পরিসংখ্যানের খাতায় মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার স্বস্তি মিললেও তা কেবলই সংখ্যার মারপ্যাঁচ—বাস্তব বাজারের সঙ্গে যার ফারাক আকাশ-পাতাল। বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, দেশের বাজারে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দরে পকেট কাটছে সাধারণ মানুষের। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের ঘূর্ণাবর্তে পিষ্ট সীমিত আয়ের মানুষের আয় বাড়ার হার আটকে আছে ৮ শতাংশের ঘরেই। অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় হু-হু করে চড়ে বসায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবন এখন একপ্রকার মানবেতর। পরিসংখ্যানের নিম্নমুখী গ্রাফ আর বাজারের ঊর্ধ্বমুখী উত্তাপের এই চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে ত্রাহি অবস্থা সাধারণ ভোক্তার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও সাধারণ মানুষের বাজারের বাস্তব অভিজ্ঞতায় কোনো স্বস্তি নেই। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের নানা দুর্বলতা সাধারণ মানুষের জীবনমান ও পুষ্টির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের দুর্বলতা (সরবরাহ ঘাটতি, অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী, মজুতদারি, দুর্বল তদারকি ইত্যাদি) পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজারে স্বস্তি ফেরাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, খাদ্যের সরবরাহ ও মজুতদারি কঠোরভাবে নজরদারি করা, শুল্ক যৌক্তিক করা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা কর্মসূচি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন দৈনিক এদিনকে বলেন, মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হওয়াকে এখনই প্রকৃত স্বস্তির লক্ষণ বলা যাবে না। এটি মূলত মূল্যবৃদ্ধির গতি সামান্য কমার ইঙ্গিত, পণ্যের দাম কমেছে এমন নয়। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষয় হচ্ছে। কয়েক মাস ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি কমার পরই কেবল স্থায়ী উন্নতির বিষয়ে বলা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় দেশে পণ্যের দাম বেশি বাড়ার পেছনে আমদানি ব্যয়ের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের দুর্বলতাও দায়ী। সরবরাহ ঘাটতি, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়, মজুতদারি, অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী, সীমিত প্রতিযোগিতা ও দুর্বল তদারকি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে চিনিগুঁড়া চালের মতো পণ্যে মৌসুমি চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটাতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম সামান্য বাড়লেও দেশে খুচরা মূল্য অনেক বেশি বাড়ার ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলার ব্যয়, জ্বালানি, পরিবহন, শুল্ক ও মিলিং খরচের পাশাপাশি আমদানি কেন্দ্রীভবন, মজুত, সরবরাহ বিলম্ব ও দুর্বল প্রতিযোগিতার প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে থাকায় শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় আবারও কমেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যবধান আপাতদৃষ্টিতে ০ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট হলেও দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঞ্চিত প্রভাব অনেক বড়। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙছে এবং ঋণ নিচ্ছে। এর ফলে পুষ্টি ও জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা দুর্বল হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের সরবরাহ ও অবৈধ মজুদে নজরদারি বাড়ানো, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক যৌক্তিক করা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা আরো সম্প্রসারণ করা জরুরি।
বর্তমানে বাজারের কিছু পণ্যের দাম অত্যন্ত চড়া। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতিতে। তবে সরকারি হিসাবে অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় না বলে উল্লেখ করেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির হিসাব মূলত নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বা বিন্দুভিত্তিক তুলনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। নিত্যপণ্যের দাম পরিবর্তনের বিষয়গুলো মাথায় রেখেই মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করা হয়। তবে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমতির দিকে দেখানো হলেও বাজারে এখনো মূল্যস্তর অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ে রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য মোটেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। তার মতে, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে বলা হলেও বাজারের প্রকৃত পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাধারণ মানুষ এখনো চাপেই আছেন। পরিস্থিতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।
জানা গেছে, দুই মাস ধরে গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। এর প্রভাবে শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই বাড়তি। এমন পরিস্থিতিতে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায় গত মাসেও দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ২০২৬ সালের আগস্টে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
অপরদিকে চলতি বছর বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম চড়া। মূল্যবৃদ্ধির হার ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বেশি এখন। জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় আগস্টে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে বাংলাদেশে। যদিও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের খুচরা দামের মধ্যে আমদানি মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, পরিশোধন, পরিবহন, শুল্ক-কর ও ব্যবসায়িক ব্যয়সহ একাধিক উপাদানের ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, টানা কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কমলেও সে তুলনায় মজুরির হার বাড়ছে না। দুই বছর ধরে এ হার ৮ শতাংশের ঘরে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কষ্টে জীবনযাপন করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে দুর্ভোগ বাড়ে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের। কারণ নিত্যপণ্যের দামের অনুপাতে বাড়ে না আয়। তাই সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমলেও বাজারে এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। ফলে পরিসংখ্যানের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি নেই।
বিবিএসের তথ্যমতে, জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। গত বছরের আগস্টে এটি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে যা ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য খাতে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার। আগস্টে এ খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।
বিবিএস জানিয়েছে, অঞ্চলভেদে আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময়ে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এদিকে এফএও প্রকাশিত আগস্টের খাদ্যমূল্য সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক দাম জুলাইয়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে আগস্টে, যা এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। সূচকে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, মাংস, দুগ্ধপণ্য ও চিনিসহ পাঁচটি প্রধান পণ্যগোষ্ঠীর সব কটির দামই আগস্টে বেড়েছে। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে বেড়েছে তার চেয়ে বেশি দামে দেশের বাজারে এসব পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে। যেমন, দেশে পোলাওর চাল বা চিনিগুঁড়া চালের দাম দুই থেকে তিন মাসে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গড়ে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ। কিন্তু এফএও-এর সূচকে আন্তর্জাতিকভাবে চালের দাম মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার কথা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিআরআরআই-৩৪ ধানের দাম গত এক মাসে ১৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ একই চালপণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের বাজারদরের পরিবর্তনের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। প্রায় একইরকম চিত্র ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্যসূচকে আন্তর্জাতিক বাজারে জুলাইয়ের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ দাম বাড়ার তথ্য দিয়েছে। পাম ও সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধিই মূলত এর কারণ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব, শক্তিশালী বৈশ্বিক আমদানি চাহিদা এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে বলে জাতিসংঘের খাদ্য সূচকে উল্লেখ করা হয়। এর প্রভাব বাংলাদেশেও দেখা গেছে। সম্প্রতি সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করেছে। ব্যবসায়ীরা আরো বেশি বাড়ানোর দাবি করলেও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
শেষ পর্যন্ত সরকার ৫ টাকা বাড়িয়েছে। তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের সূচক এক মাসে ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, আর বাংলাদেশে বোতলজাত সয়াবিনের সরকারি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য একবারে ৫ টাকা বা প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির হারের তুলনায় বাংলাদেশের নির্ধারিত খুচরা মূল্যবৃদ্ধি বেশি।
এফএওর তথ্যমতে, গমের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম গত এক মাসে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের তুলনায় গমের এই দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি-লজিস্টিকসের সমস্যা, ইউরোপের প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগের কারণে গমের এ দাম ঊর্ধ্বগতি বলে এফএও তাদের তথ্যে উল্লেখ করেছে। কিন্তু দেশের বাজারে গত জুন থেকে জুলাইয়ে প্রতি কেজি আটা ৬০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৬৫ টাকা হয়েছে। অর্থ্যাৎ আটার দাম বেড়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে প্রতি কেজি ময়দার দাম ৭০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে ময়দার দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
এফএওর সূচকে বিশ্ববাজারে সব ধরনের মাংসের দাম জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ১ শতাংশ বাড়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে সব ধরনের মাংসের দাম একভাবে বাড়েনি। পোলট্রি, শূকর ও ভেড়ার মাংসের আন্তর্জাতিক দাম বেড়েছে; বিপরীতে গরুর মাংসের আন্তর্জাতিক দাম কমেছে। তবে সেই সূচকের সঙ্গে বাংলাদেশে মাংসের বাজার অনেক বেড়েছে। গত জুন থেকে জুলাইয়ে প্রতি কেজি পোলট্রি মুরগির দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দামে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ গড় দামের হিসাবে পোলট্রি মুরগির দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে কয়েক মাস আগে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা হয়েছে। গড় দামের হিসাবে এ সময়ে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ১ শতাংশ।
এদিকে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ছিল শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি হারে বাড়ছে। খাতভেদে আগস্টে কৃষিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, শিল্পে ৭ দশমিক ৯৭ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।
জানা গেছে, প্রতিমাসে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ১৫৪টি নিত্যপণ্যের হাট-বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং। পরে নির্ধারিত দরছকের মাধ্যমে প্রায় ৬৩ ধরনের মজুরি সংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ যাচাই করে মজুরি হার সূচক এবং শতকরা হার প্রণয়ন করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









