বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং দপ্তর রদবদল হয়েছে। মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণের পর প্রশাসনের কাঠামোগত মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে বৃহৎ মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টার বহর গঠনকে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী কাজ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা।
অন্যদিকে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রাধান্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বণ্টন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্বপদে বহাল রাখার বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশাকে ম্লান করেছে বলে মত দিয়েছেন তারা। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
এমতাবস্থায় মন্ত্রিসভায় আবারও রদবদল কিংবা বাদপড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এতেই বিতর্কিত এবং কম গতির একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার আতঙ্কে রয়েছে। সচিবালয়সহ রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এখন একটাই- কে বাদ পড়ছেন মন্ত্রিসভা থেকে। কার দপ্তর বদল হচ্ছে।
এদিকে মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত ও দপ্তর রদবদল করলেও সরকার কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন দেখছেন না রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্ববর্তী সরকারগুলোর পরিচিত পথেই হাঁটছেন। ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রী নির্বাচন, দপ্তর বণ্টন, ক্ষমতার একক কেন্দ্রিকতা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত কোনো নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয় না বলে তারা উল্লেখ করেন।
সূত্রমতে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ২৬ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হওয়ার পর আহমদ আজম খানকে মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় এর গঠনে পরিবর্তন আসে। গত জুনে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার মন্ত্রী পদটি খালি হয়।
শুক্রবার চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হওয়ার পর বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে, যা ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্বহালের পর তৃতীয় বৃহত্তম। জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা নিযুক্ত হওয়ার পর মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ ৬১ সদস্যের মন্ত্রিসভা ছিল। অন্যদিকে, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ছিল ৬০।
গত শুক্রবার মন্ত্রিসভায় চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার পরিধি আরো বিস্তৃত হয়। অথচ এই রদবদলের মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে এত বড় মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বর্ধিত মন্ত্রিসভা এবং উপদেষ্টাদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নির্বাচনের আগে দেওয়া সরকারি ব্যয় কমানোর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।
পাশাপাশি কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কারের অভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা যায়নি, ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল ক্ষমতা আগের মতো একক ব্যক্তির হাতেই রয়ে গেছে। যোগ্যতা নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ-কোনটিকে প্রাধান্য দিয়ে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্ক এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন মন্ত্রী স্বপদে বহাল থাকায় ছয় মাসের এই পর্যালোচনা পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে করা হয়েছে, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্য ও দলীয় হিসাব-নিকাশের ওপর, সে প্রশ্ন উঠেছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে এত বড় মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ব্যয় কমানোর কথা বলেছিলেন, কিন্তু এত বড় মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন। গত ছয় মাসে নতুন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দেশ আবারও পুরনো পথেই হাঁটছে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বজায় রাখা একটি স্ববিরোধী পদক্ষেপ, যোগ করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দলীয় প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার দলীয়করণ শুরু করেছে। মন্ত্রিসভা থেকেই এই প্রবণতা দৃশ্যমান, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি, সরকার সংস্কারের পথে ফিরে আসবে, অন্যথায় এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বিএনপির সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে মূলত দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বস্ত করতে, যারা মন্ত্রিসভায় নবীনদের আধিপত্যে নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছিলেন। আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আর তথ্যমন্ত্রীর পদ থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর পদ থেকে স্বপনের সরে যাওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেক সাংবাদিক তাকে একজন ভদ্র ও গণমাধ্যমবান্ধব মন্ত্রী হিসেবে প্রশংসা করেছেন। রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী পদে উন্নীত হয়েছেন।
অন্যদিকে আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর ওই অঞ্চলে অসন্তোষ বাড়লে বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়। শামীম কায়সারকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ব্যস্ত থাকলেও তিনি ভার্চ্যুয়ালি তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মীর শাহে আলম বগুড়ায় স্বজনদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ, বেশি উন্নয়ন বরাদ্দ নেওয়া ও ছেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে ব্যর্থতার জন্য ইকবাল হাসান মাহমুদ সমালোচিত হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির শাসনামলেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় তার কর্মক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে তুলনামূলক কম কাজের পরিধির মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাও দায়িত্ব পালন করছেন। আবার কোনো কোনো মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এমনকি কেউ কেউ একাই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একই সঙ্গে কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকলেও উপদেষ্টা নেই, আবার কোথাও মন্ত্রী একাই দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনের এই চিত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণত কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী থাকার উদাহরণ থাকলেও একই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকার ঘটনা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে একাধারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষ সহকারী আছেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় তিনি একাই সামলাচ্ছেন। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)। প্রথমে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও গত মার্চে তাঁর মতো আটজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানো হয়েছিল। তবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জাহেদ উর রহমান। জাহেদ উর সংস্কৃতি ছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি–বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। নতুন তথ্যমন্ত্রী হয়েছেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। এখানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন মাহদী আমিন। মাহদী আমিন প্রবাসী ছাড়াও শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। আর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন।
অন্যদিকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রথম দিকে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে দায়িত্ব কমানো হয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন মাহদী আমিন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। এই মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন মো. সাইমুম পারভেজ। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এ ছাড়া এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে আছেন এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মীর শাহে আলম। স্বরাষ্ট্রের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা নেই। শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য—এই তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রতিমন্ত্রী নেই। শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য—এই তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রতিমন্ত্রী নেই। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. রুহুল কবির রিজভী। আর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মো. শরীফুল আলম।
শেখ রবিউল আলম একাই সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন—এই তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবুর রশীদ। আর নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মো. রাজিব আহসান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নেই। আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (এ জেড এম জাহিদ হোসেন) সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাজকল্যাণে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। এই দুই মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নেই। এত দিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। শুক্রবার গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন) এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই মন্ত্রণালয়ে কোনো উপদেষ্টা নেই। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। মীর মোহাম্মদ হেলাল পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হয়েছেন সাচিং প্রু জেরী।
এত দিন আফরোজা খানম ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আর প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং উপদেষ্টা ছিলেন হুমায়ুন কবির। এখন আফরোজা খানমকে বিমান থেকে সরিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। হুমায়ুন কবির হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আর রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পদোন্নতি দিয়ে বিমানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি এখন একাই সামলাবেন এই মন্ত্রণালয়। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আসাদুল হাবিব দুলু এবং প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। এত দিন নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান একাই মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—এই দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন ফকির মাহবুব আনাম। এই দুই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন রেহান আসিফ আসাদ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মো. আব্দুল বারী। আর এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
দুই প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খলিলুর রহমান। এত দিন এই মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন হুমায়ুন কবির। শুক্রবার তাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে শামা ওবায়েদ ইসলামও বহাল আছেন। অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী। উপদেষ্টা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ায় এখন আর পররাষ্ট্রে উপদেষ্টা নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









