নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সাফাই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে তিনি পরমাণু অস্ত্র ঠেকানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সমঝোতায় না এলে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রয়োজন ছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে সংঘাত শেষ করতে একটি চুক্তির পথ এখনো খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে আসতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলোকেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান সামনে এলো এমন এক সময়ে, যখন সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে বন্দর অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত।
ভেনেজুয়েলায় অভিযানেরও ব্যাখ্যা
ভেনেজুয়েলা নিয়েও ট্রাম্প তার প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে গেছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে পশ্চিম গোলার্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুক্তির কথাও সামনে এসেছে। চুক্তিটি নিয়ে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমানো এবং রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
তবে এসব পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ—দুই ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের নীতির বৈধতা ও পরিণতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষণের প্রেক্ষাপটও ছিল এমন একটি সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েকটি মিত্র দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
ইরানের প্রতিনিধিদল ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংঘাতের মধ্যেই বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণে তাই শান্তির সম্ভাবনার কথা যেমন এসেছে, তেমনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য সমঝোতার দরজা খোলা রাখার কথা বললেও তার বক্তব্যে ছিল নতুন সংঘাতের হুমকিও। ফলে জাতিসংঘের মঞ্চে তার ভাষণ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির একটি সরাসরি ব্যাখ্যাও হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









