কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গান তৈরির প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল গুগল। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন সংগীত তৈরির এআই মডেল লিরিয়া ৩.৫ (Lyria 3.5) উন্মোচন করেছে। গুগলের গুগল ফ্লো মিউজিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া এই নতুন মডেল আগের সংস্করণের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত কণ্ঠ, উন্নত গানের কথা এবং আবেগপূর্ণ সুর তৈরি করতে সক্ষম।
গুগলের দাবি, লিরিয়া ৩.৫ শুধু গান তৈরি করবে না, ব্যবহারকারীর নির্দেশনা বা প্রম্পটও আগের চেয়ে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারবে। ফলে ব্যবহারকারী যে ধরনের গান বা অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইবেন, সেই অনুযায়ী গান তৈরি করা আরও সহজ হবে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন মডেলের অন্যতম বড় উন্নতি হয়েছে গানের কণ্ঠে। এআই-তৈরি কণ্ঠ এখন আরও স্বাভাবিক, স্পষ্ট এবং আবেগপূর্ণ শোনাবে। পাশাপাশি শব্দের উচ্চারণও আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে, যা গান শোনার অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তব করে তুলবে।
লিরিয়া ৩.৫-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি গানের কথা এবং সুরের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় রাখতে পারে। ব্যবহারকারী যে বিষয়, গল্প বা অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে নির্দেশনা দেবেন, এআই সেই অনুযায়ী গানের লিরিক ও সুর তৈরি করবে।
গুগল জানিয়েছে, এই মডেল ব্যবহার করে ৩০ সেকেন্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ তিন মিনিট দৈর্ঘ্যের গান তৈরি করা যাবে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী গানের গতি (টেম্পো) এবং দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করতে পারবেন।
এছাড়া গান তৈরির পর সেটির বিভিন্ন অংশও আলাদাভাবে সম্পাদনা করার সুযোগ থাকবে। যেমন—কণ্ঠ, ড্রাম, বেস কিংবা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের অংশ ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যাবে। এতে শিল্পী, কনটেন্ট নির্মাতা কিংবা সাধারণ ব্যবহারকারীরা নিজেদের সৃজনশীলতা আরও সহজে প্রকাশ করতে পারবেন।
লিরিয়া ৩.৫ মূলত আগের সংস্করণ লিরিয়া ৩-এর উন্নত রূপ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুগল প্রথম লিরিয়া ৩ উন্মোচন করেছিল। সেই মডেলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা লিখিত নির্দেশনা বা এমনকি একটি ছবি ব্যবহার করেও ছোট আকারের গান তৈরি করতে পারতেন।
পরে গুগল এই প্রযুক্তিকে তাদের আরও কয়েকটি সেবায় যুক্ত করে। ইউটিউব শর্টস-এর ড্রিম ট্র্যাক ফিচারের মাধ্যমে নির্মাতারা নিজেদের ভিডিওর জন্য কাস্টম সংগীত তৈরি করতে পারতেন। একইভাবে গুগল ভিডস প্ল্যাটফর্মেও ভিডিও নির্মাতাদের জন্য এআই-ভিত্তিক সাউন্ডট্র্যাক তৈরির সুবিধা যুক্ত করা হয়।
নতুন লিরিয়া ৩.৫ সেই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। গুগলের লক্ষ্য হলো, এআই ব্যবহার করে গান তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সংগীত তৈরির প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে। এখন শুধু সুর তৈরি নয়, বাস্তবসম্মত কণ্ঠ, অর্থবহ গানের কথা এবং ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নতুন গান তৈরির সক্ষমতাও বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সংগীতশিল্পী, ভিডিও নির্মাতা, বিজ্ঞাপন সংস্থা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজ আরও সহজ ও দ্রুত হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









