ফ্রান্সের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে নিউ জার্সিতে সুইডেনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের সেই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপের রেকর্ড গড়ার রাত হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকল। জোড়া গোল করে ফরাসি অধিনায়ক দলকে শেষ ষোলোতে তুলেছেন, পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসেও যোগ করেছেন একাধিক নতুন কীর্তি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামলেই যেন নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এমবাপে। বড় আসরে আলো নিজের দিকে টেনে নেওয়ার অভ্যাসটা এবারও ধরে রাখলেন তিনি। সুইডেনের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ফ্রান্স যখন অনায়াসে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল, তখন পুরো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
দুই গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এমবাপের অর্জন কেবল সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের একাধিক রেকর্ডে নতুন করে নিজের নাম লিখিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।
সুইডেনের জালে দুইবার বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। এর আগে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি লিওনিদাস। তাদের ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের একক মালিক এমবাপে।
শুধু এই রেকর্ডই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও বাড়িয়ে ৬-এ নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ফলে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল এখন ১৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শেষ ষোলোতেই সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলতে পারেন ফরাসি মহাতারকা।
ওলিসের নীরব কীর্তি
এমবাপের আলো ছড়ানো পারফরম্যান্সের আড়ালে থাকলেও মাইকেল ওলিসের অবদান ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের আক্রমণভাগে ছন্দ তৈরি করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন এই মিডফিল্ডার।
সুইডেনের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৫-এ উন্নীত করেছেন ওলিসে। এর মাধ্যমে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস হ্যাসলারের পর এক আসরে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করা প্রথম ফুটবলার হলেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









