হাসিমুখে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে শেষ অনুশীলন করলেন লিওনেল মেসি।
মঙ্গলবার বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে দেশে-বিদেশে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আবেগ ও উন্মাদনা।
আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন মাঠে সোমবার বিকেলটা ছিল অন্যরকম। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার পর এজেইজা জাতীয় দলের ক্যাম্পে শেষবারের মতো অনুশীলনের পোশাক পরেন মেসি।
কিছুক্ষণ পর সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি। পাশে ছিলেন রদ্রিগো দে পল, জিওভানি লো সেলসো ও নিকোলাস ওতামেন্দি। তাদের একটু পেছনে ছিলেন ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে আলোচনায় থাকা ক্রিস্তিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেজ।
সবাইকে ছাড়িয়ে চোখে পড়ছিল মেসির মুখের হাসি। জাতীয় দলের অধিনায়ককে ঘিরে আবেগ যতই থাকুক, শেষ ম্যাচটি উপভোগ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার রাত ৮টায় বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
মেসির শেষ ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। সাধারণ একটি অনুশীলনের দিনেও এজেইজা ক্যাম্পের মূল প্রবেশপথের সামনে এত মানুষের ভিড় দীর্ঘদিন দেখা যায়নি।
হাতে পতাকা, মাথায় টুপি, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি—আর বেশির ভাগের গায়েই মেসির ১০ নম্বর জার্সি।
ভিড়ের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ে বলিভিয়ার একটি পতাকা। পরে জানা যায়, সেটি নিয়ে এসেছেন বলিভিয়ার সান্তা ক্রুজ দে লা সিয়েরা থেকে আসা হুয়ান আন্তোনিও মনতানিয়া।
মেসির বিদায় দেখতে নিজের গাড়ি চালিয়ে নাতিদের সঙ্গে তিন দিন ধরে স্থলপথে ভ্রমণ করে আর্জেন্টিনায় এসেছেন তিনি।
স্থানীয় রেডিও লা রেদকে মনতানিয়া বলেন, ‘‘আমরা রাজার বিদায় দেখতে এসেছি। আমরা তাকে ভালোবাসি। তার মতো আর কোনো খেলোয়াড় নেই। এ কারণেই সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। এমন মুহূর্ত প্রতিদিন আসে না।’’
মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে গণমাধ্যমের আগ্রহও ছিল নজিরবিহীন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ম্যাচটির জন্য এক হাজারের বেশি সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের স্বীকৃতির আবেদন জমা পড়ে। তাদের মধ্যে প্রায় একশ সাংবাদিক সোমবার এজেইজা ক্যাম্পে মেসির শেষ অনুশীলন কভার করেন।
স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খেলোয়াড়েরা মূল মাঠে প্রবেশ করেন। সেই মাঠেই মেসি তার দীর্ঘদিনের সতীর্থদের সঙ্গে পরিচিত অনুশীলন শুরু করেন।
‘বল মাটিতে পড়তে দেওয়া যাবে না’—এমন একটি অনুশীলনে মেসির সঙ্গে ছিলেন দে পল, ওতামেন্দি, লো সেলসো, কুটি রোমেরো, হুলিয়ান আলভারেজ ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে দলে ছিলেন না লিয়ান্দ্রো পারেদেস।
নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি মঙ্গলবারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। অবশ্য রোববার মেসির সম্মানে আয়োজিত বিশেষ বারবিকিউতে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
অনুশীলনের এক পর্যায়ে ঘটে মজার একটি ঘটনা। মেসি দে পলের দিকে একটু কঠিন একটি পাস বাড়ান। দে পল সেটি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সতীর্থরা মজা করে তাকে কয়েকটি হালকা ‘চড়-থাপ্পড়’ দেন। দে পলও মজা করে ডান হাতের তর্জনী তুলে মেসিকে শাসানোর ভঙ্গি করেন। আর মেসি তখন হাসতে হাসতে এমন ভান করেন, যেন কিছুই হয়নি।
এরপর দলের ফিটনেস কোচ লুইস মার্তিনের নেতৃত্বে শুরু হয় নিয়মিত ওয়ার্ম-আপ। স্কালোনির আমলে আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলনে যে ধরনের প্রাণবন্ত পরিবেশ দেখা গেছে, সেদিনও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
মাঠের এক পাশে ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া।
তার সঙ্গে ছিলেন তিন বিশেষ অতিথি—২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মার্কোস আকুনিয়া, মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের সহযোদ্ধা এজেকিয়েল লাভেজ্জি এবং মেসির বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামির কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেস।
সূর্য তখন ধীরে ধীরে এজেইজার আকাশে অস্ত যাচ্ছিল। সেই সূর্যাস্তের আলোতেই জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ অনুশীলন শেষ হয়।
মঙ্গলবার মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা। কোটি ভক্তের কাছে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি একটি যুগের বিদায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









