দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সব রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার (৯ নভেম্বর) নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ মুক্ত পরিবেশে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বাধাগ্রস্ত করতে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। অতীতেও এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু দেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার মূল প্রত্যাশা ছিল এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যেখানে জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা জনগণের অধিকার খর্ব এবং সাধারণ মানুষকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে দেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও নানা উপায়ে সেই অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মতোই বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আবারও একটি মহল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধের চেষ্টা করছে। তবে অতীতের আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভেদ থাকা উচিত নয়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে আসা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে এবং কোনো শক্তিই জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









