জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আর এ আলোচনায় সবার আগে আসছে সিটি নির্বাচন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোতে চলছে নানা সমীকরণ ও বিশ্লেষণ। রাজধানী ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
দলীয় ফোরাম এবং প্রকাশ্যে কোন প্রার্থীকে মাঠে নামানো যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। প্রায় এক বছর আগে থেকে সিটি নির্বাচনের কাজ শুরু করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে কাউন্সিলর পদে ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না এলেও ঢাকার দুই সিটিতেই মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে তৎপরতা শুরু করেছেন দলের একাধিক নেতা। নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলীয় অবদান ও আনুগত্যের পাশাপাশি নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা, নগরবাসীর মাঝে গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠের রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এই নেতার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে ছয় শতাধিক মামলা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন। দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সম্প্রতি আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাদের মূল্যায়ন করছেন তারেক রহমান। তাদের অনেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিসভাতেও স্থান পেয়েছেন। কিন্তু সোহেল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, সরকার গঠনের পর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও তাকে রাখা হয়নি। তবু তিনি দলের নির্দেশনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছেন।
এ বিষয়ে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, দল যাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে, তিনিই নির্বাচন করবেন। দল চাইলে আমি অংশগ্রহণ করব। দক্ষিণ সিটির অপর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা এই নেতাও ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি জানান, দল মনোনয়ন দিলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে এখনকার কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান। এ ছাড়া সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত ইশরাক হোসেন এবারও মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার এমন ঘোষণা দলের অভ্যন্তরে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল। টানা দুটি সিটি নির্বাচনে দল তাকে প্রার্থী করেছিল। তার অনুসারীরা মনে করছেন, আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ভালো ফল আনতে সক্ষম হবেন তিনি। তবে তাবিথের বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টু বর্তমান মন্ত্রিসভায় পরিবেশমন্ত্রী হওয়ায় পরিবারতন্ত্রের কথা বিবেচনায় মনোনয়ন পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।
এ বিষয়ে তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচন করবেন এবং ঢাকার জন্য তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। এ ছাড়া উত্তরের মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম ও ঢাকা উত্তর সিটির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। সম্প্রতি প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়া মিল্টন যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও উত্তরে তাবিথ আউয়ালের নামই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তবে সবকিছু ছাপিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও আলোচনায় রয়েছেন হাফডজন নেতা। সূত্রের দাবি, আলোচিত এই নেতারাই মেয়র পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। তবে এঁরা ছাড়াও নির্বাচন না করা অথবা নির্বাচন করেও জয়ী হতে না পারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও কারো কারো সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাকে কোন পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যতটুকু হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, এক বছর আগে থেকে কাউন্সিলর পদে যাদের প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছিল তাদের মধ্যে থেকেও কোনো কোনো জায়গায় পরিবর্তন করা হতে পারে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে যে শরিক দলগুলো ছিল, তারা সিটি নির্বাচনে আগের মতো সমঝোতায় থাকবে কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়রদের পদচ্যুত করে। এতদিন তাদের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকরা মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি। নিয়োগ পাওয়া সবাই বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন।
এর মধ্যেই গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে ছয় প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে মাঠে নামতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বছর আগে থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করলেও এখনও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মাঠে নামায়নি। তবে তাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত থাকায় তারা ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময়ই নিজেদের প্রচারণা এগিয়ে রেখেছেন।
অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রার্থী দেব। আমরা ১২ সিটি করপোরেশন, ৪৯৫ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভায় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম সিটি করপোরেশনে আপাতত একক নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের মতো সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও শাহবাগ থানার আমীর আহসান হাবীব। তিনি জানান, তাঁর নির্বাচন করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। আরও এক বছর আগে থেকেই তিনি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।
আহসান হাবীবের মতো রাজধানীর প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডে দলটির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছেন। গত জাতীয় নির্বাচনে রাজধানীতে জনমত তৈরিতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই সম্ভাব্য প্রার্থীরা কাউন্সিলর পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এই তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে কোন দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এখনও তা চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। তবে মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাই করবে জামায়াত।
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াইয়ে প্রায় হাফ ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সিটি নির্বাচনে সমঝোতা না হলে এই নেতাদের মধ্য থেকেই জামায়াতের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আলোচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এগিয়ে আছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। দলটির গোপন ভোটে ৫ সদস্যের প্যানেলে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও মননোয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দিন। যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ থেকে জামায়াতের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে জোটের স্বার্থে এনসিপির প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারিকে এ আসন ছেড়ে দেন তিনি।
আলোচনায় আছেন ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত ড. আবদুল মান্নান।
পাঁচ সদস্যের প্যানেলের অপর দুই জন হলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। যিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। অপরজন হলে মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ।
অন্যদিকে উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন এগিয়ে থাকলেও গোপন ভোটে দলটির সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ঢাকা ১৭ আসন থেকে তারেক রহমানের সাথে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামান। এছাড়াও আলোচনায় আছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। যিনি ঢাকা ১১ আসনে জামায়াতের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও জোটের স্বার্থে ও ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া এসএম খালিদুজ্জামান। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতার নাম থাকলেও জামায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সবশেষ নির্বাচন হয় ২০২০ সালে। নির্বাচনে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন পরাজিত হন। ভোটে কারচুপি আর অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা মামলা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনের কেউই মেয়রের চেয়ারে বসতে পারেননি। ঢাকা উত্তর সিটির বৃহত্তর মিরপুর অংশের পুরোটাতেই জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিটি নির্বাচনে এই সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে মরিয়া জামায়াত।
ধারণা করা হচ্ছে, এবারও শিক্ষা, নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ইত্যাদি বিবেচনা করে এই দুইজনকেই দলের মনোনয়ন দিতে পারে বিএনপি। ইতিমধ্যে অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-৬ থেকে সংসদ নির্বাচন করে এমপি হয়ে বর্তমান সরকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইতিপূর্বে দুইবার মেয়র পদে নির্বাচন করা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছেন। অংশ নেওয়া দুই নির্বাচনেই দলীয় সিদ্ধান্তে ফলাফল বর্জন করেছিলেন তিনি। তবে উভয় নির্বাচনেই বিপুল ভোট পেয়েছিলেন তাবিথ আউয়াল।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটগতভাবে ৭৭ আসন নিয়ে এখন প্রধান বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। রাজধানীতেও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪৫ শতাংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ঢাকা জেলার ২০ সংসদীয় আসনের ১৫টি রাজধানীতে। এর প্রায় অর্ধেক ভোটই পেয়েছে জামায়াত। আর ঢাকা উত্তর সিটির বৃহত্তর মিরপুর অংশের পুরোটাতেই জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিটি নির্বাচনে এই সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে মরিয়া জামায়াত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









