গত ১৬ আগস্ট দৈনিক এদিনে ‘গ্যাস-বিদ্যুতের ডামাডোলে সারে সর্বনাশ’ শিরোনামে প্রতিবেদন করার আটদিনের মাথায় গুদাম ভেঙে সার লুটের ঘটনা ঘটল। সার সংকটে ক্ষুব্ধ কৃষকরা গতকাল রবিবার কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) নিয়ে গেছেন।
দেশজুড়ে গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকটে জনজীবন যখন চরমভাবে বিপর্যস্ত, তীব্র সার সংকটে ফসল আবাদ করতে না পেরে দিশাহারা কৃষকেরা লুটপাটে নেমে পড়েছেন। পরে অবশ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিলেও বাকি সার এখনো উদ্ধার হয়নি। সারের সংকটের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়ে পুলিশ ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় বলছে, বাকি ১৬৪ বস্তা সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ‘শাহ আমানত ট্রেডার্সের’ গুদামে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার সরবরাহে তিলাই ইউনিয়নের ওই ডিলারের নামে এক হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ডিলার ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কিন্তু স্থানীয় কৃষকেরা কয়েকবার গুদামে গিয়েও সার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এক জোট হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান তারা। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশ কৃষকদের সার ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দেন। সেখানে কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েও তাঁরা সার পাননি। ডিলারের গুদামে সার না থাকলেও খোলাবাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। পরে জোটবদ্ধ হয়ে গুদাম থেকে সার নিয়ে যান তাঁরা।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা। বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে ডিলারের সার উত্তোলনও কম ছিল। ফলে সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কৃষকেরা ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় লোকদের সহায়তায় অনেকগুলো সারের বস্তা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। অন্যগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, ওই ডিলারের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা সার কৃষকেরা গুদাম থেকে নিয়ে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় লোকদের সহায়তায় অনেকগুলো সারের বস্তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









