লালমনিরহাটে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় দুই আসামিকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পৃথক আদালতে ঘোষিত রায়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অপর হত্যা মামলায় মো. দুলাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো. হায়দার আলী স্ত্রী মিতু আক্তার হত্যা মামলায় আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আতিকুল সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী মিতু আক্তারের সঙ্গে আতিকুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মিতুকে ঘুষি, কিল-ঘুষি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করেন। এতে মিতুর মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আতিকুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। আসামি চাইলে রায়ের সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।
অন্যদিকে, লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম পাটগ্রামের বুড়িমারী মোগলীবাড়ী এলাকার মো. দুলাল হোসেনকে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এটি দুলালের প্রথম অপরাধ এবং তিনি অনুতপ্ত। তার বয়স, পারিবারিক ও আর্থসামাজিক অবস্থা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি ও সাময়িক উত্তেজনার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুল আলম মিলন বলেন, দুই মামলার রায়েই রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের দণ্ড দিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









