বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

দল-সরকারে ‘ভিন্ন’ রূপে বিএনপি

প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

দল-সরকারে ‘ভিন্ন’ রূপে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্ক‍ুশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দেড় যুগ পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলেও নির্বাচনের পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা এমপি-মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় তারা এখন দলীয় কাজে তেমন সময় দিতে পারছেন না। আর যারা মন্ত্রী-এমপি হতে পারেননি তারা এখন হতাশ। অপরদিকে সরকার গঠনের পর বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়ে প্রসংশা কুড়াচ্ছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর যুগান্তকারী কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, যানজট নিরসনে পদক্ষেপ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে সাশ্রয়ী হওয়া এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানিসহ জনমুখী গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত। বিএনপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং নির্বাচনী ইশতেহার জনগণ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে শরিকদের মধ্য থেকে মন্ত্রিত্ব বণ্টনের বিষয়টি সরকারের ভাবমূর্তিতে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আশা করা যায়, সরকার সফলতার সাথে তার যাত্রা শুরু করে মেয়াদ পরিপূর্ণ করবে।

তবে সাংগঠনিকভাবে বিএনপিতে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। সর্বস্তরের সাধারণ নেতা-কর্মীরাও এখন দলে নিষ্ক্রিয়। তাই বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলটির তেমন রাজনৈতিক কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পর একাধিকবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের তেমন সমাগম চোখে পড়েনি। অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগেও কার্যালয় দুটি নেতা-কর্মীদের ভিড়ে সরগরম ছিল। একই পরিস্থিতি জেলা-উপজেলা এবং মহানগর পর্যায়ের দলীয় কার্যালয়গুলোতেও। নেতা-কর্মীদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে কমেছে। অনেক নেতা-কর্মী এখন সচিবালয়মুখী হয়ে পড়েছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতরে ঘুরে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। কেউ কেউ টেন্ডার-ঠিকাদারিসহ সরকারি দফতরের বিভিন্ন কাজের তদবির নিয়ে ভিড় করছেন। আবার অনেকেই চাকরির নিয়োগ-বদলির তদবির নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ধরনা দিচ্ছেন।  

জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সারাদেশে বিএনপি রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনী প্রচারসহ দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ছিলেন চাঙ্গা। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় থাকায় ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্ক‍ুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এর পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার সবাই নিজ নিজ দপ্তরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যস্ত মন্ত্রীরা।

অপরদিকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ভোটের পর নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের পাশাপাশি ১২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে সরকারকে সামনে এগিয়ে নিতে মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যস্ত সরকার নিয়ে। আর নেতাদের অনুপস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীরাও অনেকটা নীরবে পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব মেলাচ্ছেন। আর যারা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি কিংবা নির্বাচনে অংশ নিয়েও পরাজিত হয়েছেন তারা এখন দলের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। আর নির্বাচনের আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হওয়ায় যাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারা এখন নিজ দলের বিরুদ্ধেই অপপ্রচারে লিপ্ত। এসব কারণে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরাও এখন দলবিমুখ হয়ে পড়েছেন। তবে সরকারে ফুরফুরে মেজাজে বিএনপির নেতারা। 

এদিকে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতাদের আসা-যাওয়াকে কেন্দ্র করে এখানে কিছুটা কর্মচঞ্চলতা থাকলেও নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় যেন নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে। একসময় নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতিতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যালয়ে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্ করা গেলেও এখন নীরবতা বিরাজ করছে। 

অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী বছরের পর বছর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন, দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণাসহ নানা কাজে সক্রিয় থেকে সেখানেই রাত্রিযাপন করতেন। সরকার গঠনের পর সেই চিত্র পাল্টে গেছে। রুহুল কবির রিজভী দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করলে দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সংবাদ কর্মীদেরও সবসময় ভিড় লেগে থাকত। কিন্তু নির্বাচনের পর অসুস্থ থাকায় এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা হওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান না। আর দলীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় সাধারণ নেতা-কর্মীরাও সেখানে যান না। একদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ার খবর শুনে কিছু নেতা-কর্মী হাজির হলেও এখন আর যাচ্ছেন না। 

অভিজ্ঞ মহলের মতে- প্রায় দেড় যুগ ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপি রাজপথে ছিল সরব। এ ছাড়া তখন সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন ও সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। তখন বিএনপির সঙ্গে সমমনা বেশ কটি রাজনৈতিক দলও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করত। এ কারণে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি প্রায়ই মতবিনিময় সভা করত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও রাজপথে সোচ্চার ছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ওই বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। দলের যে কোনো কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি ঘটে। 

নেতা-কর্মীরা বলছেন, দল কখনো সরকারে হারাবে না। বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা ধারণ করে রাজনীতি করে। আশা করি, জনগণের প্রত্যাশা ধারণ করে উন্নয়নমুখী সরকার পরিচালিত হবে। দল-সরকার সব পক্ষই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবে ইনশাআল্লাহ। নেতারা আরো জানান, অচিরেই নতুন ধারার রাজনীতি শুরু হবে। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় নতুন ধারার সেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। 

গত বছর ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। এর পর সারাদেশের সর্বস্তরে বিএনপি চাঙ্গা হয়। এর দিন কয়েক পরই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম হওয়ায় দেশ-বিদেশে সর্বমহলের কাছে বিএনপি সম্পর্কে নতুন বার্তা পৌঁছায়। দলের নেতা-কর্মীরাও শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ করে বিএনপি।

দলীয় সূত্র বলছে, সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি কমে গেছে। নির্বাচনের পর বিশেষ কোনো দলীয় কর্মসূচি কিংবা রাজপথে মিটিং-মিছিল না থাকায় নেতা-কর্মীদের তৎপরতা কমেছে। এ ছাড়া টানা আন্দোলন-সংগ্রামের ব্যস্ততা শেষে অনেকে এখন নিজস্ব কাজকর্মে সময় দিচ্ছেন। 

দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলীয় কার্যক্রম চাঙা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু হতে পারে। বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে আরো সক্রিয় করে তোলার চিন্তা রয়েছে হাইকমান্ডের। বিএনপির নেতারা বলছেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে মাত্র সরকার গঠন করেছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের সাংগঠনিক অবস্থা শিগগিরই ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হতে পারে। আমাদের দলের চেয়ারম্যান দলের সাংগঠনিক অবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে অবহিত আছেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ অধিকাংশ কমিটি
বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন মিলিয়ে ১১টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের পর বর্তমানে সুষ্ঠ‍ুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। আপাতত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর সেই দিকেই বেশি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে শিগগিরই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা জানান, ঈদুল ফিতরের পর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এমনকি ঈদের আগেই কয়েকটি কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপদেষ্টারা দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন দ্রুত করার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীও ঈদের পর এ বিষয়ে কাজের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 
প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, শিগগিরই দল পুনর্গঠন শুরু হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশন নিয়ে নেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরপরই দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী দৃশ্যমান উদ্যোগ নেবেন। 

১০ বছর ধরে কাউন্সিল হয়নি বিএনপির
বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও বিগত সরকারের আমলে তা করা সম্ভব হয়নি। যদিও এ সময় নির্বাহী কমিটি একাধিকবার পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন পদে সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। 

এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় সংগঠনে সময় কম দেয়া
মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বলছেন, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের অনেক শীর্ষনেতা এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। ফলে তারা সংগঠনে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। আবার নতুন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বও তৈরি হচ্ছে না। এতে পদপ্রত্যাশীদের অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী না করলে নির্বাচনি লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব নয়। নিয়মিত কাউন্সিল না হলে নতুন নেতৃত্বও তৈরি হবে না। 

ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের জোর আলোচনা
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১ মার্চ। সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন নাসির উদ্দিন নাসির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম, এজাজুল করিম রুয়েল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক জিশান, রাজু আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।  

দেড় বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি
২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরেও সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। বর্তমানে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম চলছে। নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বলেন, দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে সেটাই তিনি পালন করবেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগেই যুনতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে দলীয় ফোরামে। আগামী কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন রেজাউল করিম পল, আকরামুল হাসান মিন্ট‍ু ও গোলাম মাওলা শাহীন। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। 

স্বেচ্ছাসেবক দলেও নতুন নেতৃত্বের গুঞ্জন 
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি হয়। তিন বছরের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শীর্ষ দুই নেতাই এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক রাজিব প্রতিমন্ত্রীও হয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে সংগঠনটিতে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল। 

কৃষক দল, মহিলা দলেও স্থবিরতা 
কৃষক দলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তখন কমিটি ভাঙা হয়নি। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে যে কেউ সভাপতি পদে আসতে পারেন। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ ও শাহাদাত হোসেন বিপ্লব। মহিলা দলের বর্তমান কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত দুই বছরের সেই কমিটি দিয়েই প্রায় এক দশক ধরে সংগঠনটির কার্যক্রম চলছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বও একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। 

অন্য সংগঠনগুলোর অবস্থাও একই
এক যুগ পুরনো কমিটি দিয়ে চলছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিক দল। মুক্তিযোদ্ধা দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর। একইভাবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি হয় ২০১৪ সালের এপ্রিলে। দুই সংগঠনেরই কমিটি বহু আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এদিকে ২০১৯ সালে গঠিত তাঁতী দলের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালে। অন্যদিকে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত হলেও এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই কমিটি চলছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সীমিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ছাড়া তেমন কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা নেই।

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.