কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম আলটম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও অ্যামোডেইয়ের। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এ তথ্য জানিয়েছেন।
এই বৈঠকে হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লেমঁ দেলাংও অংশ নেবেন। থাকবেন ইউনিভার্সিতে দ্য মন্ট্রিয়ালের অধ্যাপক ইয়োশুয়া বেংজিওও। তিনি জাতিসংঘের এআই-বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের সহসভাপতি।
ব্লুমবার্গ প্রথম এই বৈঠকের খবর প্রকাশ করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিউইয়র্কে চলার মধ্যেই বুধবার বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।
এমন এক সময়ে এই বৈঠক হতে যাচ্ছে, যখন এআইয়ের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। গবেষকদের একাংশ সতর্ক করে আসছেন, উন্নত এআই ব্যবস্থা মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও এআই কত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া উচিত এবং এর ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে—এসব প্রশ্ন নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই নিয়ে বিপদের সতর্কতাকে বারবার ‘হোক্স’ ও ‘স্ক্যাম’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও তিনি নতুন এই প্রযুক্তির বিকাশে উৎসাহ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অথচ ওপেনএআইয়ের আলটম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের অ্যামোডেই উন্নত এআই মডেলের বিকাশের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
ট্রাম্প বলেন, শিল্পবিপ্লবের চেয়েও বড় হয়ে উঠতে পারে এমন কোনো প্রযুক্তির বিকাশ তিনি থামাতে চান না। তার ভাষায়, অনেকেই মনে করেন এআই শিল্পবিপ্লব কিংবা ইন্টারনেটের চেয়েও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এদিকে এআইয়ের সক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায়। জুলাইয়ে ওপেনএআই জানায়, তাদের কিছু এআই মডেল পরীক্ষার নির্ধারিত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাগিং ফেসে থাকা একটি উন্মুক্ত-সোর্স ডেভেলপার প্ল্যাটফর্মে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছিল। ঘটনাটি উন্নত এআই মডেল কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব—সে প্রশ্ন নতুন করে সামনে আনে।
এর পর অ্যানথ্রপিকও তাদের এআই মডেলকে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তার কয়েকটি ঘটনার কথা প্রকাশ করে। ওপেনএআইও জানায়, মার্চের পর থেকে তাদের স্বয়ংক্রিয় এজেন্টগুলোতে আরও কয়েকটি উদ্বেগজনক আচরণ দেখা গেছে।
সম্প্রতি গুগলও জানায়, তাদের জেমিনি মডেল আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ব্যবস্থায় ঢুকে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে।
ফলে এআই নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতি কত দ্রুত হবে—সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্নটি ক্রমেই বড় হচ্ছে: এমন এক প্রযুক্তি, যার সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং যে কখনো কখনো মানুষের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে, তাকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে? আর সেই নিরাপত্তার নিয়ম কে নির্ধারণ করবে—প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকার, বিজ্ঞানী, নাকি আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠান?
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকটি সেই বৃহত্তর বিতর্কেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হয়ে উঠতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









