বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ঢাকার ‘জমিদার’ ৪২ উমেদার

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

ঢাকার ‘জমিদার’ ৪২ উমেদার

চাকরি নেই, বেতন নেই, এমনকি বসার চেয়ার-টেবিল পর্যন্ত নেই। অথচ ওরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে থাকা ১০টি রেজিস্ট্রি অফিস। ওদের চোখের ইশারায় সাব-রেজিস্ট্রাররা দলিল রেজিস্ট্রি করেন- আবার রেজিস্ট্রি করা থেকে বিরত থাকেন। সাব-রেজিস্ট্রারদের সংরক্ষিত খাসকামরায় কাঙ্ক্ষিত ঘুষ লেনদেন হলে অনেক অসাধ্য সাধন হয়ে যায়। এমন চেয়ার-টেবিলহীন ক্ষমতাধর চরিত্রের লোকগুলো ‘উমেদার’ হিসেবে পরিচিত।

ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে থাকা ১০টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়। যা মাসে দাঁড়ায় ২০ থেকে ২২ কোটি। বছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এমন বিপুল পরিমাণ ঘুষ সাব-রেজিস্ট্রারের হাত দিয়ে নেওয়া হয় না। সবকিছুই নেন সাব-রেজিস্ট্রারের মনোনীত উমেদাররা।

ফারসি শব্দ উমেদার অর্থ চাকরি-প্রত্যাশী ব্যক্তি। মুঘল আমলে বিভিন্ন উমেদার কাজ শিখে চাকরিতে যোগদান করতো। ব্রিটিশ আমলে একই নিয়ম চালু ছিল। ওদের জন্য প্রত্যেক অফিসে ‘উমেদার ফাইল’ চালু ছিল। পাকিস্তান আমল থেকে সেই ফাইল উধাও হয়ে যায়। উমেদাররা সাব-রেজিস্ট্রারদের তল্পিবাহকে পরিণত হয়। কেউ কেউ ঘুষ সংগ্রাহক’ বা অনৈতিক কাজের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে থাকে। সম্প্রতি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছে ফারসি শব্দের সেই ‘উমেদার’।

দৈনিক এদিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে থাকা ১০টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নানামুখী দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়। যা মাসে দাঁড়ায় ২০ থেকে ২২ কোটি। বছরে যার পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এমন বিপুল পরিমাণ ঘুষের এক টাকাও সাব-রেজিস্ট্রারের হাত-দিয়ে নেওয়া হয় না। সবকিছুই গ্রহণ করেন সাব-রেজিস্ট্রারের মনোনীত উমেদার। উমেদার খুশি তো সাব-রেজিস্ট্রার খুশি। সাব-রেজিস্ট্রার খুশি হলে আর দলিল আটকায় না। তা না হলে দলিলের দাঁড়ি-কমা খুঁজে, নামের আগে আ ‘মো.’ আছে না নেই— এমন খোঁড়া অজুহাতে দলিল আটকে দেওয়া হয়। খাসকামরায় উমেদারের সঙ্গে একান্ত আলাপ আর ঘুষ লেনদেনের পর আর কোনো কিছুতে আটকায় না।

এমন অরাজকতা ও ঘুষ বাণিজ্য রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে। কিছুদিন আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে উমেদারদের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছিল। দু-একজনকে চিঠি দিয়ে দুদক কার্যালয়ে ডাকাও হয়। রহস্যজনকভাবে সেই তালিকার ফাইল গায়েব হয়ে যায়। যার কারণে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে ঘুষের সওদাগর উমেদারচক্র।

প্রবীণ দলিল লেখক আলী হোসেন মাতবর ক্ষুব্ধকণ্ঠে এদিনকে বলেন, ‘ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের কর্ণধার হয়ে গেছে চেয়ার-টেবিলহীন উমেদাররা। প্রতিটি অফিসে নানা অজুহাতে দলিল জিম্মি করে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট হারে উমেদারের হাতে ঘুষ তুলে দিলে সেই উমেদারের চোখের ইশারায় দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে। এতে সরকারের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির ঘটনাও ঘটছে। অথচ কমপ্লেক্স ভবনে জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস। তিনি অফিসগুলোর অনিয়ম, হয়রানি ও ঘুষ রোধে কাজ না করে দপ্তরে বসে গল্প-গুজব করে বাসায় চলে যান।’

সম্প্রতি দৈনিক এদিনের হাতে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে। যেখানে আছে ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ঘুষ দৌরাত্ম্যের বিস্তারিতসহ কোটিপতি ৪২ উমেদারের একটি নামের তালিকা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনেক জালিয়াতির সঙ্গেও উমেদাররা জড়িত। এতে সংশিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে উমেদাররা। ফলে উমেদারদের কেউ-কেউ তেজগাঁও, খিলগাওঁ, বনশ্রী, মহানগর প্রজেক্ট, রামপুরা এমনকি উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় এক বা একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকানের মালিক হয়েছে। ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এদিনকে বলেন, “উমেদার একটি মামুলি শব্দ হলেও রেজিস্ট্রি অফিসে থাকা উমেদাররা অত্যন্ত পাওয়ারফুল। তারা যে কাউকে অফিস থেকে বদলি করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে এমন উমেদারও রয়েছে যারা দু-চারজন সাব-রেজিস্ট্রারকে একসঙ্গে কেনার ক্ষমতা রাখে। তাই ওদেরকে কেউ ঘাঁটাতে চায় না।’

ঢাকার অন্যতম ভূমি বিরোধপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস হলো- মোহাম্মদপুর। এখানকার উমেদার পদ নিয়ে রীতিমতো ‘যুদ্ধ’ চলছে। এমন অভিযোগও আছে, সেখানকার প্রবীণ উমেদার আবদুস সোবহানকে মিথ্যা মামলায় জেলে পর্যন্ত পাঠিয়েছেন আরেক উমেদার আওলাদ হোসেন। সে জন্য তিনি মোটা অংকের টাকাও নাকি ব্যয় করেছেন। আরেক উমেদার বাবু হাওলাদার জেলের ভয়ে অফিসেই আসছেন না। আওলাদ সরকারি তালিকাভুক্ত নকলনবীশ হলেও ঘুষের টাকার মোহে উমেদারি করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের মামলা থাকলেও তিনি মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুলসহ আরো অনেকের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করেছেন আওলাদ। পট পরিবর্তন হতেই চলছেন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে। বর্তমানে আওলাদের মূল দুই সঙ্গত আকিব ও এনামুল। তাদের দুজনের মাধ্যমেই মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি জিম্মি করে রেখেছেন আওলাদ। সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল কাদির ও অফিস সহকারী মো. হারিস যেন শুধুই নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বিতর্কিত অফিস হলো খিলগাঁও।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আশীর্বাদপুষ্ট সাব- রেজিস্ট্রার মাইকেলের নেতৃত্বে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যাদের কাজ হলো- সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে হয়রানি ও নানা কৌশলে ঘুষ আদায় করা। এই মাইকেল সাবেক ছাত্রদল নেতার পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন ১০/১২ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। আর সেই টাকার ক্যাশিয়ার হলো উমেদার মেহেদী ও শাহিন। তাদেরকে সব সময় খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রারের খাসকামরা ও রেকর্ডরুমে ঘুষ গ্রহণ করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে উমেদারি করে মেহেদী বর্তমানে কোটিপতি। ঢাকায় একাধিক প্লট ছাড়াও গ্রামের বাড়িতে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন তিনি। একটি আবাসন কোম্পানিতে শাহীনের মালিকানা রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়।

সরেজমিন ঢাকা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার নেওয়াজ এজলাসে বসে দলিল রেজিস্ট্রি করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন উমেদার লোকমান। লোকমানের চোখের ইশারায় দলিল রেজিস্ট্রি করছেন সাব-রেজিস্ট্রার। বিভিন্ন অজুহাতে মাঝে-মধ্যে দলিল আটকে দিচ্ছেন তিনি (নেওয়াজ)। তখন লোকমান দলিল দাতা-গ্রহীতাকে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের খাসকামরায় ঢুকে যাচ্ছেন। সেখানে ঘুষ রফাদফা শেষে তারা বের হলেই চোখের ইশারায় দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। উমেদার লোকমান যেন প্রক্সি সাব-রেজিস্ট্রার।

এভাবে প্রক্সি সাব-রেজিস্ট্রারি করে লোকমান বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা ও গাজীপুরের মীরের বাজারে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তি। অথচ কয়েক বছর আগে লোকমান রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সামনে এর-ওর কাছে হাত পেতে চলতেন।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রারের খাস উমেদার হওয়া কতটা লোভনীয় সেটার প্রমাণ পাওয়া গেল উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে। সেখানে একসময় ঘুষের নিয়ন্ত্রক ছিলেন উমেদার মনজু। কয়েক বছরে তিনি কোটিপতি হয়ে ঢাকা শহরে একাধিক বাড়ি-প্লটের মালিক হয়েছেন। এখন তিনি ঘুষের আরো বড় ডিলার। তার সঙ্গে ঘুষের আরেকটি দিক দেখাশোনা করছেন মহিউদ্দিন মানিক। কয়েক বছর আগে ময়মনসিংহে ইউপি নির্বাচনে মানিক ৫০/৬০ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এতেই বোঝা যায় তিনি কালো টাকার মালিক। ঘুষের আরেকটি টেবিল নিয়ন্ত্রণ করেন সাগর। তবে ইদানীং তাদের ঘুষের ক্ষেত্র ছোট হয়ে এসেছে ফিরোজ নামে এক উমেদার তাদের টাকায় ভাগ বসানোয়। তিনি বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে সবগুলো ঘুষের টেবিল নিজের নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। পুরনো উমেদারদের তাড়িয়ে দিয়ে ফিরোজ উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একক নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন। 

রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে আরেকটি লোভনীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস হলো পল্লবী। সেখানে দুজন হাইভোল্টেজ উমেদার রয়েছেন। যারা শুধু কোটিপতিই নন, একজন আবার দুদকের আসামিও। জসিম নামের উমেদার দুদককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘুষের রাজত্বে পরিণত করেছেন । কয়েক মাস আগে জালিয়াতি করে একটি দলিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে জসিম ২৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন তারই বঞ্চিত এক সহকর্মী। হালনাগাদ খাজনা-খারিজ ছাড়াই দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিল নম্বর, দাতা-গ্রহিতার নাম ও রেজিস্ট্রির তারিখ- সবকিছুই দৈনিক এদিনের হাতে রয়েছে। ধানমন্ডি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল হয় কম। কিন্তু যে দলিল হয় সেটাতে লেনদেন হয় ‘বাম্পার ঘুষ’। এই ঘুষ আদায়ের দায়িত্বে আছেন উমেদার রানা ও আশিক। ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটের দাম ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা। প্লটের দাম ১০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত। এসব ‘অভিজাত’ ঘুষের লেনদেন করে উমেদার চক্র নিজেরাও এখন অভিজাত হয়ে গেছে। মন প্রফুল্ল করতে প্রায়ই তারা উড়ে যান মালয়েশিয়া কিংবা দুবাইয়ে।
ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় রেজিস্ট্রি অফিস হলো- বাড্ডা। প্রতিদিন ঘুষ বাবদ সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ১০/১২ লাখ টাকা নিতে না পারলে তুষ্ট হন না। তার হয়ে ক্যাশ তদারকি করেন টুটুল নামে একজন। দেখতে-শুনতে ‘নূরানীদর্শন’ হলেও সাব-রেজিস্ট্রারের পক্ষে কাজ করে তিনি নিজেও এখন কোটিপতি। অফিসে চেয়ার না থাকলে নিজস্ব টয়োটা গাড়িতে চলাফেরা করেন। 

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস হলো দেশের সবচেয়ে অভিজাত। ধনাঢ্য পয়সাওয়ালারা সেখানে দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসেন। তাদেরকে  টার্গেট করে উমেদার সোহেল বর্তমানে কোটিপতি। সাব-রেজিস্ট্রারকে অন্ধকারে রেখে তিনি অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করছেন বলে বেশকিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এসব বিষয়ে এদিনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার মুখলেছুর রহমানের কাছে। উমেদারদের দৌরাত্ম্য ও ঘুষপ্রীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “ফুট-ফরমাইশ খাটা উমেদারকে ৫০ টাকা দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী বলা ঠিক নয়। আইজিআর আব্দুল মান্নান বেআইনিভাবে এসব নিয়োগপত্র দিলেও আসলে সেগুলো ‘কলাপাতা’। যার সঙ্গে নিয়োগবিধির কোনো বালাই নেই। ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে কোনো কোনো সাব-রেজিস্ট্রারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উমেদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, সেকথা ঠিক। লোকস্বল্পতার কারণে ওদেরকে অফিস থেকে সরানো যাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে আইজিআর (নিবন্ধন অধিদপ্তর) অফিসের একাধিক কর্মকর্তা এদিনকে বলেন, বর্তমানে উমেদাররা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে। ওদের দুর্নীতি-ঘুষপ্রীতির -খবর প্রায়শই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ফলে আমাদেরকে ইমেজ সংকটে পড়তে হয়। ইতোমধ্যে দুদক ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের ৩৮ জন কোটিপতি উমেদারের তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেটার ব্যবস্থা নেওয়ার আগে জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম নিজেই দুদকের মামলায় বরখাস্ত হন। এখন শুনছি একটি গোয়েন্দা সংস্থা ৪২ জন কোটিপতি উমেদারের  একটি তালিকা করেছে।”

এসব বিষয়ে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ও ভূমি আইন বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ কবির  এদিনকে বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সব অপরাধের গোড়া হলো উমেদার চক্র। ওদের কোনো দায়বদ্ধতা কিংবা চাকরি হারানোর ভয় নেই। তাই ঘুষ-দুর্নীতিতে ওদের কোনো বাছবিচার থাকে না। আইন অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রারের এজলাসের সামনে ওদের যাওয়ার অধিকার নেই। অথচ ওরা সাব-রেজিস্ট্রারের খাসকামরা, রেকড রুমসহ আরো স্পর্শকাতর স্থানে ঘুরে বেড়ায়। সাব-রেজিস্ট্রার যখন এজলাসে মগ্ন থাকেন উমেদাররা তখন তাদের খাসকামরায় ঘুষ লেনদেনে ব্যস্ত থাকে। এমনকি ঘুষের  টাকা ব্যাগ ভর্তি করে উমেদাররা সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের বাসা পর্যন্ত পৌঁছে  দেয়।”

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.