প্রিন্সেস ডায়ানাকে নিয়ে লেখা নিজের নতুন বইয়ে পিয়ার্স মরগান সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্ল স্পেন্সার। তিনি বলেছেন, মরগানকে নিয়ে তার করা একটি অনুমান সঠিক ছিল না। এ ভুলের জন্য মরগানের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডায়ানার ভাই স্পেন্সারের নতুন বই ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি ডায়ানার ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু ছবি প্রকাশের সঙ্গে মরগানের সম্পৃক্ততা ছিল।
ছবিগুলো গোপনে স্থাপন করা ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছিল বলে বইয়ে উল্লেখ করেন স্পেন্সার। ছবিতে জিমে শরীরচর্চার সময় ডায়ানাকে দেখা যায়।
মরগান এই দাবি অস্বীকার করেছেন। সোমবার নিজের ইউটিউব অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ছবিগুলো ‘সানডে মিরর’-এ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ৭ নভেম্বর। অথচ তিনি ডেইলি মিররের সম্পাদক হন এর প্রায় দুই বছর পর, ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে। ছবিগুলো প্রকাশের সময় তিনি ডেইলি মিররে ছিলেনও না; কাজ করছিলেন পত্রিকাটির প্রতিদ্বন্দ্বী ‘দ্য সান’-এ।
এরপর মঙ্গলবার স্পেন্সার একটি বিবৃতি দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ডায়ানার শেষকৃত্যে মরগানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে স্পেন্সার ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেই কথোপকথন সম্পর্কে স্পেন্সারের বর্ণনা সঠিক। তবে মরগানের প্রতিক্রিয়ার কারণ হিসেবে তিনি যে অনুমান করেছিলেন, সেটিই ভুল ছিল।
স্পেন্সারের বক্তব্য অনুযায়ী, মরগান বিরক্ত ও রূঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এরপর বইয়ে তিনি লিখেছিলেন, মরগানের এমন প্রতিক্রিয়ার কারণ সম্ভবত তিনি ডেইলি মিররের সম্পাদক ছিলেন এবং মিরর গ্রুপ ডায়ানার জিমের ছবি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মরগান তাকে মনে করিয়ে দেন, ছবিগুলো প্রকাশের সময় তিনি ডেইলি মিররের সম্পাদক ছিলেন না।
স্পেন্সার তার বিবৃতিতে বলেন, একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে তার কাছে তথ্যের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি স্পষ্ট করতে চান, ওই অনুমান সঠিক ছিল না। এ ভুলের জন্য মরগানের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

আইনি পদক্ষেপের হুমকি
ক্ষমা চাইলেও মরগান আইনি পদক্ষেপের হুমকি থেকে সরে আসেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, নিজের নতুন বইয়ে প্রকাশিত মানহানিকর মিথ্যার জন্য স্পেন্সার তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তিনি স্পেন্সার ও বইটির প্রকাশক পেঙ্গুইনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাবেন।
মরগানের দাবি, বই থেকে ওই বক্তব্য সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তিনি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ক্ষতিপূরণের অর্থ কিংস ট্রাস্টকে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বই ঘিরে আরও বিতর্ক
স্পেন্সারের বইয়ে ডায়ানার মৃত্যুর পর রাজা চার্লসের একটি মন্তব্যের দাবিও রয়েছে। বই অনুযায়ী, ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লস বলেছিলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব।’ এই দাবি নিয়েও স্পেন্সার ও বাকিংহাম প্যালেসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তৈরি হয়েছে।
মরগান তার ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সর্ড’-এ বলেন, বইটির সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলো প্রকাশের পর রাজপরিবারের অনেক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এসব তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজা নিজেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মরগানের বক্তব্যের কেন্দ্র ছিল তার নিজের বিষয়ে করা দাবিটি।
তিনি বলেন, স্পেন্সারের বইয়ে তাকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যিনি ডায়ানার শেষকৃত্যে আমন্ত্রণ বাতিল করার ঘটনায় বিরক্ত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। মরগান জানান, স্পেন্সার শেষকৃত্যে আমন্ত্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন এবং তাদের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছিলেন। তিনি নিজেও সেই তালিকায় ছিলেন বলে দাবি করেন।
মরগান বই থেকে এমন একটি অংশও পড়ে শোনান, যেখানে বলা হয়েছে, সম্পাদক বিরক্তি প্রকাশ করে ফোন রেখে দিয়েছিলেন। এরপর ডায়ানার জিমের ছবি প্রকাশের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে করা দাবিটির কথা তুলে ধরেন তিনি।
‘তথ্য খুব সহজেই প্রমাণ করা যায়’
মরগানের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের একটি মৌলিক তথ্যই ভুল। তিনি বলেন, ডায়ানার জিমের ছবিগুলো ১৯৯৩ সালের ৭ নভেম্বর সানডে মিররে প্রকাশিত হয়। তিনি ডেইলি মিররের সম্পাদক হন ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে।
ছবিগুলো প্রকাশের সময় তিনি ডেইলি মিররের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও জানান মরগান। তখন তিনি দ্য সানে বিনোদনবিষয়ক একটি কলাম লিখতেন।
মরগান ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ডেইলি মিররের সম্পাদক ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ডায়ানার মৃত্যুর সময় স্পেন্সারের সঙ্গে তার দূরত্ব ছিল এবং তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে ডেইলি মিররের সম্পাদক হিসেবে মরগানের ডায়ানার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল। একবার কেনসিংটন প্যালেসে প্রিন্স উইলিয়ামকে সঙ্গে নিয়ে ডায়ানার সঙ্গে তার মধ্যাহ্নভোজও হয়েছিল বলে জানান তিনি।
মরগানের দাবি, এরপর ডায়ানা তার কার্যালয়ে ফোন করতেন এবং তিনি তার সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়েও কথা বলতেন।
এ অবস্থায় মরগান প্রশ্ন তোলেন—স্পেন্সার যদি তার সম্পর্কে এত মৌলিক একটি বিষয়ে ভুল করতে পারেন, তাহলে বইটির অন্য দাবিগুলো কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
শেষ পর্যন্ত তিনি স্পেন্সার ও তার প্রকাশককে সতর্ক করে বলেন, তার আইনজীবীদের কাছ থেকে তারা খবর পাবেন।
বইয়ের বাজারেও নীরবতা
স্পেন্সারের স্মৃতিকথা প্রকাশের দিন লন্ডনের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে খুব বেশি সাড়া দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৮ পাউন্ড দামের বইটি কিছু দোকানে অর্ধেক দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় ওয়াটারস্টোনস শাখা পিকাডিলি স্টোরে লাল ‘অর্ধেক দাম’ স্টিকার লাগানো বইয়ের কয়েক ডজন কপি সাজানো ছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









