মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের জীববিজ্ঞানী ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান বলছেন, পরবর্তী মহামারির জন্য বিজ্ঞান ও চিকিৎসাব্যবস্থার প্রস্তুতি আগের চেয়ে ভালো হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো ভয়াবহভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
৬১ বছর বয়সী আনা ফের্নান্দেস-সেসমা একজন ভাইরোলজিস্ট ও ইমিউনোলজিস্ট। নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান তিনি। ১৯৯১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। স্পেনে জন্ম নেওয়া আনা ভাইরোলজিস্ট আদোলফো গার্সিয়া-সাস্ত্রেকে বিয়ে করার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। আদোলফোও একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং মহামারির জন্য দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।
সম্প্রতি মার্গারিতা সালাস ফাউন্ডেশন ও স্প্যানিশ সোসাইটি ফর ভাইরোলজি তাকে সম্মানিত করেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা এল পাইস-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন পরবর্তী মহামারি, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে গবেষণার অর্থায়ন নিয়ে।
প্রশ্ন: পরবর্তী মহামারির জন্য আমরা কি আগের চেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসার দিক থেকে আমরা আগের চেয়ে ভালো প্রস্তুত। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়ও বেড়েছে। কিন্তু সমাজ হিসেবে আমরা বরং পিছিয়ে গেছি। মহামারি মোকাবিলার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের ধারণাটিই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
আমরা যে ভালো জীবনযাপন করছি, তার পেছনে টিকার বড় ভূমিকা আছে—এ কথা আমরা ভুলে যাই। স্পেনে আমি পোলিও আক্রান্ত শিশুদের দেখেছি। এসব ভয়াবহ ঘটনা ঠেকাতে যে সবার স্বার্থে কিছু ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, সেটি আমরা আর বুঝতে চাই না। এখন মনে হয়, নিজের স্বার্থই সবকিছু; অন্যদের কী হলো, তাতে কারও কিছু যায় আসে না।
প্রশ্ন: মহামারি মোকাবিলায় কি কোনো ভুল হয়েছিল?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
অবশ্যই। কেউ কেউ এমনভাবে কথা বলেছেন, যেন তাদের সব বক্তব্যই শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু বিজ্ঞান সব সময় এতটা নিশ্চিত নয়। টিকার ক্ষেত্রেও আমরা মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত আশা তৈরি করেছিলাম।
আমাদের বলা উচিত ছিল—যে অল্প সময়ের মধ্যে টিকা তৈরি করতে হয়েছে, তাতে সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু টিকা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কমাতে পারে। আমরা সেটি যথেষ্ট পরিষ্কার করে বলতে পারিনি। ফলে কিছু মানুষ বিজ্ঞানীদের ওপর আস্থা হারিয়েছে।
প্রশ্ন: সেই আস্থা কি আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
সম্ভব। কোভিডের সময় এক নারী আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আমি কি আমার সন্তানকে টিকা দেব?’
আমি তাকে বলেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিডে প্রায় ৮০০ শিশু মারা গেছে, অথচ টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় কোনো শিশু মারা যায়নি। আমার কাছে ঝুঁকি ও উপকারের হিসাব করলে টিকা দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত। তবে শেষ সিদ্ধান্ত তার।
যারা টিকার বিরুদ্ধে একেবারে অনড়, তাদের মত বদলানো কঠিন। কিন্তু যারা দ্বিধায় আছে, তাদের বোঝানো সম্ভব। আবার এমন অনেক পুরুষও আছেন, যারা প্রকাশ্যে টিকার বিরোধিতা করেন, কিন্তু নিজেরা টিকা নেন। তারা নিজেদের একটি বিশেষ ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চান।
প্রশ্ন হলো—টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর কত শিশু মারা যেতে হবে?
প্রশ্ন: সম্প্রতি ইঁদুর থেকে হান্টাভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা এবং বাদুড়ের সংস্পর্শ থেকে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা গেছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
ইবোলা একটি সময়-বোমার মতো। ভাইরাসটি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে ইবোলায় আক্রান্ত প্রায় সবাই মারা যেত। এখন আক্রান্তদের মধ্যে আরও বেশি মানুষ বেঁচে যাচ্ছেন। ভাইরাসটি হয়তো কম প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রতিটি প্রাদুর্ভাব তাকে পরিবর্তিত হওয়ার, নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে।
প্রশ্ন: পরবর্তী মহামারি কেমন হবে, তা কি আগে থেকে জানা সম্ভব?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
পরবর্তী মহামারি কোন ভাইরাস ঘটাবে, তা বলা কঠিন। তবে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের ঝুঁকি বেশি। কারণ এগুলো খুব দ্রুত ছড়ায় এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তাই আমাদের দরকার শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা, দ্রুত রোগ শনাক্ত করার প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানুষ। কোথায় রোগ ছড়াচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করতে হবে এবং ভাইরাসের নতুন ধরনগুলোর জিনগত বৈশিষ্ট্যও পরীক্ষা করতে হবে।
ভাইরাস অনেকটা লটারির মতো। কিন্তু আমাদের লটারি খেলা উচিত নয়। অথচ বন উজাড় ও পর্যটনের মাধ্যমে আমরা সেই ঝুঁকিই বাড়াচ্ছি।

প্রশ্ন: কীভাবে?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
সম্প্রতি আমি ব্রাজিলের পান্তানাল অঞ্চলে একটি প্রকল্পে কাজ করেছি। সেখানে একটি কোম্পানি জলাভূমির মাঝখানে বিলাসবহুল হোটেল বানাতে চেয়েছিল। সেখানে পর্যটকেরা ছবি তুলবেন, আর বলা হয়েছিল এই প্রকল্পের মাধ্যমে জাগুয়ার সংরক্ষণ করা হবে।
আমাদের অর্থ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কী ধরনের ভাইরাস আছে তা খুঁজে দেখতে। আমরা কিছু প্রাণীকে নজরদারির জন্য ব্যবহার করে এমন কয়েকটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসের সন্ধান পাই, যেগুলো প্রায় ৪০ বছর ধরে দেখা যায়নি।
সেখানকার শ্রমিকেরা এক মাস কাজ করে তারপর কয়েক লাখ মানুষের শহরে ফিরে যেতেন। বিপজ্জনক ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ঢোকার ঘটনা বা ‘স্পিলওভার’ সাধারণত এমন সীমান্তবর্তী এলাকাতেই ঘটে।
এশিয়ায় বিদেশি প্রাণী বিক্রির বাজারে এমন ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্রাজিলে বন উজাড় করা এলাকায়। দেশটিতে সর্বশেষ বড় হলুদ জ্বরের প্রাদুর্ভাবের সময় বানরদের পালানোর মতো আবাসস্থল ছিল না। তারা উপকূল ও শহরের দিকে চলে আসে। শেষ পর্যন্ত ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে টিকা দিতে হয়েছিল, অথচ পর্যাপ্ত টিকা ছিল না।
প্রশ্ন: বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি জৈবচিকিৎসা গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ বা এনআইএইচের বাজেট কমানোর প্রভাব কী?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
এনআইএইচকে কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গবেষণার অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে, অথচ সেটি পুনর্গঠনের কোনো পরিকল্পনাও নেই। ফলে গবেষণার কাজ এখন অনেকটাই টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হবে।
এক রাতের মধ্যে অ্যান্টিভাইরাস গবেষণার অর্থ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই অর্থ ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বাধীন কয়েকটি অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। আদালতের সিদ্ধান্ত আসতে কয়েক মাস লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হলেও গবেষকদের হাতে তা খরচ করার জন্য মাত্র ১৪ দিন ছিল।
এখন আবার সার্বজনীন ফ্লু টিকা তৈরির গবেষণা কর্মসূচি, এমনকি এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাও বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৯৪০-এর দশকের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি টিকা তৈরিতে ৫০ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে—যেন সেটিই আধুনিক প্রযুক্তি। এর পক্ষে কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই।
প্রশ্ন: এমন পরিস্থিতিতেও কি উচ্চমানের বিজ্ঞানচর্চা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
আমরা এখন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছ থেকে গবেষণার অর্থ খুঁজছি। তারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সেনা মোতায়েন করে। তাই সেনাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণায় তারা অর্থ দেয়।
এই অর্থ স্বাস্থ্যসচিব রবার্ট এফ. কেনেডির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এনআইএইচে সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণার যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, প্রতিরক্ষা দপ্তরের অর্থায়ন এখন তার কিছুটা পূরণ করছে।
তবে সমস্যা হলো, ট্রাম্প প্রশাসন এই দপ্তরের নাম ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা ‘যুদ্ধ দপ্তর’ করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এই অর্থ যেন অনন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার না হয়।
প্রশ্ন: এখন কি কিছু শব্দও নিষিদ্ধ হয়ে গেছে?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
হ্যাঁ—‘জলবায়ু পরিবর্তন’, ‘বৈচিত্র্য’ এবং ‘জেন্ডার’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। এটি আমাকে স্পেনের ফ্রাঙ্কো আমলের সেন্সরের কথা মনে করিয়ে দেয়।
তবে তখন যেমন সেন্সর এড়িয়ে কাজ করা সম্ভব হয়েছিল, এখনও সম্ভব। কেউ কেউ সরাসরি প্রতিবাদ করছেন। আমি অন্য ধরনের প্রতিরোধ করি। কোনো গবেষণা অনুদানের আবেদনে যদি এসব বিষয় উল্লেখ না করেও কাজ চালানো যায়, আমি শব্দগুলো ব্যবহার করি না।
ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ করে বিজ্ঞানের প্রতি বৈরী। তবু আমাদের তাদের সঙ্গেই কাজ করতে হবে। যা ঘটছে তা ভালো নয়। কিন্তু এর ফলে আমরা আবার ভাবতে বাধ্য হচ্ছি—বিজ্ঞানের কথা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাব এবং বিজ্ঞানকে কীভাবে দৃশ্যমান করে তুলব।
আমরা হয়তো কিছুটা আত্মতুষ্ট হয়ে পড়েছিলাম। এখন প্রতিকূল সময়ের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে নিজের কাজের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুভব করছি।
প্রশ্ন: এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে কে?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
চীন। চীনা বিজ্ঞানী এবং চীনের সঙ্গে কাজ করা গবেষকদের ওপর অযৌক্তিক মাত্রায় নজরদারি করা হচ্ছে। চীন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। তারা শুধু চীনা বিজ্ঞানীদের নয়, বিশ্বের অন্য দেশের মেধাবী গবেষকদেরও আকৃষ্ট করছে।
যুক্তরাষ্ট্র যাতে চীনের কাছে পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো উল্টো চীনের অগ্রগতিকে আরও দ্রুত করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক বছরেই আমরা ৩০ বছর পিছিয়ে গেছি।
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
প্রশ্ন: ইউরোপের জন্য এখন কী সুযোগ দেখছেন?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
আমি ইনস্টিটিউট পাস্তুরের বৈজ্ঞানিক পরিষদের সদস্য। গত এক বছরে সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় দশ গুণ বেড়েছে। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে ফিরতে চান।
ফরাসি সরকারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসতে চান এমন ফরাসি গবেষকদের জন্য বিশেষ অর্থায়ন চালু করেছে। ইউরোপ এখন বিশ্বের সেরা গবেষকদের আকৃষ্ট করার সুযোগ পেয়েছে। তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
প্রশ্ন: স্পেনের অবস্থা কেমন?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
স্পেনের সক্ষমতা সীমিত। তবে সরকার বিজ্ঞান খাতে ভালো বিনিয়োগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্পেনের পোস্টডক্টরাল গবেষকদের চাহিদা অনেক।
আমাদের প্রয়োজন কম আমলাতন্ত্র এবং দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল গবেষণা অর্থায়ন।
প্রশ্ন: আপনি কি স্পেনে ফিরে গিয়ে কাজ করতে চান?
আনা ফের্নান্দেস-সেসমা:
এখনই নয়। গত তিন বছর ধরে আমি একটি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছি। সেখানে বেশ কয়েকজন তরুণ গবেষককে নিয়ে এসেছি। এখন আমার দায়িত্ব হলো, তারা যেন নিজেদের বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
কঠিন সময় শুরু হয়েছে বলে আমি যদি এখন চলে যাই, তাহলে আমি কেমন নেতা হলাম?


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









