ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনটি শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারে স্মরণীয় হয়ে থাকল। ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াইয়ে তাই বড় অবদান রাখলেন বাঁহাতি এই পেসার।
দিন শেষে নিজের সাফল্যের পেছনে অনুশীলনের প্রস্তুতিকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন শরিফুল। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও ১১ নম্বরে নেমে ২৬ বলে ১৪ রান করেন তিনি। ৬৪ রানে বাংলাদেশ অলআউট হলেও সেটিই ছিল দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
এরপর বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক আঘাত হানেন শরিফুল। ৩৪ ওভারের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট হারালে এর মধ্যে পাঁচটিই শিকার করেন তিনি।
দিন শেষে নিজের প্রথম টেস্ট ফাইফার নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘‘আজ আমার প্রথম পাঁচ উইকেট। অনুশীলনে আমি এটাই করেছি। ম্যাচে এসে নিজেকে সেট করার চেষ্টা করেছি।’’
ম্যাকাইয়ের উইকেটে দীর্ঘ সময় ধরে পেসারদের জন্য সহায়তা থাকায় সন্তুষ্ট এই বাঁহাতি পেসার। তিনি বলেন, ‘‘৩০ ওভার পরও বল মুভ করছে। এটা আমাদের ফাস্ট বোলারদের জন্য সহায়ক।’’
তবে দিনের সবচেয়ে আনন্দের উইকেট হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের শিকারটিকেই দেখছেন শরিফুল। এর আগে শরিফুলকে বাউন্সার দিয়ে কাঁধে আঘাত করেছিলেন কামিন্স। পরে বাউন্সারে পরাস্ত করে ক্যাচে ফেরানোর পর সেই ঘটনা নিয়ে হাসতে হাসতে শরিফুল বলেন, ‘‘ভালো লেগেছে। কারণ সে আমাকে বাউন্সার মেরে কাঁধে লাগিয়েছিল।’’
ব্যাট ও বল হাতে শরিফুলের এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সঙ্গে যোগ হয়েছে একটি অনন্য কীর্তিও। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে কোনো ইনিংসে ১১ নম্বরে ব্যাট করে নিজের দলের সর্বোচ্চ রান করার পাশাপাশি একই ইনিংসে বল হাতে প্রতিপক্ষের সর্বোচ্চসংখ্যক উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনটি ব্যক্তিগতভাবে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা দিন হিসেবেই কাটালেন শরিফুল ইসলাম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









