উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। এই বাণীর তাৎপর্য হলো— জীবনের সব সম্পর্ক, অভ্যাস কিংবা পরিস্থিতি আঁকড়ে ধরে রাখাই কল্যাণকর নয়। অনেক সময় মানুষের মঙ্গল নিহিত থাকে ত্যাগে, ছেড়ে যাওয়ায় এবং নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ায়। অযথা মোহ, আবেগ বা অভ্যাসে আটকে থাকলে তা ব্যক্তিগত অগ্রগতি ও মানসিক শান্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের বাস্তবতাবাদী ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ রূপকার। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজের অবহেলিত মানুষ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক, মানবিক সংকট, প্রেম, ত্যাগ ও নৈতিক দ্বন্দ্ব অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। দেবদাস, শ্রীকান্ত, চরিত্রহীন, পথের দাবী প্রভৃতি উপন্যাসে তিনি মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক বাস্তবতার গভীর বিশ্লেষণ করেছেন।
শরৎচন্দ্রের জীবন ও সাহিত্য আমাদের শেখায় মানুষের প্রকৃত শক্তি তার বিবেক ও বোধে। কখন কোন সম্পর্ক, বিশ্বাস কিংবা পরিস্থিতি থেকে সরে আসা প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই জীবনের প্রজ্ঞা। এই বাণীর মাধ্যমে তিনি আমাদের অনুপ্রাণিত করেন অচলতার মোহ ভেঙে সত্য ও কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে।
ব্যক্তিজীবন হোক বা সামাজিক বাস্তবতা সাহসী ত্যাগ ও সুস্থ বিচ্ছেদই অনেক সময় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই জীবনদর্শন তাই আজও আমাদের চিন্তা ও কর্মে আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









