একসময় ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতা এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও রাজীব আহসান। এ ছাড়া আছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন আজাদ। দলীয় সূত্র মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়েই এই নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপির অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। দলটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির জন্য নেতৃত্ব তৈরি করে আসছে। এই সংগঠন থেকে উঠে আসা অনেক নেতা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও একসঙ্গে এতজন সাবেক ছাত্রনেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি দলের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে তাদের মত।
১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি গত মঙ্গলবার সরকার গঠন করে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভায় ২৫ জনকে মন্ত্রী ও ২৪ জনকে প্রতিমন্ত্রী করেছেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। রাজীব আহসান ও হাবিবুর রশিদ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর ফরহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা জাতীয় রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আলাদা ধরনের সক্ষমতা তৈরি করে। ক্যাম্পাসের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সাংগঠনিক দক্ষতা, দ্রুত পরিস্থিতির মোকাবিলা—এসব গুণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে। তাই নতুন দায়িত্বে তারা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
দলটির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এখন থেকেই দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া জরুরি। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণের এই পথ কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









