ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ইতিহাস গড়েছেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তার দখলে। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের আশাও কিছুটা টিকে রয়েছে।
হাসানের টেস্ট ক্যারিয়ার মাত্র ১৯ ম্যাচের। এর মধ্যেই গড়েছেন এই কীর্তি। বাংলাদেশের হয়ে তার চেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন অন্তত ২৫ জন ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে পেসার ছিলেন পাঁচজন। এই পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮টি টেস্ট খেলেছেন শাহাদাত হোসেন। তার দখলে ছিল সর্বোচ্চ চারটি ফাইফারের রেকর্ড। শাহাদাতের প্রায় অর্ধেক ম্যাচ খেলেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন হাসান।
ম্যাচের প্রথম দিনে দুটি উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। তবে দ্বিতীয় দিনের সকালে দেখিয়েছেন নিজের আসল ঝলক। আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করে দিনের শুরু করেন তিনি। পরের বলেই রস্টন চেজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। এরপর জশুয়া বিশপকে আউট করার সুযোগ তৈরি হলেও ডিআরএসের কারণে হ্যাটট্রিক হয়নি।
তবে পরে সেই বিশপকেই লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ের সহায়তায় ফিরিয়ে দেন হাসান। আর তাতেই বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফাইফার নেওয়ার রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।
এরপরও থামেননি এই ডানহাতি পেসার। শামার জোসেফকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন।
এই ছয় উইকেটের সুবাদে আরেকটি রেকর্ডও গড়েছেন হাসান। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ছয় বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে ম্যাচের প্রথম ইনিংসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হাসান। তিনি বলেন, ‘‘সিলেটে সবসময় সিম মুভমেন্ট থাকে। বেশিরভাগ সময় উইকেট ফাস্ট বোলারদের পক্ষেই থাকে। তবে ১-২ ঘণ্টা পর উইকেট সম্ভবত খুবই ফ্ল্যাট হয়ে গিয়েছিল। মানে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ফাস্ট বোলাররা চেষ্টা করেছি লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বল করার।’’
নাথান লায়নের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন ডানহাতি এই পেসার। নিজের ফাইফার নিয়ে হাসান বলেন, ‘‘টেস্ট ক্রিকেটে সবগুলো ফাইফারই স্পেশাল। সব জায়গায় চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দেওয়ার এবং দলে অবদান রাখার।’’
লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিং নিয়েও কথা বলেন হাসান। তিনি জানান, ওই সময় ব্যাটার কিছুটা এগিয়ে এসে খেলছিলেন। এ বিষয়ে লিটন ও শান্ত তাকে ওপরের দিকে কিপিং করার পরিকল্পনার কথা জানান।
হাসান বলেন, ‘‘দাদা ও শান্ত ভাই বলছিল, হাসান, যদি ওপরে কিপিং করি হয়ত ফিট মুভমেন্ট করবে না বা শটস খেলা কমে যাবে। আমি বললাম, দাদা আপনি যদি কমফোর্টেবল থাকেন অবশ্যই আপনার প্ল্যানে যাব। পরে উনি গিয়েছিলেন এবং ভালো প্ল্যান এক্সিকিউশন হয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









