ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে গত ৩ আগস্ট ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
কিন্তু বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক সৌজন্য ও ভদ্রতাকে তুচ্ছ করে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে দিল্লি। ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশটির সাথে তাদের সাধারণ সর্ম্পককেও অনেকটাই ‘অস্বীকার’করে শেখ হাসিনাকে এমন সময় সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ করে দিয়েছে, যখন বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ঐতিহাসিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উদযাপন করছিলেন।
দিল্লির এমন কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ করে দেওয়ায় যেন বারুদে অগ্নিস্পর্শ লেগেছে। যে কারণে কঠিন প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। অতি কঠোর ভাষায় চিঠি দিয়ে ঢাকা জানিয়ে দিয়েছে ‘দিল্লি বহুদূর’, অর্থাৎ দিল্লির কোনো মতলব, কিংবা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি অতীব দুরুহ। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ভারতের এমন আচরণকে রীতিমতো দিল্লির দ্বিচারিতা বলেও মনে করছেন কূটনীতি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সব ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে বুধবার দিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’নামক সাংবাদিকদের একটি সংগঠনের ব্যানারে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অথচ ২০১৮ সালের মার্চ মাসে উক্ত এফসিসি যখন এমন একটি সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিল সেদিন অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করে ভারত সরকার। যার কারণে অনেক আগে নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও বেগম জিয়ার সম্মানে সেই সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা যায়নি।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টুলি মিলনায়তনে শেখ হাসিনার পতনের দুই বছর পূর্তিতে তাঁকে এই সুযোগটি করে দিয়েছে এফসিসি, কিন্তু সেটা যে রাষ্ট্রীয় মদতে ছিল তা স্পষ্ট। কারণ, এর আগে গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতেও শেখ হাসিনার প্রসঙ্গটি তোলে বাংলাদেশ। তখন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড যে অস্বস্তি কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ‘নতুন শুরুর’পথে বাধা, সেটা ওই দিন জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি। পরে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও একই ধরনের বলেছিলেন। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের সেই কথা শোনেনি। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
এদিকে ভারতকে আগে থেকেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই গণমুখী অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা খেদ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক চরম অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি এক গুরুতর অসম্মান।"
এই বিবৃতিকে অনেক বিশ্লেষক নতুন সরকারের প্রথম বড় কূটনৈতিক বার্তাগুলোর একটি হিসেবে দেখবেন। এর মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতকে জানিয়ে দিল—বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়; তবে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে প্রকাশ্য ও কঠোর অবস্থান নিতেও প্রস্তুত। তবে এই অবস্থান ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাবে, সেটি নির্ভর করবে দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও আলোচনার ওপর।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক-ডাচেসের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজের (বিডস) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান হোসাইন আনসারী দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘‘ভারত একজন অভিযুক্ত আসামি ও একজন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে এবং তার অনেক সমর্থকদের অনেককেই কথা বলা সুযোগ করে দিয়ে যে দ্বিচারিতার নজির সৃষ্টি করেছে, বাংলাদেশ যে এটা খুব ভালোভাবে নেয়নি তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে খুবই তীব্রভাবে ফুটে উঠেছে। এই বিবৃতিতে এমন কিছু শব্দ এসেছে যে বাংলাদেশ কোনো করদ রাজ্য নয় এবং শেখ হাসিনা যে কথা বলেছেন সেটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আঘাত বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। দিল্লি শেখ হাসিনাকে যে প্রেস ব্রিফিং করার সুযোগ করে দিয়েছে এতে আমরা মনে করেছিলাম ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে বাংলাদেশ তার উদ্বেগের কথা জানাবে। কিন্তু বাংলাদেশ যেভাবে একটু শক্তভাবে বিষয়টিকে সারা দুনিয়ার মানুষদের জানানোর জন্য এ বিবৃতি দিয়েছে, এই বিবৃতির ভাষা, এটি দেওয়া একটি সুদরপ্রসারী ঘটনা। বিশেষ করে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে, যা নিয়ে সারা দুনিয়ার কূটনৈতিক জগৎ নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করবে।
পশ্চিমে বাংলাদেশের যেসব বন্ধুরাষ্ট্রগুলো রয়েছে তারাও বাংলাদেশকে নিয়ে কী হচ্ছে তা অনুধাবন করার চেষ্টা করবে।
ড. আনসারী বলেন, ‘এখানে ভারত ডাবল গেইম প্লে করেছে। তারা একদিকে দেখাতে চায় বিএনপির সরকারের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে চায়। আবার অন্যদিকে দরকষাকষির ক্ষেত্রে তারা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায়। এই ডাবল গেম ভারত গোপনে নয় প্রকাশ্যেই করে যাচ্ছে। এ বিষয়টিও বাংলাদেশ খুব ভালোভাবে নেয়নি। তাই বাংলাদেশ একটি সময়োপযোগী বিবৃতি দিয়েছে। এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণঅভ্যুত্থানের যে স্পিরিট, সেই চেতনার সাথে প্রাসঙ্গিক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এর একটি সূদুরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে এবং থাকবে বলেও মনে করি।’
গত বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।’
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যাত্রার প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল। এর পরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করাটা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তাঁর অপরাধের সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের ঘৃণ্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে যে আমাদের দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তাঁর মাফিয়া চক্রের আর কখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থান হবে না।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক, উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ বারবার অনুরোধ করলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর বিপরীতে, যেকোনো অজুহাতে তাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কি আসলে বাংলাদেশের মানুষের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক করতে চায় নাকি শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক রাখতে বেশি আগ্রহী? যদি তাই না হয় তাহলে মোদি সরকার যদি শেখ হাসিনাকে নিয়ে তাদের অবস্থান না বদলায় এবং কুটনৈতিক দ্বিচারিতা পরিহার না করে, সেক্ষেত্রে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্জনই হয়তো বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিটি কেবল একটি প্রতিবাদপত্র নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিবৃতির ভাষা লক্ষ্ করলে দেখা যায়, শেখ হাসিনাকে উল্লেখ করতে একসঙ্গে "পলাতক", "দণ্ডিত" ও "গণহত্যাকারী"—এই তিনটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কূটনৈতিক ভাষায় এমন কঠোর শব্দচয়ন খুবই বিরল। একই সঙ্গে ভারতের ভূমিকার সমালোচনায় "বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা", "ক্লায়েন্ট স্টেট হবে না" এবং "জুলাই বিপ্লব"—এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ঢাকা একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে। এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয়, "জুলাই" প্রসঙ্গে সরকারি বিবৃতিতে "বিপ্লব" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন দল ভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করে এসেছে, তবু রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই শব্দচয়ন সরকারের অবস্থান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
আরো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশ কখনো "বশ্যতা স্বীকারকারী রাষ্ট্র" হবে না। দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে এমন ভাষা ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটিকে একটি দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা যেতে পারে।
একই সঙ্গে, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধে ভারতের সাড়া না দেওয়ার বিষয়টিও আবার সামনে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, সরকার শুধু রাজনৈতিক আপত্তিই জানায়নি; দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নও নতুন করে তুলেছে।
সূত্র জানায়, তখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বাংলাদেশে আসতে চাওয়া (আওয়ামী লীগ সরকারের বাধার কারণে বেগম জিয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেননি) যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত আইনজীবী লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলের জন্য এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল এই এফসিসি। বেগম জিয়ার জিয়া অরফানেজ মামলায় আইনি পরামর্শক হিসেবে এদেশে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এই আইনজীবীকে সে সুযোগ দেয়নি। শুধু তা-ই নয়, একই বছরের জুলাইয়ে ভারতীয় ভিসা নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে কার্লাইলককে তার ভিসা বাতিল করে লন্ডনের টিকেট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কার্লাইলের উদ্দেশ্য ছিল যেহেতু তার আগে থেকে ভারতীয় ভিসা ছিল, সেহেতু ভারতে বসে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বেগম জিয়ার কারাবন্দি, তার আইনি নানা বিষয় তুলে ধরবেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক সংস্থা এফসিসি হলেও সেদিন ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে তা বাতিল করে ভারত সরকার। যার কারণে অনেক আগে নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার সম্মানে সেই সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা যায়নি। খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শককেও ভারতে ঢুকতে দেয়নি মোদি সরকার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









