আর মাত্র ৪ দিন পরেই অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে দীর্ঘদিন পর একটি প্রানবন্ত সংসদ দেখার অপেক্ষা আছে গোটা জাতি, সেখানে সংসদ অধিবেশনের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। কারণ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন অর্ন্তবর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার দেওয়া একটি বক্তব্যে যেন মীমাংসিত নির্বাচনের ইস্যুকে অমীমাংসিত বলে মনে করে এ প্রশ্নে আন্দোলনের ছুতো খুজে একাট্টা হয়ে মাঠে নামছেন জামায়াতে ইসলামী নেৃতত্বাধীন বিরোধীয় জোটভুক্ত দলগুলো।
জানা গেছে, সদ্য বিদায় নেওয়া অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ও সেই সরকারে মুখপত্র সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এক বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারী টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নির্বাচনে কিভাবে একটি দলকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে। যদিও রিজোয়ানা তার বক্তব্যে কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু প্রকারান্তরে তার বক্তব্যের সারকথা বর্তমান বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধেই বলা হয়েছে মর্মে দলটি মনে করছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মাঠের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেৃতত্বাধীন জোটভুক্ত দলগুলো এখন একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।
রিজওয়ানা হাসানের এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারই জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে তাকে রাজস্বাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী উল্লেখ করে বলেন, সরকারের উচিত রিজওয়ানাকে গ্রেফতার করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা। সরকার যদি সেটা না করে তাহলে ধরে নেওয়া হবে রিজওয়ানার বক্তব্যেই সঠিক। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানেরও পদত্যাগ দাবি করেন।
কারণ হিসেবে ডা. তাহের বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে যখন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বানানো হল, এতেই বিষয়টি স্পষ্ট যে নির্বাচনে কি রকম ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। রিজোয়ানাকে ধন্যবাদ জানাই সে প্রকৃত সত্যটাই সবার সামনে আংশিকভাবে প্রকাশ করেছে। তবে সরকারের উচিত খলিলুর রহমানে বহিস্কারের পাশাপাশি রিজোওয়ানে গ্রেফতার করে নির্বাচনের যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে সেটা দেবাসীকে জানানো।
এদিকে রিজোয়ানার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। গতকাল শনিবার পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সব অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে, তা প্রমাণ করে এই নির্বাচন ছিল পরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা একটি নির্বাচন। নির্বাচন পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইসলামী দলগুলোকে ইঙ্গিত করে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে, তারা এ ধরনের কোনো দলকে মূলধারায় আসতে দেননি। এই বক্তব্য কার্যত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি বৈঠকি সিদ্ধান্তের স্বীকারোক্তি।’
মাওলানা মামুনুল হকের দাবি, ‘সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে বসেই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘সুতরাং নির্বাচনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।’
এর আগে, শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, ‘আপনারা আমাদের (জামায়াতে ইসলামী) পার্লামেন্টে মেজরিটি পেতে দেন নাই। আপনার কথাই তো প্রমাণ করে আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেন নাই। এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। দুঃখ ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে তখন- যখন ভোটগণনা, ফলাফলের প্রক্রিয়া পুরোটাই ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভরা। দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। ১১টা পর্যন্ত জামায়াতের বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেখানে রাত দশটার দিকে নির্বাচন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরই অল্প অল্প ভোটে জামায়াতের পরাজয়ের খবর আসে।’তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্নে বলেছেন, অতীতে দেখা যায় যারা কারচুপি করে, তারা বলে আমি কলা খাইনি, ঠিক তেমনি তাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল হালিম এ প্রতিবদেককে বলেন, নির্বাচনে যে জামায়াত জোটকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে সেটা নিজেদের অজান্তেই প্রকাশ হয়ে গেছে। বিশেষ করে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারেরই প্রভাবশালী নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দেখা গেলো তখনই বিষয়টি যে পরিস্কার তা কারো বুঝতে সমস্যা নেই। কারণ, তার এমন চমক লাগানো পদে যাওয়ায় আর কোনো রাখঢাক রইল না। সেজন্য আমরা খলিলুরের পদত্যাগ ও রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানাই।
এদিকে রিজোওয়ানার এমন বক্তব্যে সরকারী দল বিএনপিও কিছুটা বিব্রত। কারণ সে এমন এক স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলেছেন যে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যম বিজয় মূলত সাবেক অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের ষড়যন্ত্রেরই ফল। কারণ সে সরকারেরই একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে স্থান দেওয়াটাও এসব প্রশ্নকে সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান এ প্রতিবেদককে বলেন, উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচনটাকে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু সে কেন বলেছে সেটি একান্তই তার ব্যাক্তিগত মতামত থাকতে পারে । আমরা মনে করি এমন একটি গুরুত্বপূর্ন ইস্যুতে তার কথা না বলাটাই ভালো ছিল। কারণ রাজনীতি সচেতন মানুষও মনে করছে মন্ত্রীত্বের বিনিময়েই একটি বৃহৎ শক্তি ও পাশ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দো সংস্থার আয়োজনে জামায়াতকে হারানোর চক্রান্ত্র করা হতে পারে। তবে বিগত আওয়ামী সরকারের অনুপিস্থিতি ও জামায়াতের স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থানের কারণেই মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে বলেও মনে করেন বিএনপির এ নেতা।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বেসরকারি একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বর্তমান বিরোধী দলকে (জামায়াতে ইসলামী) নিয়ে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নারীবিদ্বেষী ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) আসতে দেওয়া হয়নি। তার এ বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ এবং ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
যদিও একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে গতকাল শনিবার পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সব অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে, তা প্রমাণ করে এই নির্বাচন ছিল পরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা একটি নির্বাচন। নির্বাচন পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইসলামী দলগুলোকে ইঙ্গিত করে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে, তারা এ ধরনের কোনো দলকে মূলধারায় আসতে দেননি। এই বক্তব্য কার্যত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি বৈঠকি সিদ্ধান্তের স্বীকারোক্তি।’
মাওলানা মামুনুল হকের দাবি, ‘সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে বসেই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সুতরাং নির্বাচনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান মামুনুল হক। আসনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, যিনি এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গণভোট নিয়েও কথা বলেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তীতে সরকার গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে রায় পেয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দৃশ্যত অনীহা দেখাচ্ছে। জনগণ যখন গণভোটে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছে, তখন তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার পরিবর্তে আদালতের দিকে দায় ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এমনকি গণভোট বাতিলের লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি। জনগণের রায়কে সম্মান না করে আইনি জটিলতার আড়ালে তা বিলম্বিত বা বাতিল করার চেষ্টা গোটা জাতিকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করবে।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরে আগামী ২৪ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি গণসমাবেশ আয়োজন করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির সাঈদ নূর, মাহবুবুল হক, কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, আব্দুল আজীজ, তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল, আবুল হাসানাত জালালী, মুহাম্মদ ফয়সাল, আবু সাঈদ নোমান, হেদায়াতুল্লাহ হাদী, প্রচার সম্পাদক হাসান জুনাইদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক রুহুল আমীন খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক শরীফ হোসাইন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









