপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি নাম না নিয়ে যদি বলি, সবচেয়ে বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন একজনকে দেওয়া হলো, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি। দলেও তিনি অত গুরুত্বপূর্ণ কেউ না। শুধুমাত্র আর্থিক ব্যবসায়িক এবং দুর্নীতির কারণেই তাকে সে মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। এরকম আরও ঋণখেলাপি রয়েছে যাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি। এসব সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।’

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী যে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কিন্তু এই মন্ত্রিসভা দেখে আমাদের কাছে কোনোভাবে মনে হয়নি পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং আমরা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা দেখতে পাচ্ছি। এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। অর্থাৎ এখানে একটা আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে স্পষ্টভাবে। এ মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। এই মন্ত্রিসভায় কিছু তরুণদেরকে নেওয়া হলেও কিন্তু মন্ত্রিসভার গড় বয়স কিন্তু ৬০ বছর। অর্থাৎ আমরা যে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের কথা বলেছি, তার প্রতিফলন এই মন্ত্রিসভায় দেখতে পাইনি।’ 

সাজ্জাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.