রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

জনস্বাস্থ্যের ‘ব্যাধি’ আউয়াল!

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২২ পিএম

জনস্বাস্থ্যের ‘ব্যাধি’ আউয়াল!

সরকার যখন রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা দুর্নীতি ও প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করতে কাজ করছে, ঠিক তখনই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সাবেক কুয়েট ছাত্রলীগ নেতা ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের অবিশ্বাস্য উত্থানে স্তম্ভিত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একাধিক পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

জানা যায়, মো. আব্দুল আউয়াল মূলত গ্রেড-৫ এর একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। চলতি দায়িত্বে তিনি ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অথচ গত বছরের ১৭ নভেম্বর ৩ জন যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাকে রহস্যজনকভাবে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ‘রুটিন দায়িত্ব’ দেয়া হয়। 
আওয়ামী সরকারের আমলে আব্দুল আউয়াল স্থানীয় এমপির প্রভাব ব্যবহার করেছেন। বঅন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর মাধ্যমে। 

জানা গেছে, তিনি বড় আকারের দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কথিত ভাতিজাকে সামনে রেখে নিজের অনিয়মিত ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্পদ গড়েছেন দেশে এবং বিদেশে। নির্বাহী প্রকৌশলী (গ্রেড-৫) এর কর্মকর্তা হলেও তিনি প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রকৌশলী আউয়াল এবং সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উভয়ই ময়মনসিংহ জেলার। আর্থিক লেনদেনের পর প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পাবার নথি দ্রুত গতিতে প্রক্রিয়ায় আসে। প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগের আগে গত মে মাসে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) থেকে ৫ কর্মকর্তার মূল্যায়ন প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষপদে নিয়োগের জন্য এনএসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন প্রতিবেদন নেয়া অপরিহার্য। এতে কর্মকর্তার কর্মকাল ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা দেখা হয়নি। 

সূত্রের দাবি, নিয়োগে বড় অংকের টাকা লেনদেন নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। মূল্যায়ন প্রতিবেদন চাওয়া হলে নেতিবাচক ফলাফল আসার আশঙ্কা থাকায় তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তাকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার পর এনএসআই প্রতিবেদন জনসমক্ষে চলে আসে। কি কারণে এই প্রতিবেদন আড়ালে রাখা হয় তা অজ্ঞাত।
নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং নিজে ঠিকাদারিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নরসিংদীতে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তিনি ঘুষের বিনিময়ে তা বন্ধ করেন। সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর একই জেলায় অবস্থানের কারণে আউয়াল আবার ক্ষমতাবান হন। পুরনো সিন্ডিকেট নতুনভাবে গড়ে ওঠে। এদিকে আব্দুল আউয়ালের প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নিয়ে হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তি ঠিকাদারি করছেন। তিনি নিজ নামের পাশাপাশি নূর ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করছেন। এসব টেন্ডারের কাজ আব্দুল আউয়াল তার ভাতিজার নাম ব্যবহার করে নিজেই করে থাকেন।

আরো জানা যায়, প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল এতদিন নিজেকে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ বলে পরিচয় দিয়ে এসেছেন বরাবর। তৎকালীন আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার ছিলেন আউয়াল সিন্ডিকেটের অন্যতম ব্যক্তি। এমপি আব্দুস সাত্তারের প্রভাব খাটিয়ে প্রকৌশলী আউয়াল ২০১৭ সালে নরসিংদী থেকে নিজ জেলা ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ থেকে শুরু করে নিজেই ঠিকাদারিসহ নানা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। 
এর আগে নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় সেখানেও ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ঘুষের বিনিময়ে তা ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে চলতি দায়িত্বে সিলেট বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দেড় বছর দায়িত্ব পালন করার পরপরই, তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সহযোগিতায় আবারও নিজ জেলা ময়মনসিংহ সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। সরকারি এই পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ জেলায় এভাবে লাগাতার দীর্ঘকাল কর্মরত থাকার ঘটনা নজিরবিহীন।

বিগত সরকারের মদতদাতা আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শুধু ময়মনসিংহ নয়, দেশের অন্তত ১৩টি জেলায় প্রভাব বিস্তার করেন। সার্কেলের বিভিন্ন উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের মাধ্যমে তার দুর্নীতির চক্র গড়ে ওঠে, যারা টেন্ডার থেকে শুরু করে বিল উত্তোলনের প্রতিটি ধাপে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল ছাড়েন না। বিভিন্ন প্রকল্পের মালিকানা কাগজে-কলমে থাকে ঠিকাদারদের হাতে, বাস্তবে সিন্ডিকেটই নিয়ন্ত্রণ করে সবকিছু। সুবিধাভোগীরা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন কি না, তা দেখার জন্য আইএমইডি একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাতেই ধরা পড়েছে সব অনিয়ম ও দুর্নীতি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে কাজের নিবিড় পরিবীক্ষণব্যবস্থা দুর্বল থাকায় নকশা অনুযায়ী কাজ হয়নি। জনগণের চাহিদা বিশ্লেষণ না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আলোচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল ‘ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীণ পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্প’ যার বাজেট ছিল প্রায় শত কোটি টাকা। অভিযোগ, এ প্রকল্পের কাজের গুণগতমান একেবারেই নিম্নমানের হলেও কাগজে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। একইভাবে ত্রিশাল উপজেলার স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্পে’প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও মাঠ পর্যায়ে তার অর্ধেক কাজও সঠিকভাবে হয়নি।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহের দুই প্রকল্পে অবস্থাও তথৈবচ। ময়মনসিংহের ‘ক’ ক্যাটাগরিভু ‘গৌরীপুর পৌরসভার শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধিনে প্রথম ধাপে ব্যয় করা হয় ২ কোটি ৭লাখ ১৩ হাজার ৫৯০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় হয় ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭ হাজার ৯২০ টাকা। পৌরসভার পাম্পচালক পদে দুই কর্মচারীর বেতন দেয়া হয়েছে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই অর্থব্যয়ে শহরবাসীর ভাগ্যে জোটেনি এক ফোঁটাপানি। পানি সরবরাহের সব টাকাই জলে গেছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় হওয়ায় সচিবের আর্শীবাদে  রাজনৈতিক পট পরিবর্তনেও আব্দুল আউয়াল লেবাস পরিবর্তন করে আবার ক্ষমতাবান হয়ে উঠেন। পুরনো সিন্ডিকেট আবার নতুন করে গড়েন। উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদার হতে চেয়েছিলেন প্রধান প্রকৌশলী। কিন্তু ঘটনা আগাম ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়াও তাতে বেকায়দায় পড়েন। এই সুযোগটিই নেন সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। নিজের এলাকার লোক- এ কথা বলে উপদেষ্টাকে রাজি করিয়ে আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়ার ব্যবস্থা করেন সচিব। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পেলেও মো. আব্দুল আউয়ালের পুরনো চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দ্রুত সময়ে তার খরচের টাকা ওঠানোর জন্য সে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এমনকি প্রকল্প পরিচালকদের কাউকে কাউকে সরিয়ে দেয়ার জন্য পরোক্ষভাবে হুমকি প্রদান করছেন। সম্প্রতি নোয়াখালী জেলায় সংঘটিত একটি কেলেঙ্কারি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নোয়াখালীতে প্রায় পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপনীয়ভাবে নিলামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডা অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। এতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। এ সুযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেসার্স শাহনাজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৬ কোটি টাকার মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক জনকন্ঠ ও এখন টিভির বরাতে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি কোনো নিলাম দিইনি। নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে। এর সত্যতা সম্পর্কে ধারণা করা যায় কিছু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপিএইচই এইচআরডি সেন্টারের এক কর্মচারী জানান, গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নোয়াখালী জেলায় ব্যবহৃত গাড়ি ঢাকায় দেখা যায় মহাখালীর একটি ব্যাংকের সামনে। সেখান থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা উঠিয়ে লোক মারফত ডিপিএইচই সেন্ট্রাল ল্যাবে সাময়িক বসবাসরত আব্দুল আউয়ালের প্রতিনিধির কাছে প্রেরণ করা হয়। এ তথ্যের সাথে সাইফুল ইসলামের বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় ৬ কোটি টাকার মালামালের নিলাম আব্দুল আউয়ালের অনুমতি ও নির্দেশনার মাধ্যমে হয়েছে। এখান থেকে বড় একটা অংশ আব্দুল আউয়াল ও সচিব জাহেদির পকেটে গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এর সত্যতা মিলবে। 

সচিব জাহেদীর ছত্রছায়ায় আব্দুল আউয়াল নিজেকে সব নিয়মের ঊর্ধ্বে মনে করছেন। সম্প্রতি সবার অগোচরে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত) হবার আবেদন করেছেন এবং বর্তমানে আবেদনটি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 
সূত্রে জানা যায় তিনি ইতিমধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত) হয়ে গেছেন তবে পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি গোপন রেখেছেন। ঘটনা সত্য হলে ২৫ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে একক ফাইল অনুমোদনের একটি নজির স্থাপিত হবে। এখানেই তিনি থেমে নেই। পছন্দের কিছু জুনিয়র কর্মকর্তাকে অনিয়মের মাধ্যমে, আদালতের রায় অমান্য করে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (গ্রেড-৫) পদের পদোন্নতি প্রদানের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন।
এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে এবং বাংলাদেশের ৯০ বছরের পুরনো জনকল্যাণে নিবেদিত সরকারি এ প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ধ্বংস অনিবার্য।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি এদিনকে বলেন, আমি একটা মিটিংয়ে আছি ফ্রি হয়ে আপরার সঙ্গে কথা বলব। এরপর কয়েকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি । 
অধিদপ্তরের নথিপত্র অনুযায়ী, আব্দুল আউয়াল ১৯৯৮ সালে প্রকল্পে যোগদান করেন। ২০০৬ সালে রাজস্ব খাতে এলেও তার চাকরি নিয়মিত হয় ২০১৩ সালে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার নিয়মিতকরণের তারিখের আগে অন্তত ২০ জন নিয়মিত ও যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু সবাইকে পাশ কাটিয়ে তাকে শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে, যা অধিদপ্তরের ইতিহাসে বিরল।

আব্দুল আউয়ালের এই ‘উল্কাগতি’ কেবল প্রধান প্রকৌশলীর পদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গত ৪ জানুয়ারি তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর (পূর্ত) পদে চলতি দায়িত্ব পাওয়ার আবেদন করেন। জনশ্রুতি আছে, এক ‘অজ্ঞাত জাদুকরী প্রক্রিয়া’ সেই আবেদন রকেটের বেগে অনুমোদিত হয় এবং মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ১১ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। মো. আব্দুল আউয়াল নরসিংদীতে চলতি দায়িত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় একটি প্রকল্প কাজে নয়ছয় করেন এবং চরম অদক্ষতার পরিচয় দেন। যার কারণে তাকে বারংবার নরসিংদী জেলা থেকে সরিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হলেও অর্থের বিনিময়ে সেখানে থেকে যান। সে ঠিকাদারদের মানুষ বলে গণ্য করেন না। তবে চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলে যেনতেনভাবে কাজ করলেও বিলে কোনো সমস্যা হয় না। নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ এই দুই জেলায় থাকা অবস্থায় মো. আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে দরপত্র কাগজ টেম্পারিং এর মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্ব পালনকালে ‘কুলাউড়া ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ প্রকল্প’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পান। তার অযোগ্যতা ও অদুরদর্শিতায় জানুয়ারী’ ২০২০-ডিসেম্বর’ ২০২২ মেয়াদের এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর আগেই তা মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগে তিনি বিপুল অর্থ পকেটস্থ করেন। কোনো কিছুর দায়িত্ব না নিয়ে তিনি বিশেষ মহলকে খুশি করে নিজ জেলা ময়মনসিংহ সার্কেলে বদলি হয়ে আসেন।

ময়মনসিংহ জেলায় থাকাকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসানের আস্থাভাজন হওয়ায় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে নিজ জেলায় যোগদান করেন। নিজ জেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘকাল পদায়ন সাধারণত নিষিদ্ধ। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয়নি। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে তিনি দীর্ঘদিন নিজের জেলায় নির্বাহী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। যোগদানের পর থেকেই আব্দুল আউয়াল দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিজ জেলায় চাকরির প্রভাব খাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে গেছেন। বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত মেকানিকদের বদলির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ ওঠে। পেনশন আর পিআরএলের কাগজ অনুমোদনে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নিতেন। বিষয়টি তার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) প্রতিবেদনে আসার পরও তা উপেক্ষা করে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পান।  

আব্দুল আউয়ালের বেতন জালিয়াতির আরো একটি প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি ১৯৯৮ এ প্রকল্পে যোগদান করলেও ২০০৬ এ প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে আসেন। অথচ ২০০২ সালে সিলেকশন গ্রেড নিয়ে ৭ম গ্রেডে ২০০৮ সালে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ২০১৮ সালে ৫ম গ্রেডে বেতন উত্তোলন করতে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ অগ্রিম বেতন তুলে সরকারের বিপুল অংকের টাকা গোপনে পকেটস্থ করে চলেছেন আব্দুল আউয়াল যা প্রতারণা, জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ। রুটিন দায়িত্ব পাবার পর দ্রুত সময়ে তার খরচের টাকা ওঠানোর জন্য আব্দুল আউয়াল তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এমনকি প্রকল্প পরিচালকদের কাউকে কাউকে সরিয়ে দেয়ার জন্য তিনি পরোক্ষভাবে হুমকি প্রদান করছেন। 
সম্প্রতি নোয়াখালী জেলায় সংঘটিত একটি কেলেঙ্কারি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আব্দুল আউয়ালের অনুমতি ও নির্দেশনায় প্রায় ৬ কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপনীয়ভাবে নিলামে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এখান থেকে বড় একটা অংশ আব্দুল আউয়ালের পকেটে গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এর সত্যতা মিলবে। নির্বাচনের পূর্বে তড়িঘড়ি করে বিশেষ ডিলের মাধ্যমে টাকার পাগল আউয়াল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় ১৫-২০ জন সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে এবং ১৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে যেখানে সবাই ব্যস্ত এবং বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এনএসআই প্রতিবেদনের তোয়াক্কা না করে অধিদপ্তরের ফ্যাসিস্টের দোসরদের পদোন্নতি প্রদানের জন্য অর্থের লোভে সে উঠে-পড়ে লেগেছেন। জনস্বাস্থ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের রুটিন দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের অপ্রতিরুদ্ধ অনিয়ম ও দুর্নীতি।

কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিশেষ উপঢৌকনের মাধ্যমে ২৬ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে গত বছরের ১৭ নভেম্বর রুটিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ লাভ করেন মো. আব্দুল আউয়াল। তিনি অধিদপ্তরে ১৯৯৮ সালের ৫ মার্চ  যোগদান করেন। ‘পৌরসভা, থানা ও গ্রোথ সেন্টারে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ ও বর্জ্যদূরীকরণ’ সংক্ষেপে জিওবি-ডানিডা প্রকল্পে। প্রকল্প শেষে ২০০৬ সালের ১ জুলাই  প্রকল্প থেকে রাজস্ব বাজেটে আত্মীকৃত হন এবং ২০১৩ সালে সরকারী কর্মকমিশনের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়মিত হন। ২০২২ সালের নভেম্বরে তিনি রাজস্ব বাজেটে যোগদানের তারিখ থেকে ক্যাডারভুক্ত হন। তাঁর রাজস্ব বাজেটে আত্মীকরণের তারিখ থেকে দেখা যায় বর্তমানে তার পূর্বে আরো ২৬ কর্মকর্তা চাকরিরত অবস্থায় আছেন। 

বর্তমান রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের মতো একজন জুনিয়র কর্মকর্তা কিভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই পদে এলেন তা সহজেই বোঝা যায়। মো. আব্দুল আউয়ালের পূর্বের ২৬ সিনিয়র ও যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন যাদের অনেকেরই চাকরিজীবন ক্লিন, অধিদপ্তর ও দেশে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বলে মনে করা হয়। 

মো. আব্দুল আউয়াল নরসিংদীতে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) থাকা অবস্থায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অধীন নরসিংদী পৌরসভায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, পাইপলাইন নির্মাণকাজে নয়ছয় করেন এবং চরম অদক্ষতার পরিচয় দেন। যার কারণের তাকে বারংবার নরসিংদী জেলা থেকে সরিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হলেও অর্থের বিনিময়ে সেখানে থেকে যান। 

জানা যায় তিনি নির্ধারিত সময়ে নরসিংদী পৌরসভায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করতে পারেননি। প্রকল্প শেষ হলেও বিশেষ টিম গঠন করে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই প্রকল্পের কাজের সাথে জড়িত এক ঠিকাদার মো. আব্দুল আউয়াল ঠিকাদারদের মানুষ বলে গণ্য করে না। নির্ধারিত কাজ সঠিকভাবে করলেও তিনি ইচ্ছামতো বিলে কাচি চালায়, ঠিকাদারকে জিম্মি করে ফেলে। তার চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে বিল থেকে বড় একটা অংশ কর্তন করে, যার ফলে ঠিকাদার আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলে যেনতেনভাবে কাজ করলেও বিলে কোনো সমস্যা হয় না। নরসিংদীতে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে থাকাকালে নরসিংদীর বিভিন্ন পৌরসভা ও পল্লী অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পে জনস্বাস্থ্যের অসংখ্য কাজে এই উদাহরণ পাওয়া যায়। তার কুকর্মের কারণে অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তাও বিপদে পড়েছে। 

নরসিংদী থেকে আব্দুল আউয়াল নিজ জেলা ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে যান এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৭-তে কিশোরগঞ্জ জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব লাভ করেন। এই দুই জেলায় থাকা অবস্থায় মো. আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কাগজ ম্যানিপুলেশন ও টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। 

এসব বিষয় ইতিমধ্যে অডিটে গুরুতর আপত্তি, অনিষ্পত্তিযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং অডিটের ত্রিপক্ষীয় সভায় আলোচিত হয়েছে। আব্দুল আউয়াল ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্ব লাভ করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে ‘কুলাউড়া ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ প্রকল্প’ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। তবে তার অযোগ্যতা ও অদূরদর্শিতায় জানুয়ারি ২০২০-ডিসেম্বর ২০২২ মেয়াদের এ কার্যক্রম শুরুর আগেই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। পরামর্শক নিয়োগে তিনি বিপুল অর্থ পকেটস্থ করেন। কোনো কিছুর দায়িত্ব না নিয়ে তিনি বিশেষ মহলকে খুশি করে নিজ জেলা ময়মনসিংহ সার্কেলে বদলি হয়ে আসেন।

ময়মনসিংহ জেলায় থাকাকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসানের আস্থাভাজন হওয়ায় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে নিজ জেলায় যোগদান করেন। নিজ জেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘকাল পদায়ন সাধারণত নিষিদ্ধ। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয়নি। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে তিনি দীর্ঘদিন নিজের জেলায় নির্বাহী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। যোগদানের পর থেকেই আব্দুল আউয়াল দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিজ জেলায় চাকরির প্রভাব খাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে গেছেন। 

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কার্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত মেকানিকদের বদলির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ ওঠে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে। নিজ জেলায় চাকরি করার কারণে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটান সর্বক্ষেত্রে। নির্যাতন সহ্য করেও কর্মচারী কিংবা ঠিকাদার কেউ মুখ খুলতে পারেনি। পেনশন আর পিআরএলের কাগজ অনুমোদনে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নিতেন। সম্প্রতি এ বিষয়টি তার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) প্রতিবেদনে আসার পরও তা উপেক্ষা করে বিপুল অর্থের লেনদেনের বিনিময়ে অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ ২৬ জন কর্মকর্তাকে টপকে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পান। কথিত আছে টাকার এ অংক ৩৫ কোটি যার মধ্যে ৫ কোটি টাকা স্থানীয় সরকার সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এবং সাবেক বাকিটা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াকে দেয়া হতো।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.