জ্বালানি তেলের একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা মূল বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বরিশাল। এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখা।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১১টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলচত্বরে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও সিপিবি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের বরিশাল জেলা সদস্য বীরেণ রায়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দুলাল মজুমদার, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের বরিশাল জেলা উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ।
বক্তারা বলেন, এমনিতেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তার ওপর তেলের দাম বাড়ানোয় পরিবহন, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ একযোগে বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের ওপর, যা জনজীবনকে চরম সংকটে ফেলবে।
তথ্য তুলে ধরে নেতারা জানান, ডিজেলের দাম ১৭.৮ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় সেচ ও কৃষিপণ্য উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়বে। এছাড়া কেরোসিনের দাম ১২৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬২ টাকা করায় গ্রামীণ ও শহরের প্রান্তিক মানুষ চরম বিপর্যয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, বিগত ১১ বছরে সংস্থাটি প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা সামাল দিতে কোনো জরুরি তহবিল গঠন করেনি। উপরন্তু গত পাঁচ মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার চরম জনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জোর দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









