সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

জোটে ঢুকে ভোটে জিতলেও হেরেছে ‘জেন-জি স্পিরিট’

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

জোটে ঢুকে ভোটে জিতলেও হেরেছে ‘জেন-জি স্পিরিট’

চব্বিশের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সাথে নির্বাচনী জোটে যাওয়ায় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়ে। এনসিপি নেতারা একে ‘নির্বাচনী সমঝোতা’ বললেও, সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ও দলের ভেতরে ভোটের আগেই ক্ষোভ তৈরি হয়। 

অতিসম্প্রতি বৃটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে জেন-জি অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনের সংসদে মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছে যুবনির্ভর দল এনসিপি। তাদের এই ফলাফলে রাজপথের শক্তিকে ভোটে রূপান্তর করার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তি যে দলটির খুঁটি, জামায়াত জোটে যোগ দেয়ায় সেই তা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ‘আদর্শিক সংঘাতে’ দলটি থেকে পদত্যাগের হিড়িক পড়ায় তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। জুলাই যোদ্ধারাই এখন এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ। তাঁরা বলছেন, জামায়াতের সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া এনসিপির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের সামনে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি) আত্মপ্রকাশ করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এটি জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল। দলটির ১৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি এবং পরে ১৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলটিতে ডানপন্থী, বামপন্থী, ইসলামপন্থী, মার্ক্সবাদী, নারীবাদীসহ বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এই দলটি মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তির ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়। 

সমালোচনা ও বিতর্কের প্রধান প্রধান দিক : মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয় এমন চরম ডানপন্থী ও ইসলামপন্থী দল জামায়াতের সাথে জোট করায় এনসিপির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ছাড়া জোটের সিদ্ধান্তে এনসিপির ভেতর থেকেই অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়। জনমনে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এই জোটকে ‘সুযোগ সন্ধানী রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং দলের নেতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। 

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা নির্বাচনী আসন ভাগাভাগির সমীকরণ হলেও, এনসিপির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এনসিপি নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনী স্বার্থে বা কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই কৌশলগত জোট করা হয়। জামায়াতের জোটে যাওয়ার যুক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ মূলত রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবির মতো ইস্যুগুলোতে মতৈক্যের কারণে গড়ে ওঠে। সংস্কার ইস্যুতে অবস্থানের মিল থাকায় আসন সমঝোতা এবং যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্যে তারা একে-অপরের কাছাকাছি আসে। এর মূল কারণ হলো, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় ও  সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে অবস্থানগত মিল। 

এ ছাড়া এনসিপি মনে করে, সংস্কারের দাবি বাস্তবায়নে জামায়াতের মতো সুসংগঠিত দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করা সুবিধা। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সমমনা দলগুলোর সাথে কাজ করার অংশ হিসেবে এই সমঝোতা হলেও, পরে তাদের মধ্যে কিছু ইস্যুতে টানাপড়েন বা দূরত্বের খবরও পাওয়া যায়। এনসিপির ৩০ কেন্দ্রীয় নেতা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শীর্ষ নেতার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত জোটের অংশ হিসেবে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এনসিপি। দলটির দাবি, ঢাকায় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিহত হওয়ার পর বড় রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন প্রয়োজন হওয়ায় তারা জোটে যায়।

এনসিপি থেকে পদত্যাগের হিড়িক : জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতার প্রেক্ষাপটে নারী সদস্যদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়, পরিচিত মুখ ও সম্মুখ সারির দুই নারী নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। এই দুজন হলেন- এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেত্রী তাসনিম জারা এবং তাজনূভা জাবীন। কেউ কেউ নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি দলের ও নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকবেন না। এইতো সেদিন ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন, জুলাইযোদ্ধাদের বঞ্চিত করাসহ নানা অভিযোগ তুলে হবিগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদসহ ১৩ নেতা পদত্যাগ করেন। 

তাঁদের অভিযোগ, কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসন এবং জুলাইযোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়। পলাশ মাহমুদ ছাড়াও পদত্যাগকারীরা হলেন- জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্যসচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ। এর আগে পদত্যাগ করেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরো চার নেতা। তাঁরা হলেন- যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল। 

তাঁদের মতে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে যোগদান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যাঁরা এনসিপি গঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, তারা যখন এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, তা দলটিকে অস্বস্তিতে এবং এক ধরনের সংকটে ফেলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদিও এনসিপি নেতৃত্ব পরিস্থিতিটাকে তাদের দলের জন্য সংকট হিসেবে স্বীকার করতে রাজি নন।

এনসিপির চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনের আগে এনসিপি ও জামায়াত যে জোট গঠন করেছে, তা নির্বাচনকালীন ভোটের হিসাব-নিকাশে একটি নতুন সংযোজন। শুধু জোট গঠনের ঘটনাই নয়; বরং এর আগের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং তাপরই যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রথম দিকে এনসিপি তরুণদের মাঝে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। জামায়াত বা বিএনপির বলয়ের বাইরে থেকে একটি তৃতীয় শক্তি হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আবির্ভূত হওয়ার প্রত্যয় তাদের নেতাদের পক্ষ থেকে প্রায়ই শোনা গিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল এবং ১ হাজার ৪৮৪টি মনোনয়ন ফরমও বিক্রি করেছিল। কিন্তু সে অবস্থান খুব বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি দলটি। খুব দ্রুতই তারা নির্বাচনসঙ্গী খোঁজায় তৎপর হয়ে ওঠে। 

এনসিপি শুরু থেকেই সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক অবয়বে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। তাদের রাজনীতির ভাষ্য মূলত এমন জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে, যারা সেকুলার রাজনীতিকে পছন্দ করে, কিংবা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি কিছুটা অনাগ্রহী, অথবা প্রচলিত ও গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে ভিন্ন ধরনের রাজনীতির স্বপ্ন দেখে। এই শ্রেণির ভোটারদের কাছে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার ফলে এনসিপির আবেদন কিছুটা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। 

এখন জুলাই আন্দোলনের নেতারাই বলছেন, এনসিপির ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে। বান্দরবানে এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মোহাম্মদ এরফানুল হকের মতে, ‘৫ আগস্টের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে সারাদেশে এনসিপির অবস্থা ভালো নয়। তাদের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ তিনি বলেন, এনসিপির নেতৃত্ব ২০২৪-এর আগস্টের আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে গিয়েছে। দলটি এখন বাংলামোটরের কতিপয় ব্যক্তির দলে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, ‘এনসিপি এখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে গিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে। তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’

রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভোটাররা বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি)। দলটি এর আগে তিন দফা দেশ শাসন করেছে—সবশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। সেই দলটি ভোটে জেতায় এনসিপি বলছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে জিতেছে বিএনপি। অথচ জুলাই আন্দোলনকারীরা বলছেন অন্য কথা। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনের পর মানুষের যে আশা-স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট করা আমাদের মতো অনেক তরুণ ভোটারের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হয়েছে।’ 

অবশ্য এনসিপির জয়ী ছয় প্রার্থীর একজন ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী ও দলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘আমরা মাত্র যাত্রা শুরু করেছি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে নামার সময় যে প্রকৃত পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই দীর্ঘ পথচলায় আমরা এগোতে চাই।’

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদের মতে, এই জোটই তরুণ ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেকেই এটিকে নতুন রাজনীতির সূচনা নয়, বরং পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন। এতে তরুণ ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি আরও সংগঠিত ও শাসনে সক্ষম বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।’

ভোটের পরে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানালেন, দলটি বিরোধী অবস্থান থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুত্ব দেবে। কিন্তু অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘এনসিপি যদি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় পুনর্গঠন করতে না পারে এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা দেয় এমন জোট থেকে দূরে না থাকে, তবে তারা বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার বদলে প্রতীকী আন্দোলন হিসেবেই থেকে যাবে।’

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.